হাঙ্গেরি এখনও পর্যন্ত কোনওদিন পর্তুগালকে হারাতে পারেনি। বিশ্বকাপে তাদের শেষ দেখা ১৯৮৬-তে। তার আগে-পরে প্রতিবার খালি হাতেই মাঠ ছাড়তে হয়েছে।

ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো
শেষ আপডেট: 10 September 2025 10:18
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বুদাপেস্টের (Budapest) রাতে বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের মঞ্চে নয়া ইতিহাস লিখলেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো (Cristiano Ronaldo)। কোয়ালিফায়ার রাউন্ডে হাঙ্গেরির (Hungary) বিরুদ্ধে গোল করে রেকর্ড ছুঁলেন পর্তুগিজ মহাতারকা। বল জালে জড়ালেন পেনল্টি থেকে। আর সেই সুবাদে বাছাইপর্বের মোট গোলসংখ্যা দাঁড়াল ৩৯-এ। গুয়াতেমালার কার্লোস রুইজের (Carlos Ruiz) সঙ্গে একই সারিতে রোনাল্ডো। চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী লিওনেল মেসি (Lionel Messi) রয়েছেন তিন ধাপ পিছনে—৩৬-এ।
পর্তুগালের জার্সিতে এই মুহূর্তে সিআরসেভেনের গোলসংখ্যা ১৪১। আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছেন ২২৩টি। সব মিলিয়ে কেরিয়ারের মোট গোল দাঁড়াল ৯৪৩। হাজার গোলের মাইলফলক ছোঁয়ার স্বপ্নও তাই ক্রমশ হাতের নাগালে।
গতরাতে ম্যাচ ছিল এক কথায় রুদ্ধশ্বাস। হাঙ্গেরি দিয়েছে জোর টক্কর। লড়েছে সেয়ানে-সেয়ানে। মরিয়া মেজাজে। কিন্তু শেষ হাসি হাসলেন রোনাল্ডোরাই। ৩-২ গোলে জয় পেল রবার্তো মার্টিনেজের (Roberto Martinez) দল। গ্রুপ ‘এফ’-এর শীর্ষে এখন পর্তুগাল—দুই ম্যাচে মোট ছয় পয়েন্ট।
যদিও সবাইকে চমকে দিয়ে প্রথমে এগিয়ে যায় হাঙ্গেরি। ফেরেঞ্চভারোস ফরোয়ার্ড বার্নাবাস ভার্গা (Barnabas Varga) জশোল্ট নাগির (Zsolt Nagy) ক্রস দুরন্ত হেডে জালে জড়ান। এরপরই পাল্টা চাপে পড়ে হাঙ্গেরি রক্ষণ। গোলকিপার বালাজ তোত (Balazs Toth) একবার রোনাল্ডোর শট ফিরিয়েও দেন। কিন্তু তাতে শেষরক্ষা হয়নি। প্রথমার্ধেই খাতা খোলে পর্তুগাল। ৩৬ মিনিটে সমতা ফেরান ম্যানচেস্টার সিটির (Manchester City) বার্নার্ডো সিলভা (Bernardo Silva)।
সেকেন্ড হাফে ঘুরে যায় ম্যাচের মোড়। ৫৮ মিনিটে রোনাল্ডো—যিনি আপাতত ছ’নম্বর বিশ্বকাপ খেলার লক্ষ্যে—আদায় করে নেন পেনাল্টি। তারপর নিখুঁত শটে বল পাঠান জালে। এর সুবাদে কোয়ালিফায়ারে সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় যুগ্মভাবে শীর্ষে নিজের নাম লিখিয়ে ফেলেন।
তবে সহজে হাল ছাড়েনি হাঙ্গেরি। ৮৪ মিনিটে হেডে গোল করে সমতা ফেরান সেই ভার্গা। কিন্তু তার দুই মিনিট পরেই হাঙ্গেরি রক্ষণে ভুলের সুযোগ নিয়ে গোল করেন জোয়াও ক্যান্সেলো (Joao Cancelo)। তাঁর জোরালো শটেই জয় নিশ্চিত করে পর্তুগাল।
ম্যাচ শেষে কোচ মার্টিনেজের গলায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া। বললেন, ‘দু’গোল হজম করলে জয় পাওয়া কঠিন। কিন্তু আমি ছেলেদের মনোভাব আর ফোকাস দেখে খুশি। ম্যাচটা উন্নতির জন্য আদর্শ ছিল!’ অন্যদিকে বার্নার্ডো সিলভার মন্তব্য, ‘আমরা জানতাম ম্যাচটা জটিল হবে। ভুলও করেছি। তবে সবচেয়ে জরুরি ছিল ছয় পয়েন্ট পাওয়া। দলটা তরুণ, এখনও বেড়ে উঠছে। এই জয় অনেকটা এগিয়ে দিল!’
প্রসঙ্গত, হাঙ্গেরি এখনও পর্যন্ত কোনওদিন পর্তুগালকে হারাতে পারেনি। বিশ্বকাপে তাদের শেষ দেখা ১৯৮৬-তে। তার আগে-পরে প্রতিবার খালি হাতেই মাঠ ছাড়তে হয়েছে। গতকালের রাতও তার ব্যতিক্রম নয়। সব মিলিয়ে রোনাল্ডোর ঐতিহাসিক রাত তাই শুধু জয় নয়, বিশ্বকাপের সরণিতে পর্তুগালকে কয়েক কদম এগিয়ে দিল।