সেট-পিস, টেম্পো, ফিনিশিং—সবদিক দিয়েই আজ এগিয়ে ছিল ইস্টবেঙ্গল। এখন নজর ফাইনালে, যদিও টাচলাইনে হেডস্যারের অনুপস্থিতি কতটা প্রভাব ফেলবে, সেটাই বড় প্রশ্ন।

দুরন্ত ইস্টবেঙ্গল
শেষ আপডেট: 4 December 2025 19:04
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পাঞ্জাব এফসির বিরুদ্ধে শুরু থেকে শেষ—সর্বত্র ছাপ রাখার মতো খেলা। আর সেই ছন্দেই সুপার কাপের ফাইনালে জায়গা পাকা করল ইস্টবেঙ্গল। বুধবার লাল-হলুদ শিবির ৩-১ গোলে হারাল পাঞ্জাবকে। যদিও আনন্দে মিশে রইল হাল্কা অস্বস্তি। হাফটাইমে রাগের মাথায় ডাগ-আউটের দেয়ালে আঘাত করায় কোচ অস্কার ব্রুজোঁ (Oscar Bruzon) দ্বিতীয় হলুদ দেখে মাঠছাড়া। ফলে ফাইনালে টাচলাইনে থাকবেন না দলের প্রধান কোচ।
ম্যাচ শুরুর সঙ্গে সঙ্গেই বোঝা যাচ্ছিল কোন দল নিয়ন্ত্রণে। মাত্র তিন বিদেশি নিয়ে নামা পাঞ্জাব এফসি প্রথম থেকেই কিছুটা রক্ষণাত্মক ছিল। তিন সেন্টার ব্যাক, দুই উইং ব্যাক নিয়ে জায়গা বন্ধ করার চেষ্টা। কিন্তু ইস্টবেঙ্গলের সেট-পিস শক্তির সামনে তাতে লাভ হয়নি। ১২ মিনিটেই কর্নার থেকে তৈরি হওয়া ভিড়ে সবার আগে রিবাউন্ড কন্ট্রোল করে নিচু শটে গোল করে দিলেন মহম্মদ রশিদ। ১-০ ইস্টবেঙ্গল।
গোল খেয়ে পাঞ্জাব একটু চাঙা হলেও কাজের কাজ কিছু করতে পারেনি। একটি কর্নার রিবাউন্ড থেকে সামির জেলজকোভিচের শট আটকান লাল-হলুদ ডিফেন্ডাররা। তবে প্রথমার্ধের মাঝামাঝি সমতা ফেরায় পঞ্জাব। লং ডায়াগোনাল থেকে প্রমবীর সিংয়ের হেড বাইপাস করে বক্সে পড়ে বল লাগে বিপিন সিংয়ের হাতে। পেনাল্টির নির্দেশ দেন রেফারি। ড্যানিয়েল রামিরেজ শান্তভাবে গোলকিপারকে ভুল পথে পাঠিয়ে স্কোর ১-১ করেন।
তবে বিরতির আগে ফের এগিয়ে যায় ইস্টবেঙ্গল—আবারও কর্নার থেকে। মিগেল ফেরেইরার তোলা বল ছয়-গজ বক্সে সবচেয়ে উঁচুতে লাফিয়ে হেডে জালে ঠেলে দেন কেভিন সিবিলে। সেই গোলের পরই উত্তেজনা চরমে ওঠে। আগেই অসন্তোষ দেখানোর জন্য হলুদ কার্ড পেয়েছিলেন ব্রুজোঁ। গোলের পর রাগে ডাগ-আউটের দেওয়ালে আঘাত করতেই দ্বিতীয় হলুদ—অর্থাৎ, লাল কার্ড। কোচকে তক্ষুনি মাঠ ছাড়তে হয়।
দ্বিতীয়ার্ধে কোচ না থাকলেও ইস্টবেঙ্গলের খেলায় সেভাবে ছাপ পড়েনি। পাঞ্জাব এফসি পাসিংয়ে ছন্দ খুঁজে পেতে ব্যর্থ, বিল্ড-আপ বারবার ভেঙেছে। উল্টোদিকে ইস্টবেঙ্গল নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখে আক্রমণ সাজিয়েছে বারবার। শেষ কোয়ার্টারের আগেই ম্যাচে ইতি টানে লাল-হলুদ। ফেরেইরার পাস থেকে ক্রেসপো দুরন্ত দূরপাল্লার শটে গোল করে ব্যবধান বাড়ান ৩-১। সেই গোল কার্যত ম্যাচ থেকে পাঞ্জাবকে ছিটকে দেয়। এরপর আর তেমন সুযোগ সৃষ্টি করতে পারেনি তারা।
সেট-পিস, টেম্পো, ফিনিশিং—সবদিক দিয়েই আজ এগিয়ে ছিল ইস্টবেঙ্গল। এখন নজর ফাইনালে, যদিও টাচলাইনে হেডস্যারের অনুপস্থিতি কতটা প্রভাব ফেলবে, সেটাই বড় প্রশ্ন।