এমনিতে প্রতি বছর রমজানের তারিখ বদলায়। তবে ইংলিশ ফুটবল এখন ধর্মীয় প্রয়োজনকে সম্মান জানিয়ে নিয়মে নমনীয়তা দেখাচ্ছে।

ছবি: গুগল
শেষ আপডেট: 18 February 2026 12:08
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রমজান (Ramadan) শুরু। আর সেই সঙ্গে আগের মতোই ম্যাচের মাঝপথে সংক্ষিপ্ত বিরতি রাখার সিদ্ধান্তের কথা জানাল প্রিমিয়ার লিগ (Premier League) কর্তৃপক্ষ। টানা কয়েক বছর ধরে চালু থাকা এই নিয়ম এ বারও বহাল থাকবে। লক্ষ্য একটাই—রোজা রাখা ফুটবলারদের সূর্যাস্তের পর জল ও এনার্জি জেল নেওয়ার সুযোগ করে দেওয়া।
শুধু প্রিমিয়ার লিগ নয়, দ্বিতীয় ডিভিশনের ইংলিশ ফুটবল লিগও (English Football League) একই নীতি মেনে চলবে। ম্যাচ থামবে স্বল্প সময়ের জন্য। তবে তা কোনও ট্যাকটিক্যাল টাইম-আউট বা দলগত ড্রিঙ্কস ব্রেক নয়—শুধুমাত্র রোজা ভাঙার জন্য নির্দিষ্ট বিরতি।
বিরতির স্পষ্ট ধরন
খেলা মাঝপথে থামানো হবে না। গোলকিক, ফ্রি-কিক বা থ্রো-ইনের মতো স্বাভাবিক বিরতির সময়ই কয়েক মিনিটের জন্য খেলা থামবে। তার আগে রেফারি ও দুই দলের অধিনায়ক ঠিক করবেন, ব্রেকের আনুমানিক সময় ঠিক কখন হবে। এই বিরতিতে মুসলিম ফুটবলাররা জল ও এনার্জি জেল খেতে পারবেন। সূর্যাস্তের সময় অনুযায়ী ব্রিটেনে সন্ধ্যা প্রায় ৫টা থেকে ৭টার মধ্যে এর সম্ভাবনা বেশি। যে কারণে মূলত শনিবার ৫:৩০ ও রবিবার ৪:৩০–এর ম্যাচগুলোতেই এই দৃশ্য দেখা যেতে পারে।
প্রসঙ্গত, ২০২১ সালে প্রথম এই নিয়ম চালু হয়। লেস্টার সিটি (Leicester City) বনাম ক্রিস্টাল প্যালেস (Crystal Palace) ম্যাচে ওয়েসলি ফোফানা (Wesley Fofana) ও চেইখু কুয়াতের (Cheikhou Kouyate) জন্য গোলকিকের সময় খেলা থামানো হয়েছিল। সেই নজির এখন নিয়মিত প্রথা!
কোন কোন তারকা রয়েছেন তালিকায়?
বর্তমান প্রিমিয়ার লিগে একাধিক মুসলিম তারকা খেলছেন। তাঁদের মধ্যে আছেন মহম্মদ সালাহ (Mohamed Salah), উইলিয়াম সালিবা (William Saliba), রায়ান আইত-নুরি (Rayan Ait-Nouri), আমাদ দিয়ালো (Amad Diallo) প্রমুখ। প্রাক্তন এভারটন ফুটবলার আবদুলায়ে ডো’কুরে (Abdoulaye Doucoure) আগেই বলেছিলেন, ‘প্রিমিয়ার লিগে আপনি নিজের বিশ্বাস অনুযায়ী চলতে স্বাধীন। ধর্মের বিরুদ্ধে কিছু করা হয় না।’তাঁর মতে, রমজানে অনুশীলনের ধরন একই থাকে, শুধু খাবারের সময়সূচিতে বদল আসে।
ক্লাবগুলোর বাড়তি উদ্যোগ
শুধু লিগ নয়, এই সময় ক্লাবগুলিও বিশেষ উদ্যোগ নিয়ে থাকে। ২০২২ সালে লিভারপুলের (Liverpool) হয়ে খেলতে গিয়ে সাদিও মানে (Sadio Mane) জানান, রমজানের সময়ে ক্লাব অনুশীলনের সময় বদলে দিয়েছিল, যাতে রোজা রাখা ফুটবলারদের শারীরিক প্রস্তুতিতে সমস্যা না হয়।
এমনিতে প্রতি বছর রমজানের তারিখ বদলায়। তবে ইংলিশ ফুটবল এখন ধর্মীয় প্রয়োজনকে সম্মান জানিয়ে নিয়মে নমনীয়তা দেখাচ্ছে। মাঠে প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকলেও বিশ্বাসের জায়গায় আপস নয়—এই বার্তাই ছড়িয়ে দিচ্ছে প্রিমিয়ার লিগ।