সব মিলিয়ে আজকের ম্যাচটাই নির্ধারণ করবে, ভারতীয় দল আবার গতি ফিরে পাবে নাকি যোগ্যতা অভিযানে পথ হারাবে। একদিকে নতুন কোচের চাপ, অন্যদিকে সিনিয়রদের প্রত্যাবর্তন—এই দুইয়ের তালমিলেই লেখা হবে ভারতের ভাগ্য।

সুনীল ছেত্রী
শেষ আপডেট: 9 October 2025 13:54
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সব কিছু মিলিয়ে এটাই ভারতের (India) জন্য ‘ডু অর ডাই’। এশিয়ান কাপের (AFC Asian Cup 2027) যোগ্যতা পর্বে টিকে থাকতে হলে আজ সিঙ্গাপুরের (Singapore) মাঠে জিততেই হবে খালিদ জামিলের (Khalid Jamil) দলকে। দুই ম্যাচে মাত্র এক পয়েন্ট, গ্রুপ সি-র একদম নিচে ভারত। সামনে সিঙ্গাপুর, যারা ইতিমধ্যেই চার পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে। তাই এই ম্যাচ হারলে যাবতীয় আশা কার্যত শেষ।
এই আবহে বড় খবর সুনীল ছেত্রীর (Sunil Chhetri) কামব্যাক। জাতীয় দলের বিশ্বস্ত মুখ, সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য গোলস্কোরার। সিএএফএ নেশনস কাপে বিশ্রাম নেওয়ার পর সরাসরি প্রথম একাদশে। দলের জন্য তাঁর অভিজ্ঞতা, ঠান্ডা মাথা আর সেই গোল করার খিদে—সবটাই দরকার এই ম্যাচে।
ম্যাচ কাললাঙের ন্যাশনাল স্টেডিয়ামে, সন্ধে ৫টায় (ভারতীয় সময়)। ভারতের সামনে এখন আর কোনও অজুহাতের জায়গা নেই। জয় চাই, নইলে স্বপ্ন শেষ। জামিলের দায়িত্বও তাই বিশাল। তিনি নতুন কোচ, হাতে সময়ও কম। দায়িত্ব নিয়ে দলকে কিছুটা ছন্দে এনেছেন। আজকের লড়াই-ই তাঁর এ যাবৎ সবচেয়ে বড় পরীক্ষা।
গত ক’মাসে ভারতীয় ফুটবলে যা ঘটেছে, তার সারমর্ম এক কথায়—‘অস্থিরতা’। টানা হোঁচট, গোল করার সমস্যা, ডিফেন্সে ফাঁক, তার উপর কোচ বদল। তবু ওমান আর তাজিকিস্তানের (Tajikistan) বিরুদ্ধে ভালো লড়াই করে জামিল কিছুটা আত্মবিশ্বাস পেয়েছেন। কিন্তু আজকের ম্যাচে সেটা কাজে না লাগলে পরের রাউন্ডের টিকিটও অধরা রয়ে যাবে।
গ্রুপের হিসেব মতে, ভারতের হাতে এখনও কিছু সুযোগ আছে। কিন্তু শর্ত একটাই—আজ সিঙ্গাপুরের মাটিতে তিন পয়েন্ট তুলতেই হবে। নইলে ১৪ অক্টোবর গোয়ার (Goa) হোম ম্যাচে চাপ আরও বাড়বে। তাই জামিল চাইবেন, দল যেন প্রথম থেকেই ছন্দ ধরে রাখে। মিডফিল্ডে আশিক কুরুনিয়ানের (Ashique Kuruniyan) গতি, ছেত্রীর নেতৃত্ব আর অনিরুদ্ধ থাপার (Anirudh Thapa) পাসিং—এই তিন মন্ত্রে ভরসা রাখবেন তিনি।
ইতিহাসও কিছুটা স্বস্তিতে রাখবে জামিলকে। মুখোমুখি লড়াইয়ে ২৭টি ম্যাচে ভারত জিতেছে ১২ বার, সিঙ্গাপুর ১১, ড্র ৪। কিন্তু অতীতের হিসেব আজ তেমন কাজে লাগবে না। কারণ সিঙ্গাপুর এই মুহূর্তে দারুণ ছন্দে। পাশাপাশি নিজেদের মাঠে খেলার বাড়তি সুবিধাও পাবে।
ভারতের সমস্যা বরাবরই গোল নিয়ে। মিডফিল্ড পর্যন্ত খেলা তৈরি হয়, কিন্তু অন্তিম পাস বা ফিনিশিংয়ে ভুল। জামিলের সামনে তাই একটাই লক্ষ্য—দলকে আক্রমণাত্মক রাখা, প্রতিপক্ষকে চাপে ফেলা। ছেত্রীর সঙ্গে হয়তো নামবেন লালিয়ানজুয়ালা ছাঙ্গতে (Lallianzuala Chhangte) অথবা মনবীর সিং (Manvir Singh)। দু’জনেরই গতি আছে, কিন্তু দরকার নির্ভুল সমন্বয়।
ডিফেন্সেও মেরামতের জায়গা আছে। শেষ ক’ম্যাচে যত সহজে গোল খেয়েছে ভারত, তাতে জামিল এবার ডিফেন্স লাইন বদলাতে পারেন। সন্দেহ নেই, ম্যাচের গোড়ায় গোল খেলে পরিস্থিতি সামলানো কঠিন হয়ে যাবে!
সব মিলিয়ে আজকের ম্যাচটাই নির্ধারণ করবে, ভারতীয় দল আবার গতি ফিরে পাবে নাকি যোগ্যতা অভিযানে পথ হারাবে। একদিকে নতুন কোচের চাপ, অন্যদিকে সিনিয়রদের প্রত্যাবর্তন—এই দুইয়ের তালমিলেই লেখা হবে ভারতের ভাগ্য। জামিলের মতো ছেত্রীও জানেন, এটা আর পাঁচটা ম্যাচ নয়। ভারত লড়াইয়ে থাকবে কিনা, সেটা আজকের লড়াই নির্ধারণ করবে।