৫ প্রস্তাব নিয়ে সমালোচনা-আলোচনা যাই হোক, একটা বিষয় স্পষ্ট, দর্শকেরা খেলাকে আরও উন্নত করতে চান। কেউ দ্রুত খেলা, কেউ বেশি গোল, কেউ অভিনয়হীন পারফরম্যান্সের পক্ষপাতী।

ছবি: গুগল
শেষ আপডেট: 12 November 2025 17:01
দ্য ওয়াল ব্যুরো: খেলার মাঠে যতই রোমাঞ্চ থাক, ফুটবলের নিয়মগুলো নিয়েই এখন সারা বিশ্বে অনুরাগীদের মনে একরাশ বিরক্তি দানা বাঁধছে। রেফারির বাঁশি, অফসাইডের ঝামেলা, ভিএআরের শ্লথতা—কোথাও না কোথাও দর্শকের ধৈর্য ভাঙছে। তাই প্রশ্ন উঠেছে—খেলাটাকে কি নতুন করে ঢেলে সাজানো যায়? শুরু থেকেই লেখা যেতে পারে নিয়মের খাতা?
‘বিবিসি স্পোর্টসে’র এক সমীক্ষায় এই প্রশ্নই ছুড়ে দেওয়া হয়েছিল সাধারণ অনুরাগীদের দিকে। উত্তরে নামল মতামতের ঢল। কেউ চান অফসাইড তুলে দেওয়া হোক, কেউ বলছেন ঘড়ি থামাও, কারও দাবি প্রতারণা আর সময়নষ্টের খেলায় নেমে আসুক কঠোর শাস্তি। হাজারো প্রস্তাবের মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত পাঁচটা বিষয়কে ঘিরেই সরগরম আলোচনা। একমত বিশেষজ্ঞদের বড় অংশ। যাঁদের দৃষ্টিতে, এইসমস্ত নিয়মবদলই নাকি ফুটবলের ভবিষ্যৎ পালটে দিতে পারে!
১. অফসাইডের নতুন সংজ্ঞা চাই!
অফসাইড নিয়ে বিরক্তি পুরনো। ‘দেড় ইঞ্চি নাক’ এগিয়ে থাকলে গোল বাতিল—এমন নিয়ম আজকাল হাসির খোরাক হয়ে উঠেছে। কেউ বলছেন, শরীরের সম্পূর্ণ ‘ডে-লাইট গ্যাপ’থাকলেই অফসাইড ধরা হোক। কারও বক্তব্য, শুধু ১৮ গজের ভেতরেই অফসাইড থাকুক, তাতে মাঠে খেলা ছড়িয়ে যাবে। এমনকি অনেকে তো পুরো অফসাইডই তুলে দিতে চাইছেন—যেমনটা হকি করেছে।
রেফারিরাও নাকি সমব্যথী! বুঝতে পারছেন দর্শকের ক্লান্তি। প্রিমিয়ার লিগের অভিজ্ঞ রেফারি অ্যান্টনি টেলরের কথায়, ‘একটা প্রিজন অফিসার টুর্নামেন্টে অফসাইড ছাড়া খেলিয়েছিলাম… জীবনে এত গোল দেখিনি!’
তবে ফুটবলের বিশ্লেষকরা জানাচ্ছেন, পুরো অফসাইড তুলে দিলে রণকৌশলটাই বদলে যেতে পারে—রক্ষণের জন্য শুরু হবে মাঠজুড়ে ছুটোছুটি। তাই, হয়তো নিয়ম বদল নয়, বরং নিয়মের ব্যাখ্যা স্পষ্ট করাটাই এই মুহূর্তে সবচেয়ে জরুরি।
২. সময় নষ্ট বন্ধ করো!
‘বলে যত খেলা হয়, ততই টাকা দাও’—এই যুক্তি নিয়েই এখন ভক্তদের নতুন তর্ক। বল মাঠে গড়ায় ৯০ মিনিটের মধ্যে গড়ে ৫৫ মিনিট—মানে অর্ধেক সময় নষ্ট হয় গোলকিক, কর্নার বা চোটে। অনেকেই বলছেন, বাস্কেটবলের মতো ‘স্টপ ক্লক’ চালু হোক। বল বাইরে গেলেই সময় থেমে গিয়ে ৬০ মিনিট নিখাদ খেলা হবে।
একটা মতামত বলছে, রাগবি বা বাস্কেটবলের মতো স্বাধীন টাইমকিপার রাখলে রেফারির ওপরও চাপ কমবে। আবার কেউ কেউ জানিয়েছেন, মাঠে স্কোরবোর্ড না থাকলে দর্শক তো বুঝবেই না কত সময় বাকি!
তবু একটা বিষয়ে সবাই একমত—সময় নষ্টের খেলা বন্ধ করতেই হবে, নইলে ফুটবলের গতিময়তাই প্রাণ হারাবে।
৩. প্রতারণা মানেই শাস্তি!
ডাইভ, চিৎকার, মাটিতে গড়িয়ে পড়া—এই অভিনয় এখন যেন খেলার আবশ্যিক অংশ। ভক্তদের ক্ষোভও সেখানেই। কেউ বলছেন, ইচ্ছাকৃত ফাউলের অভিনয়ে ধরা পড়লেই সরাসরি লাল কার্ড ও তিন ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা। কেউ প্রস্তাব দিয়েছেন, বিপক্ষ দলকে সঙ্গে সঙ্গে পেনাল্টি উপহার দেওয়া হোক।
প্রাক্তন ফুটবলারদের বক্তব্য, এতে নাটক কমবে, খেলা পরিষ্কার হবে। অনেকে রেফারির প্রতি অশ্রদ্ধার বিরুদ্ধেও নিয়ম চান—রেফারিকে গালাগালি মানেই লাল কার্ড। তর্ক স্পষ্ট: ফুটবল শুধু খেলার নয়, চরিত্রেরও লড়াই।
৪. হ্যান্ডবল নিয়ে আর নয় গোলমাল!
‘বল টু হ্যান্ড না হ্যান্ড টু বল?’—এমন বিভ্রান্তি আজও দূর হয়নি। প্রতিটি ম্যাচে হ্যান্ডবলে পেনাল্টি হচ্ছে, যার অর্ধেক বিতর্কিত। দর্শকের দাবি, পুরনো নিয়ম ফিরিয়ে আনা হোক—ইচ্ছাকৃত না হলে হ্যান্ডবল নয়। কেউ বলেছেন, দুর্ঘটনাবশত হাত লাগলে পেনাল্টির বদলে দেওয়া হোক ইনডিরেক্ট ফ্রি-কিক।
ইংল্যান্ডের প্রাক্তন স্ট্রাইকার অ্যালান শিয়ারারের ভাষায়, ‘এত শব্দের নিয়ম নয়, একটাই প্রশ্ন—ইচ্ছাকৃত না অনিচ্ছাকৃত?’ সেই সোজা নিয়মই এখন সাধারণ দর্শকের চাওয়া। কারণ, একটুখানি বল হাতে লেগে পুরো ম্যাচের ফল পালটে যাওয়া—খেলার প্রতি মস্ত বড় অন্যায়।
৫. ভিএআরে আসুক ‘চ্যালেঞ্জ সিস্টেম’!
ভিএআরের তর্জনীর সামনে এখন গোলের আনন্দটাও থমকে যায় কয়েক মিনিটের জন্য। খেলোয়াড়, দর্শক, এমনকি ধারাভাষ্যকার—সবার মুখে একই কথা: ‘এটা ফুটবলকে হত্যা করেছে!’ অনেকে প্রস্তাব দিয়েছেন, ক্রিকেট বা টেনিসের মতো ‘ক্যাপ্টেনস চ্যালেঞ্জ’ চালু হোক—প্রতি দলে তিনটি সুযোগ থাকবে রেফারির সিদ্ধান্ত যাচাইয়ের।
অন্যেরা বলছেন, ৯০ সেকেন্ডের মধ্যে সিদ্ধান্ত না এলে সেটা ‘স্পষ্ট ও পরিষ্কার’ ভুল নয়। তাই ওই মুহূর্তেই খেলা চলতে দেওয়া উচিত। কেউ কেউ পুরো ভিএআর-ই তুলে দিতে চান। আবার কেউ রেফারির হাতেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ফেরানোর পক্ষপাতী।
৫ প্রস্তাব নিয়ে সমালোচনা-আলোচনা যাই হোক, একটা বিষয় স্পষ্ট, দর্শকেরা খেলাকে আরও উন্নত করতে চান। কেউ দ্রুত খেলা, কেউ বেশি গোল, কেউ অভিনয়হীন পারফরম্যান্সের পক্ষপাতী।