Date : 14th Apr, 2026 | Call 1800 452 567 | info@thewall.in
মাতৃত্বের দুশ্চিন্তা, ‘ভাল মা’ হওয়ার প্রশ্ন—সদগুরুর পরামর্শে স্বস্তি পেলেন আলিয়ালক্ষ্য ২০২৯ লোকসভা ভোট, তড়িঘড়ি মহিলা সংরক্ষণ কার্যকরে মরিয়া মোদী! বাধা হয়ে দাঁড়াবে কি কংগ্রেস?Gold investment: যুদ্ধের বাজারে সোনার দাম কমছে! এটাই কি বিনিয়োগের সেরা সময়? কী বলছেন বিশেষজ্ঞরারহস্য আর মনের অন্ধকারে ঢুকে পড়ল ‘ফুল পিসি ও এডওয়ার্ড’! টিজারে চমকজিৎ-প্রযোজক দ্বন্দ্বে আটকে মুক্তি! ‘কেউ বলে বিপ্লবী, কেউ বলে ডাকাত’-এর মুক্তি বিশ বাঁও জলে?কিউআর কোড ছড়িয়ে হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ! কীভাবে রাতারাতি নয়ডার বিক্ষোভের প্ল্যানিং হল, কারা দিল উস্কানি?নয়ডা বিক্ষোভ সামাল দিতে 'মাস্টারস্ট্রোক' যোগী সরকারের! শ্রমিকদের বেতন বাড়ল ৩ হাজার টাকা পর্যন্ত Jeet: ভুয়ো প্রচার! ভোট আবহে গায়ে রাজনীতির রঙ লাগতেই সরব জিৎ৪ হাজার থেকে নিমেষে ১ লক্ষ ৮৫ হাজার ফলোয়ার! এক স্পেলেই সোশ্যাল মিডিয়ার নতুন তারকা প্রফুল্লসামনে কাজল শেখ, মমতা কথা শুরু করতেই হাত নেড়ে বিরক্তি প্রকাশ অনুব্রতর! সিউড়িতে কী ঘটল

‘লং বল’-কে ফিরিয়ে আনছে আর্সেনাল-সিটি! পুরনো মদ নতুন বোতলে? নাকি সমস্তটাই ঢেলে সাজানো?

বাস্তব বলছে, পেপ কিংবা আর্তেতার মতো কৌশলী কোচেরা বুঝে গেছেন, কেবল বল দখলের মাধ্যমে ম্যাচ জেতা সম্ভব নয়। দরকার বহুমাত্রিক পরিকল্পনা। কখনও স্লো, কখনও লং, কখনও দ্রুত ফাস্ট ব্রেক—সব মিশে তৈরি হচ্ছে নতুন ককটেল।

‘লং বল’-কে ফিরিয়ে আনছে আর্সেনাল-সিটি! পুরনো মদ নতুন বোতলে? নাকি সমস্তটাই ঢেলে সাজানো?

গোয়ার্দিওলা-আর্তেতা

রূপক মিশ্র

শেষ আপডেট: 21 September 2025 14:42

দ্য ওয়াল ব্যুরো: একসময় ইংলিশ ফুটবলে ‘লং বল’ ছিল ছোট ক্লাবের অন্ধের যষ্টি। প্রিমিয়ার লিগের নিচের সারির দলগুলো বড় কিক হাঁকাত। যত দ্রুত সম্ভব প্রতিপক্ষের অর্ধে ঢোকার এটাই ছিল সহজ ও একমাত্র রাস্তা!

সময়ের সঙ্গে সেই স্ট্র‍্যাটেজি পিছু হটে। তারপর চলে যায় জাদুঘরে। আধুনিক ফুটবল হয়ে ওঠে বল দখল আর ছোট ছোট পাসে খেলার লড়াই। গোয়ার্দিওলার বার্সেলোনা সেই সংস্কৃতিকে নতুন যুগের ধর্ম বানিয়ে ফেলে। দেখাদেখি ছোটবড় অনেক ক্লাব কেউ বুদ্ধিদীপ্ত অনুসরণ, কেউ অক্ষম অনুকরণ করা শুরু করে।

সময় থেমে থাকে না। কখনও কখনও নতুনতর-র খোঁজ প্রাচীন পন্থাকে নয়া আঙ্গিকে সামনে টেনে আনে। চলতি মরশুমে দেখা যাচ্ছে—সেই ‘অপ্রচলিত’কৌশলকে ফের চালু করেছে প্রিমিয়ার লিগের অন্যতম দুই দল আর্সেনাল (Arsenal) আর ম্যানচেস্টার সিটি (Manchester City)।

প্রথম নজরে বিষয়টা বিস্ময়কর। কারণ পেপের দর্শনই তো বল নিয়ন্ত্রণ, শর্ট পাস, গোলকিপারকে কাজে লাগিয়ে মুভ গড়ে তোলা। মিকেল আর্তেতাও (Mikel Arteta) সেই পথেই হাঁটছিলেন এতদিন। কিন্তু এবারের সিজনের পরিসংখ্যান বলছে অন্য কথা। ডেভিড রায়া (David Raya) হোক বা সিটির নতুন সংযোজন জিয়ানলুইজি দোনারুমা (Gianluigi Donnarumma)—দুজনেই নিয়মিত লং বল খেলছেন। গোলকিক থেকে সোজা হাফওয়ে লাইনে বা আরও দূরে বল পৌঁছে যাচ্ছে। সেখানে হাভার্টজ (Kai Havertz), হালান্ড (Erling Haaland), গিওকেরেসের (Viktor Gyokeres) মতো দীর্ঘদেহী, হোল্ড-আপ প্লেয়াররা বল নামিয়ে নিচ্ছেন বা সেকেন্ড বল আদায়ের সুযোগ তৈরি করছেন।

কেন এই হঠাৎ পরিবর্তন? উত্তর লুকিয়ে আরেক ময়দানি বিবর্তনে। গত দশকে হাই প্রেসিং (High Press) হয়ে উঠেছে ইউরোপীয় ফুটবলের মূল মন্ত্র। কোচরা দল সাজাচ্ছেন সুসংগঠিত প্রেস ভাঙার জন্য। তীব্র গতিতে দৌড়তে পারা, শারীরিকভাবে শক্তিশালী খেলোয়াড়ের কদর বেড়েছে। ফলে ছোট পাসে ডিফেন্স থেকে খেলা গড়ে তোলার ঝুঁকি আগের চেয়ে অনেক বেশি। সামান্য মিস পাস বা ঝুঁকিপূর্ণ সিদ্ধান্ত বড় বিপদ ডেকে আনতে পারে।

অপটা (Opta)-র পরিসংখ্যান বলছে, গত মরশুমে যারা সবচেয়ে বেশি শর্ট পাস খেলা সাতটি টিমই অন্তত ৩০ বার এমন ভুল করেছে যার ফলে প্রতিপক্ষ সরাসরি শট নিয়েছে। উল্টোদিকে, যারা লং বলকে অগ্রাধিকার দিয়েছে, তাদের মধ্যে মাত্র একটি দল—ইপসউইচ টাউন—এই সংখ্যার উপরে। অর্থাৎ, লং বল মানেই পজেশন হারানোর ভয়—এই ধারণা আজ খটে না। বরং, উল্টোটা সত্যি।

আর্সেনালের কেস স্টাডি বেশ আকর্ষণীয়। ডেভিড রায়া, যাঁর পাসিং রেঞ্জ দীর্ঘদিন ধরেই প্রশংসিত, গত সিজনে তিনি ৪২ শতাংশের বেশি লং পাস বাড়িয়েছেন। ডানদিকের উইংকে বিশেষ ভাবে টার্গেট করেছেন। হাভার্টজ প্রায়শই সেন্টার-ফরওয়ার্ডের জায়গা ছেড়ে ফ্ল্যাঙ্কে চলে আসছেন, রায়ার কিক নামানোর জন্য। এর ফলে মাঝমাঠে বল হারানোর ভয় নেই। আর যদি হেডে প্রতিপক্ষের দখলে যায়ও, বল সাধারণত টাচলাইনের দিকে সরে যাচ্ছে। খুব বেশি হলে থ্রো-ইন। অর্থাৎ, ডিফেন্সিভ ট্রানজিশনে ঝুঁকি কম। তার পাশাপাশি, থ্রো-ইনের পর আর্তেতার হাই প্রেস কাজ করছে। ফলে আর্সেনাল বিপজ্জনক জায়গায় প্রতিপক্ষকে ঘিরে ফেলেছে খুব সহজে!

সিটির ক্ষেত্রে বিষয়টা আরেকটু আলাদা। পেপের দল লং বলকে ব্যবহার করছে পরিসর বাড়ানোর জন্য নয়, বরং আক্রমণাত্মক উদ্দেশ্যে। উদাহরণ হিসেবে ধরা যাক টটেনহ্যামের বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক ম্যাচ। স্পার্স প্রেস করতে উঠে আসে অনেকটা উপরে। সিটি কিছু খেলোয়াড়কে বলের কাছাকাছি ডেকে নিল, যাতে প্রতিপক্ষকে নিজেদের বক্সের কাছে টেনে আনা যায়। সেই ফাঁকেই হালান্ডকে (Erling Haaland) রাখা হল একেবারে হাই লাইনে। তারপর গোলকিপার লং বল মারলেন সোজা তাঁর দিকে। প্রতিপক্ষের ডিফেন্ডারের সঙ্গে হালান্ডের ডুয়েল তৈরি হল। মাঝে দাঁড়িয়ে ছিলেন ওমর মারমুশ (Omar Marmoush)। হালান্ড যদি বল নামাতে পারতেন বা নক-ডাউন করতেন, সোজা তাঁর পায়ে যেত। এই পরিকল্পনা কাজে লাগিয়ে একবার প্রায় গোল পেয়ে যাচ্ছিল সিটি। অর্থাৎ, পেপের ‘লং বল’ মোটেও এলোমেলো নয়। বরং, হিসেব কষে তৈরি করা আইসোলেশন। প্রতিপক্ষের প্রেস ভাঙার বদলে পুরো প্রেসকে অকেজো করে তোলা।

তবে এখানে শুধু গোলকিকই নয়। আর্সেনাল আর সিটি—দুটো দলই এ মরশুমে অনেক বেশি ‘ডাইরেক্ট’। একবার প্রেস ভাঙতে পারলেই দ্রুত গতিতে আক্রমণ। গোয়ার্দিওলার নিজের ভাষাতেই, ‘এবার আমরা ফাস্ট ব্রেককে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করব। প্রেস ভাঙার সঙ্গে সঙ্গেই দ্রুত আক্রমণ শানাব। তারপর আবার যত খুশি পাস খেলব!’ তাঁর কথাতেই ধরা পড়ছে ভারসাম্য—হাজারো পাসের দর্শনের সঙ্গে নতুন যোগ হচ্ছে হঠাৎ তীব্র গতি।

আর্সেনালেও এর ছাপ স্পষ্ট। গিওকেরেস কিংবা মাদুয়েকের (Noni Madueke) মতো ফুটবলাররা এই ‘ডাইরেক্ট ফুটবলের’ অন্যতম হাতিয়ার। জুবিমেন্দি (Martin Zubimendi) বা ওডেগার্ড (Martin Ødegaard)-এর পাসিং রেঞ্জে ভর করে দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে আর্তেতার টিম। নটিংহ্যাম ফরেস্ট কিংবা ম্যান ইউনাইটেড ম্যাচেই বোঝা গেছে, গত মরশুমের তুলনায় অনেক দ্রুত উপরে উঠছে তারা। যদিও লিভারপুলের মতো দলের বিরুদ্ধে পরিকল্পনা ছিল আলাদা—সেখানে ইচ্ছাকৃতভাবে গতি কমানো হয়েছিল, যাতে প্রতিপক্ষের কাউন্টার-অ্যাটাকের ফাঁদে না পড়তে হয়।

সবমিলিয়ে এটা একরকমের ‘মাল্টি-মোডাল’ ফুটবল। কেবল পজেশনাল প্লে নয়, বরং প্রয়োজনমতো প্রত্যক্ষ খেলা। প্রতিপক্ষ যদি লো-ব্লক করে বসে থাকে, তবে শর্ট পাসের ফুটবল। আর যদি উপরে প্রেস করে, তবে বল উঠিয়ে দেওয়া—যাতে জায়গা তৈরি হয়।

এখন গোলকিপারদের ভূমিকা নাটকীয়ভাবে বদলাচ্ছে। আগে যেখানে ‘সুইপার কিপার’হয়ে ছোট পাস দেওয়াই ছিল দায়িত্ব, এখন দোনারুমা বা রায়াদের মতো লং কিক স্পেশালিস্টরাই প্রাধান্য পাচ্ছেন। শট-স্টপিংয়ের পাশাপাশি তাঁদের অন্যতম কাজ হচ্ছে নির্ভুল লং বল মারতে পারা।

ফলে প্রশ্ন উঠছে—এ কি ‘পুরনো মদ নতুন বোতলে’? নাকি আড়ালে অন্য উদ্দেশ্য? বাস্তব বলছে, পেপ কিংবা আর্তেতার মতো কৌশলী কোচেরা বুঝে গেছেন, কেবল বল দখলের মাধ্যমে ম্যাচ জেতা সম্ভব নয়। দরকার বহুমাত্রিক পরিকল্পনা। কখনও স্লো, কখনও লং, কখনও দ্রুত ফাস্ট ব্রেক—সব মিশে তৈরি হচ্ছে নতুন ককটেল। এই পরিবর্তন প্রিমিয়ার লিগের অন্য দলগুলোও লক্ষ করছে। সাধারণত বড় দলেরা যা করে, কয়েক বছরের মধ্যে সেটা নকল হয়ে যায় অন্যত্র। ফলে অনুমান করা যায়, আবারও ‘লং বল যুগে’ফিরতে চলেছে ফুটবল। তবে এবার সেটা হবে ‘ইন্টেলিজেন্ট লং বল’। এলোমেলো কিক নয়, বরং টার্গেটেড ডিরেকশন, নির্দিষ্ট পরিকল্পনা, ঝুঁকি কমিয়ে গতি বাড়ানো।

এ মরশুমে যখন আর্সেনাল আর সিটি লড়াইয়ে নামছে, তাদের খেলা শুধু টাইটেল রেসের গল্প নয়। বরং ভবিষ্যতের ফুটবল কেমন হবে, তারও দিশা দিচ্ছে। হয়তো ২০২৫–২৬-এ এসে আমরা দেখব—প্রিমিয়ার লিগে আবারও গোলকিক থেকে সরাসরি গোলের সুযোগ তৈরি হচ্ছে। হয়তো আরও অনেক কোচ বুঝবেন, দর্শন কেবল ইতিহাসে নয়, তা বদলাতেই হয়, সময়ের দাবিতে।


```