ভারতীয় ফুটবলের আর্থিক কাঠামো, ক্লাব–ফেডারেশন সম্পর্ক, লিগ পরিচালনার মডেল—সবকিছুই তলিয়ে দেখা হচ্ছে। মন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়েছেন—অচলাবস্থা আর বরদাস্ত করা হবে না।

ছবি: গুগল
শেষ আপডেট: 4 December 2025 12:59
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আর্থিক টানাপোড়েন, নীতিগত অচলাবস্থা, বাণিজ্যিক সাহায্যের অভাব—সব মিলিয়ে ভারতীয় ফুটবল অতল সংকটে। সেই জট কাটাতে বুধবার সরাসরি মাঠে নামলেন কেন্দ্রীয় ক্রীড়ামন্ত্রী মনসুখ মাণ্ডব্য (Mansukh Mandaviya)। দিল্লিতে এক ম্যারাথন বৈঠকে তিনি তলব করেন এআইএফএফ (AIFF) প্রেসিডেন্ট কল্যাণ চৌবে (Kalyan Chaubey), আইএসএল–আই লিগ ক্লাব প্রতিনিধি, সম্ভাব্য বিডার, এআইএফএফ–এর বাণিজ্যিক অংশীদার এফএসডিএল (FSDL) এবং বিভিন্ন ওটিটি প্ল্যাটফর্মকে।
বৈঠকের মূল সুর ছিল একটাই—এই স্থবিরতা আর চলবে না। শুরুতেই মাণ্ডব্য প্রশ্ন তুললেন, ভারতীয় ফুটবল এমন অবস্থায় পৌঁছল কীভাবে? কেন দেশের টপ–টিয়ার লিগ পরিচালনায় এখন কেউ আগ্রহী নয়? স্পষ্ট জবাব মেলেনি। দিল্লি এফসি–র রঞ্জিত বাজাজ জানালেন—তৃণমূল স্তরের বিকাশে কাজ হয়নি। তাই পরিস্থিতি এতটা খারাপ।
মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র জানায়, ক্রীড়ামন্ত্রী সোজাসুজি সওয়াল তোলেন—‘পরিস্থিতি এতটা বাইরে চলে গেল কীভাবে? কেন বাণিজ্যিক সঙ্গী পাওয়া যাচ্ছে না?’ উপস্থিত এআইএফএফ ও ক্লাব কর্তাদের তিনি যথেষ্ট ‘নিন্দামন্দ’ করেছেন বলেও খবর। প্রসঙ্গত, জুলাইতেই এফএসডিএল এআইএফএফ–কে জানায়—১৫ বছরের মাস্টার রাইটস এগ্রিমেন্ট (MRA) নবীকরণে অনিশ্চয়তার কারণে আইএসএল আপাতত ‘অন হোল্ড’। পরে সুপ্রিম কোর্ট অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি নাগেশ্বর রাও–কে নিযুক্ত করে নতুন বাণিজ্যিক সঙ্গীর খোঁজ শুরু হয়। কিন্তু আইএসএল–এর কমার্শিয়াল রাইটসের টেন্ডারে কেউ আগ্রহ দেখায়নি। বিচারপতি রাও সুপ্রিম কোর্টকে জানান—এআইএফএফ–এর কর্তৃত্ব বজায় রাখা ও বিডারদের বাণিজ্যিক স্বার্থ—দুই দিক সামলানোর মতো কাঠামো দরকার।
বুধবারের বৈঠকে সেই সমস্যারই বিচার-বিশ্লেষণ চলে। সম্ভাব্য বিডারদের সাফ বক্তব্য—বর্তমান টেন্ডার শর্তে আইএসএল বাণিজ্যিক অধিকার নেওয়া অলাভজনক। এফএসডিএল জানায়—‘ভারতীয় ফুটবল আর্থিকভাবে মজবুত নয়!’ প্রশ্ন ওঠে—এফএসডিএল প্রতি বছর আইএসএল ক্লাবকে ২ কোটি টাকা দেয়, তা–সত্ত্বেও জাতীয় দলে যথেষ্ট খেলোয়াড় কোথায়?
ক্লাব প্রতিনিধিরা আরও অভিযোগ করেন—বড়–ছোট ক্লাব একসঙ্গে বাড়ছে না। ছোট ক্লাবের খেলোয়াড় বড় ক্লাব কিনলেও সেই অর্থ তাদের উন্নয়নে কাজে লাগছে না। গ্রাম-মফস্বল উপেক্ষিত। ফুটবলকে কেবল মেট্রো–কেন্দ্রিক রাখার মানসিকতা নিয়েও আপত্তি ওঠে। আই–লিগ ক্লাবরা সমস্বরে ‘একীকৃত লিগ’–এরও প্রস্তাব তোলে।
অন্যদিকে এআইএফএফ জানায়—২০টিরও বেশি জাতীয় টুর্নামেন্ট আয়োজনের খরচই বিশাল। আর্থিক দিক খানিক স্বচ্ছ করতে হলে ‘মিনিমাম গ্যারান্টিড’ পেমেন্ট কমানো যায় কি না—এই ভাবনাও চলছে। মাণ্ডব্য যদিও এ নিয়ে কোনও মন্তব্য করেননি।
মোট কথা—ভারতীয় ফুটবলের আর্থিক কাঠামো, ক্লাব–ফেডারেশন সম্পর্ক, লিগ পরিচালনার মডেল—সবকিছুই তলিয়ে দেখা হচ্ছে। মন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়েছেন—অচলাবস্থা আর বরদাস্ত করা হবে না। কয়েক দিনের মধ্যেই সমস্যার সমাধান নিয়ে সরকার রোডম্যাপ সামনে আনবে। এখন দেখার—সেই রূপরেখা নড়বড়ে ভারতীয় ফুটবলকে আদৌ তুলে দাঁড় করায় কি না।