প্রদর্শনী ম্যাচ হলেও, তাতে ছিল প্রতিযোগিতা, আবেগ আর নিখাদ মজা। বোল্ট–ছেত্রীর যুগলবন্দি ফুটবলকে যেন এনে দিল এক নতুন দিগন্ত—যেখানে গতি, শিল্প আর স্পিরিট মিলে তৈরি হল ভরপুর বিনোদন।

ছেত্রী ও বোল্ট
শেষ আপডেট: 4 October 2025 14:55
দ্য ওয়াল ব্যুরো: একদিকে বিশ্বের দ্রুততম মানুষ, অন্যপাশে ভারতীয় ফুটবলের অবিসংবাদী তারকা। মুম্বইয়ের (Mumbai) আলো-আঁধারি সন্ধ্যায় যখন উসেইন বোল্ট (Usain Bolt) আর সুনীল ছেত্রী (Sunil Chhetri) মাঠে নামলেন, তখন দর্শকাসনে বসা হাজারো সমর্থক উত্তেজনায় অধীর! হোক না ৫-জনের প্রদর্শনী ম্যাচ, তবু লড়াই ঘিরে আবেগের এতটুকু কমতি ছিল না।
ভেন্যু—মুম্বই। আয়োজনে—পুমা (PUMA)। উদ্দেশ্য—ভারতীয় ফুটবলের সংস্কৃতি আর উদ্দীপনাকে নতুন করে তুলে ধরা। আর সেই মঞ্চে ঝলসে উঠল বিশ্বক্রীড়ার দুই মেরু—একজন দৌড়ের, অন্যজন ফুটবলের। শেষ পর্যন্ত ছেত্রীর বেঙ্গালুরু এফসি (Bengaluru FC) ৫–২ গোলে হারাল মুম্বই সিটি এফসিকে (Mumbai City FC), কিন্তু স্কোরলাইন যেন গৌণ, তুচ্ছ—ম্যাচটাই আসল, উৎসব!
একদিকে বোল্ট যেন আবারও প্রমাণ করলেন, গতি কেবল ট্র্যাকের গণ্ডিতেই আটকে নেই। স্পাইক খুলে পায়ে ফুটবল স্টাড, তবু সেই চেনা ঝড়ো দৌড়, ক্ষিপ্রতা আর কায়দা দেখিয়ে মুগ্ধ করলেন দর্শককে। পায়ে বল নিয়ে একের পর এক স্প্রিন্ট, নিখুঁত পাস, মাঝে মাঝে ডিফেন্ডারকে ফাঁকি দিয়ে এগিয়ে যাওয়া—স্টেডিয়াম মুহূর্তে শিহরিত। জামাইকার তারকা স্প্রিন্টার পরে স্বীকারও করে নেন, ‘অ্যাথলেটিক্সের পর ফুটবলই আমার ভালোবাসা। মুম্বইয়ের মাঠে, এই আবেগের মধ্যে খেলে আমি বিদ্যুৎ ছুঁয়ে ফেলেছি যেন!’
ছেত্রীও কম যান না। নিখুঁত পাসিং, চোখজুড়ানো ফিনিশ আর ঠান্ডা মাথার স্কিলের ঝলক ম্যাচের পার্থক্য গড়ে দেয়। বেঙ্গালুরুর মিডফিল্ডে ছন্দের কারিগর। বল বণ্টন, লিঙ্ক-আপ প্লে, প্রতিপক্ষের ডিফেন্স ভেঙে জায়গা তৈরি—সব কিছুই ট্রেডমার্ক স্টাইল ঠিকরে বেরোয়।
দর্শকদের জন্য বাড়তি চমক—দু’জনকে একসঙ্গে খেলতেও দেখা গেল কয়েক মুহূর্তের জন্য! যেখানে একদিকে বিশ্বের দ্রুততম মানুষ, অন্যদিকে ভারতের সেরা স্ট্রাইকার। মুহূর্তটা সাম্প্রতিক সময়ে দেশের খেলার ইতিহাসে স্মরণীয়।
প্রসঙ্গত, এই ম্যাচে শুধু দুই তারকাই নন, বাকি প্রতিভারাও নজর টানেন। বেঙ্গালুরুর গোলপোস্টে গুরুপ্রীত সিং সান্ধু (Gurpreet Singh Sandhu) কার্যত অজেয়। অন্যদিকে মুম্বই সিটির সুরেশ ওয়াংজাম (Suresh Wangjam), আকাশ মিশ্র (Akash Mishra) ও ফুরবা লাচেনপা (Phurba Lachenpa) লড়লেন প্রাণপণে। কিন্তু শেষ হাসি হাসল ছেত্রীর টিম—৫–২ জয় ছিনিয়ে নিয়ে।
প্রদর্শনী ম্যাচ হলেও, তাতে ছিল প্রতিযোগিতা, আবেগ আর নিখাদ মজা। বোল্ট–ছেত্রীর যুগলবন্দি ফুটবলকে যেন এনে দিল এক নতুন দিগন্ত—যেখানে গতি, শিল্প আর স্পিরিট মিলে তৈরি হল ভরপুর বিনোদন। তাই লড়াই শেষে বোল্ট যখন মুচকি হেসে বললেন, ‘পরের বার বেঙ্গালুরুতে দেখা হবে!’, তখন দর্শকদের স্টেডিয়াম-কাঁপানো উল্লাস বুঝিয়ে দিল শো রিলিজের প্রথম দিনেই সুপারহিট!