ইস্টবেঙ্গল ক্লাবের সমর্থকরাও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছেন, “তিন মাস আগে আমাদের প্রিয় ক্লাব থেকে মূল্যবান জিনিস চুরি হয়েছে, আর এখন সেটা জানানো হচ্ছে, সর্ষের মধ্যেই ভূত নেই তো!”

ইস্টবেঙ্গল ক্লাব
শেষ আপডেট: 12 September 2025 13:17
দ্য ওয়াল ব্যুরো: লেসলি ক্লডিয়াস সরণির ক্লাব থেকে প্রায় তিন মাস আগে উধাও হয়ে যায় মাঠের দু’টি ফ্লাডলাইটের বৈদ্যুতিন সরঞ্জাম (Electric Particles)। সেই সময়ে ময়দান থানায় জেনারেল ডায়েরিও করেন ইস্টবেঙ্গল (East Bengal) কর্তারা। পুলিশের তরফে তদন্তও হয়, তবে তার পরে আর কিছুই জানা যায়নি। ক্লাবও আর খোঁজ নেয়নি। এতদিন এই ঘটনা সবার অগোচরেই ছিল।
বৃহস্পতিবার লাল-হলুদের শীর্ষ কর্তা দেবব্রত (নীতু) সরকার (Debabrata Sarkar) সেই প্রসঙ্গ তুলেছেন সাংবাদিকদের একটি প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে। আর তারপর থেকেই সরগরম ময়দান থেকে শুরু করে নেট দুনিয়া।
ইস্টবেঙ্গল ক্লাবে চুরির (Theft from East Bengal club) প্রসঙ্গে নীতু সরকার বৃহস্পতিবার জানিয়েছেন, মাঠের দু’টি ফ্লাডলাইটের বৈদ্যুতিন সরঞ্জাম কিছুদিন আগে উধাও হয়ে গিয়েছে। যার আনুমানিক মূল্য ১২ থেকে ১৪ লক্ষ টাকা। যদিও ক্লাবের অন্য একটি সূত্রের দাবি চুরি হওয়া যন্ত্রাংশের দাম কোটি টাকার কাছাকাছি।
বৃহস্পতিবার কলকাতা ফুটবল লিগে ইস্টবেঙ্গলের ম্যাচ ছিল ইউনাইটেড কলকাতার বিরুদ্ধে। সুপার সিক্সের এই ম্যাচ ইস্টবেঙ্গল মাঠেই অনুষ্ঠিত হয়েছে। ম্যাচে ৩-০ গোলে জিতেছে বিনো জর্জের ছাত্ররা। ক্লাবের মাঠে এটাই ছিল চলতি মরশুমে ইস্টবেঙ্গলের প্রথম ম্যাচ। তাই আশা করা গিয়েছিল মাঠ ভরিয়ে দেবেন সমর্থকরা। কিন্তু ম্যাচে দর্শকসংখ্যা ছিল তুলনামূলকভাবে কম। খেলা শেষে সাংবাদিক বৈঠকে সে প্রসঙ্গ তুলতেই দেবব্রতবাবু বলেন, “আমি চাই সমর্থকেরা মাঠ ভরান। তবে দুপুরে খেলা থাকায় অনেকেই অফিস থেকে বেরোতে পারেননি।”
তখনই এক সাংবাদিক প্রশ্ন তোলেন, ফ্লাডলাইট থাকলে সন্ধ্যায় ম্যাচ হলে কি দর্শক বাড়ত না? জবাবে দেবব্রতবাবু ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, “রাস্তার দিকের দু'টি ফ্লাডলাইটের নীচের প্লাগ চুরি হয়ে গিয়েছে। এটা খুবই দুঃখজনক। কীভাবে সম্ভব, তা-ও বুঝতে পারছি না।” সেই সঙ্গে তিনি বলেন, “১২ থেকে ১৪ লক্ষ টাকার সরঞ্জাম চুরি হয়েছে। এটা ক্লাবের গ্যালারির অংশ নয়, পিডব্লিউডি দেখভাল করে। তবে আবার নতুন করে মেরামতির কাজ শুরু হয়েছে।”
নীতুর এই বক্তব্যের পর ময়দানে ইস্টবেঙ্গল ক্লাবের চুরি নিয়ে শোরগোল পড়ে গিয়েছে। কানঘুষো চলছে এর পিছনে কি কোনও ষড়যন্ত্র রয়েছে? ভিতরের কেউ না থাকলে এরকম একটা ঐতিহ্যশালী ক্লাব থেকে এভাবে চুরি সম্ভব? ক্লাবে ২৪ ঘণ্টা লোক থাকেন, থাকেন সিকিউরিটিও, তাহলে চুরি হল কী করে? সিসিটিভি কি ছিল না?
এদিকে এই ঘটনা নিয়ে উত্তাল সোশ্যাল মিডিয়াও। সেখানে দেখা যাচ্ছে বেশির ভাগই ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন নীতু সরকারের বিরুদ্ধে। এমনকি ইস্টবেঙ্গল ক্লাবের সমর্থকরাও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছেন, “তিন মাস আগে আমাদের প্রিয় ক্লাব থেকে মূল্যবান জিনিস চুরি হয়েছে, আর এখন সেটা জানানো হচ্ছে, সর্ষের মধ্যেই ভূত নেই তো!”
অনেকেই আবার বলছেন, “আমাদের মা হল ইস্টবেঙ্গল। আমাদের মায়ের নিরাপত্তার এই হাল কেন! দ্রুত ব্যবস্থা নিয়ে দোষীদের শাস্তি দেওয়া হোক।”