এই হারের জেরে গ্রুপ বি–তে ইস্টবেঙ্গলের জন্য পরিস্থিতি কঠিন। তবে নক-আউটে ওঠার দরজা একেবারে বন্ধ হয়নি।
_0.jpeg.webp)
ছবি: গুগল
শেষ আপডেট: 20 November 2025 17:22
দ্য ওয়াল ব্যুরো: এএফসি উইমেনস চ্যাম্পিয়ন্স লিগের দ্বিতীয় গ্রুপ ম্যাচে শক্তিশালী উহান জিয়াংদা এফসি-র বিরুদ্ধে ০-২ স্কোরলাইনে হারল ইস্টবেঙ্গল (East Bengal FC)। ম্যাচের প্রথম ২০ মিনিটেই দুই গোল খেয়ে পিছিয়ে পড়ে লাল–হলুদ ব্রিগেড। গোলকিপার পন্থোই চানুর (Panthoi Chanu) ধারাবাহিক সেভে বড় ব্যবধান এড়ানো গেলেও দিনের শেষে দল কিন্তু চাপে। তার কারণ নক-আউটের আশা এখন পুরোপুরি নির্ভর করছে আগামী ম্যাচ—উজবেকিস্তানের নাসাফের (PFC Nasaf) বিরুদ্ধে গ্রুপ লিগের অন্তিম লড়াইয়ের উপর।
ইরানের বাম হাতুনকে ৩–১ হারিয়ে উহান ম্যাচে নামা ইস্টবেঙ্গল শুরুতেই বুঝে যায় প্রতিপক্ষের ধার। চিনা চ্যাম্পিয়নদের গতিময় পাসিং ও হাই-প্রেসিংয়ের সামনে রক্ষণ বারবার বিপদে পড়ে। ম্যাচের একেবারে শুরুতেই দেন মেংইয়ে প্রায় গোল করে দিচ্ছিলেন, কিন্তু পন্থোই চানু দ্রুত বেরিয়ে এসে বিপদ সামলান। তবে বিপদ বেশিক্ষণ এড়ানো যায়নি। সং ফেইয়ের নিচু ক্রস ধরে ওয়াং শোয়াং (Wang Shuang) নিখুঁত টাচে গোল করে উহানকে এগিয়ে দেন।
এর কিছুক্ষণ পরই ভিএআর চেকের পর পেনাল্টি। আবারও স্পট কিকে গোল করেন ওয়াং শোয়াং। ২০ মিনিটের মধ্যেই উহান ২–০। তারপর থেকে ইস্টবেঙ্গলের লড়াই মূলত ক্ষতি কমানো এবং আক্রমণে কিছু সুযোগ সৃষ্টি করা—এই দুইয়ে আটকে থাকে।
তবু সুযোগ আসেনি, বলা ভুল। প্রথমার্ধে সৌম্যা গুগুলথর শট বার ছুঁয়ে বেরিয়ে যায়। ডিফেন্সে বারবার চাপ বাড়ে, কিন্তু পন্থোই একের পর এক শট ঠেকিয়ে ব্যবধান বাড়তে দেননি। দেন মেংইয়ে, কিম হে-রি ও ম্যাভিস ওউসুর একাধিক প্রচেষ্টা তিনি দারুণভাবে সেভ করেন। দ্বিতীয়ার্ধেও উহানের আক্রমণ ছিল অব্যাহত, কিন্তু ভারতের গোলকিপারের উপস্থিত বুদ্ধি ও সেভে ম্যাচ ০–২–এ আটকে থাকে।
ম্যাচের শেষদিকে সবচেয়ে ভালো সুযোগ তৈরি হয় ইস্টবেঙ্গলের। সৌম্যার থ্রু–বল ধরে সুশমিতা লেপচা বক্সে ঢুকেছিলেন, কিন্তু ফিনিশিং ঠিক হয়নি। এমন ব্যর্থতাই এদিন আক্রমণের সারসংক্ষেপ।
এই হারের জেরে গ্রুপ বি–তে ইস্টবেঙ্গলের জন্য পরিস্থিতি কঠিন। তবে নক-আউটে ওঠার দরজা একেবারে বন্ধ হয়নি। আগামী ২৩ নভেম্বর নাসাফের বিরুদ্ধে বড় ব্যবধানে না হারলেই কোয়ার্টার–ফাইনালে যাওয়ার সম্ভাবনা টিকে থাকবে। উহানের বিরুদ্ধে রক্ষণে দৃঢ়তা, গোলকিপারের ধারাবাহিকতা এবং আক্রমণে সুযোগ—এসব মিলিয়ে এখন দলকে দ্রুত মানসিকভাবে ফিরে দাঁড়াতে হবে। শেষ ম্যাচেই ঠিক হবে—মশাল মেয়েরা শেষ আটে যাবে, নাকি এখানেই শেষ হবে প্রথম এশিয়ান অভিযান।