দেশের ফুটবলের সবচেয়ে সফল অধিনায়কের এই সরাসরি আবেদন তাই শুধু খেলোয়াড়দের হতাশার প্রতিফলন নয়, বরং একটা সতর্কবার্তা—ভারতের ফুটবল যেন নিজেরই তৈরি অতল গহ্বরে মধ্যে ডুবে না যায়।

সুনীল ছেত্রী
শেষ আপডেট: 11 November 2025 16:35
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আইএসএল (ISL) শুরু না হওয়ায় ঘোর অচলাবস্থায় দেশের ফুটবল। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে, যে মাঠে নামার দাবিতে সরব এই মুহূর্তে দেশের সবচেয়ে অভিজ্ঞ ফুটবলার সুনীল ছেত্রী (Sunil Chhetri)। তাঁর সঙ্গে আওয়াজ মিলিয়েছেন সন্দেশ ঝিঙ্গান, গুরপ্রীত সিং সান্ধু, লালিয়াঞ্জুয়ালা ছাংতে-সহ একাধিক তারকা খেলোয়াড়।
ছেত্রী নিজের ইনস্টাগ্রাম পোস্টে লিখেছেন, ‘আমরা, যারা আইএসএলে খেলি, একসঙ্গে এই আবেদন করছি—শুধু একটা জিনিস চাই, খেলতে, এখনই। আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে বলতে চাই—ভারতের ফুটবল মরসুম যেন দ্রুত শুরু হয়।’ এই পোস্ট কয়েক ঘণ্টার মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে অন্য ফুটবলারদের টাইমলাইনে।
ভারতের শীর্ষ লিগ আইএসএল সাধারণত সেপ্টেম্বরেই শুরু হয়। কিন্তু নভেম্বরের মাঝামাঝি এসে এখনও খেলার কোনও ঘোষণা নেই। মূল কারণ, এআইএফএফের (AIFF) বাণিজ্যিক অধিকার সংক্রান্ত দরপত্রে একটিও বিডার পাওয়া যায়নি। ৭ নভেম্বরের শেষ সময়সীমা পেরিয়ে যাওয়ার পর লিগের ভবিষ্যৎ নিয়ে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা।
ছেত্রীদের যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘আমাদের রাগ, হতাশা আর দুশ্চিন্তা এখন একটাই জায়গায় গিয়ে ঠেকেছে—আবেগে নয়, নিরুপায় অবস্থায়। আমরা খেলা শুরু করতে চাই, মাঠে ফিরতে চাই। আমাদের পরিবার, সমর্থক—যাঁদের জন্য আমরা খেলি, তাঁদের সামনে ফিরতে চাই।’
বিবৃতিতে আরও লেখা, ‘দেশের ফুটবল চালানোর দায়িত্ব যাঁদের হাতে, তাঁদের কাছে আমাদের আবেদন—যে কোনও উপায়ে সিজন শুরু করুন। ভারত এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি প্রতিযোগিতামূলক ফুটবলের প্রয়োজন অনুভব করছে। আমরা তৈরি আছি, পেশাদার হিসেবে মাঠে নামতে দ্বিধা নেই। শুধু চাই, আপনারাও এই আগ্রহটা ভাগ করে নিন। আমরা অনেকদিন ধরে এক অন্ধকার টানেলের মধ্যে আছি—এখন একটু আলো দরকার।’
এআইএফএফের ব্যর্থ দরপত্রের ফলে লিগ কার্যত স্থবির। দেশের কয়েকটি ক্লাব, যেমন: মোহনবাগান সুপার জায়ান্ট (Mohun Bagan Super Giant) ও কেরালা ব্লাস্টার্স (Kerala Blasters) ইতিমধ্যেই অনুশীলন বন্ধ রেখেছে। অন্যদিকে চেন্নাইয়িন এফসি (Chennaiyin FC) ও ইন্টারকাশিতে (Inter Kashi) সাময়িকভাবে কার্যক্রম স্থগিতের পাশাপাশি খেলোয়াড়দের বেতনও আটকে।
প্রতিযোগিতামূলক ফুটবল না থাকায় খেলোয়াড়েরা দীর্ঘদিন মাঠের বাইরে, যা ফিটনেস ও ফর্ম—দুইয়েই প্রভাব ফেলছে। এরই মধ্যে এআইএফএফের ঘোষণা: তারা সুপ্রিম কোর্টে যাবে (Supreme Court), যাতে আইএসএলের প্রশাসনিক কাঠামো কিছুটা পরিবর্তন করে নতুন বাণিজ্যিক অংশীদার খোঁজার পথ সুগম হয়। সুপ্রিম কোর্ট নিযুক্ত বিচারপতি এল নাগেশ্বর রাও (Justice L. Nageswara Rao) ইতিমধ্যেই বোর্ডের সঙ্গে আলোচনায় বসেছেন। উদ্দেশ্য—জট ভেঙে লিগ শুরুর বাস্তবসম্মত রূপরেখা তৈরি করা। দেশের ফুটবলের সবচেয়ে সফল অধিনায়কের এই সরাসরি আবেদন তাই শুধু খেলোয়াড়দের হতাশার প্রতিফলন নয়, বরং একটা সতর্কবার্তা—ভারতের ফুটবল যেন নিজেরই তৈরি অতল গহ্বরে মধ্যে ডুবে না যায়।