শুধু খেলোয়াড়দের মধ্যে যোগাযোগই নয়, এই গেম নাকি দলীয় সংহতি গড়ে তুলতেও সাহায্য করেছিল। ম্যাচের বাইরে সময় কাটানোর ওই অদ্ভুত উপায়টা সার্বিক বোঝাপড়া আরও দৃঢ় করে তোলে।

রুনি ও ফার্গুসন
শেষ আপডেট: 23 September 2025 17:20
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ফুটবল মাঠে রণকৌশল, কঠোর অনুশীলন, শৃঙ্খলা—সবই জানা কথা। কিন্তু ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের (Manchester United) সোনালি যুগের যাবতীয় সাফল্য কি শুধুই ফর্দমাপা ট্রেনিংয়ের ফল?
উত্তর দিলেন ওয়েন রুনি (Wayne Rooney)। ইংল্যান্ডের জাতীয় টিমের স্ট্রাইকার খুব অল্প বয়সেই এভার্টন ছেড়ে যোগ দেন ম্যান ইউনাইটেডে। তারপর দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে স্যার অ্যালেক্স ফার্গুসনের বিশ্বস্ত মুখ। কাছ থেকে দেখেছেন স্কটিশ ম্যানেজারকে। যিনি ফুটবলের অনেক বস্তাপচা নিয়মকানুন ফেলে ব্রিটিশ ফুটবলে আমদানি করেন নয়া ঘরানার ফুটবল।
সেই স্মৃতিচারণ করতে গিতেই রুনি জানালেন, টিম বাসে বা বিমানে বসে ভিডিও গেম খেলাই হয়ে ওঠে দলের সফলতার আসল ‘গেমচেঞ্জার’। এই অভ্যাস গড়ে তোলে সংহতি, নিবিড় যোগাযোগ। যে কারণে ম্যাচ শুরুর আগেই ইউনাইটেড ‘টিম’ হিসেবে বাকিদের থেকে অনেক গুছিয়ে শুরু করতে পারত!
বিবিসি–র পডকাস্ট দ্য ওয়েইন রুনি শো–তে প্রাক্তন ইংল্যান্ড অধিনায়ক শেয়ার করেছেন সেই অভিজ্ঞতা। তাঁর কথায়, অ্যালেক্স ফার্গুসনের (Sir Alex Ferguson) অধীনে খেলার সময় তিনি, রিও ফার্ডিনান্দ (Rio Ferdinand), মাইকেল ক্যারিক (Michael Carrick), জন ও’শে (John O’Shea), ওয়েস ব্রাউন (Wes Brown)—সবাই মিলে ঝাঁপিয়ে পড়তেন প্লে–স্টেশন পোর্টেবলের (PSP) আর্মি গেম (SOCOM) খেলতে!
রুনি বলেন, ‘সত্যিই বিশ্বাস করি, আমাদের সাফল্যের বড় একটা কারণ ছিল ওই পিএসপি (PSP) খেলা। যা আমাদের যোগাযোগ বাড়িয়ে দেয়। প্লেনে হোক বা টিম বাস—খেলা জারি থাকত। চেঁচামেচি, একে অপরকে নির্দেশ দেওয়া, কে কোথায় মরল আর কাকে গিয়ে বাঁচাতে হবে—এসবের ভেতর দিয়েই তৈরি হয় এক দারুণ টিম স্পিরিট। ওসব খেলায় আমাদের আসল চরিত্রও ফুটে উঠত। ক্যারিক ছিল শান্ত, কৌশলী—অল্পে ধরা দিত না। আমি আবার ছিলাম সামনের সারিতে, সবসময় তেতে থাকতাম।’
শুধু খেলোয়াড়দের মধ্যে যোগাযোগই নয়, এই গেম নাকি দলীয় সংহতি গড়ে তুলতেও সাহায্য করেছিল। ম্যাচের বাইরে সময় কাটানোর ওই অদ্ভুত উপায়টা সার্বিক বোঝাপড়া আরও দৃঢ় করে তোলে। মাঠে একে অপরকে সঠিক জায়গায় খুঁজে নেওয়া, তক্ষুণি প্রতিক্রিয়া জানানো—সবই ‘গেম প্র্যাকটিসে'র ফসল!
তবে সবাই যে এই হৈ–হট্টগোলে খুশি ছিলেন, এমনটা নয়। রুনি একগাল হেসে বলই দেন, ‘এডউইন ভ্যান ডার সারের (Edwin van der Sar) তো খুব রাগ হত। টিম বাসে বসে আমরা চিৎকার করতাম—‘আমি ওখানে, আমাকে বাঁচাও, এখানে গ্রেনেড ফেলো’। আর ও সামনে থেকে বিরক্ত হত। বলত, ‘তোমাদের আওয়াজে পাগল হয়ে যাচ্ছি!’’
ফার্গুসনের সময়কার ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড প্রিমিয়ার লিগে (Premier League) দাপট দেখিয়েছে। জিতেছে চ্যাম্পিয়ন্স লিগও (Champions League)। রুনি নিজে সেই সময়ে জিতেছেন পাঁচটি লিগ খেতাব। একবার ইউরোপ-সেরার তকমা। বিশ্লেষকরা বরাবরই এই সাফল্যের কৃতিত্ব দিয়েছেন ফার্গুসনের কড়া শৃঙ্খলা, ট্যাকটিকাল জ্ঞান আর তারকাদের নিয়ন্ত্রণে রাখার ক্ষমতাকে। কিন্তু রুনির এই স্বীকারোক্তি বলে দিচ্ছে, শৃঙ্খলার পাশাপাশি মজা আর অফ–ফিল্ড বন্ডিংও কীভাবে নীরবে কাজের কাজটুকু করে দিয়েছে।