ফিফার দাবি—এ সিদ্ধান্ত খাঁটি নিরাপত্তার জন্য। সমর্থকদের বড় অংশ মনে করছে—এটা নতুন বিজ্ঞাপন উইন্ডো খোলার কারচুপি।

ছবি: গুগল
শেষ আপডেট: 10 December 2025 12:15
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ছাব্বিশের বিশ্বকাপে প্রতিটি ম্যাচে দুই অর্ধে বাধ্যতামূলক তিন মিনিটের ‘হাইড্রেশন ব্রেক’ (hydration break) চালু করছে ফিফা (FIFA)। যুক্তি—খেলোয়াড়দের গরমের আঁচ থেকে বাঁচানো। যদিও শুনতে সাধু এই উদ্যোগ নিয়ে ইতিমধ্যে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। এটা কি সত্যিই ফুটবলারদের স্বার্থে আনা? নাকি বিরতির আড়ালে আরও বিজ্ঞাপন বেচার ব্যবসা ফাঁদতে চলেছে ফিফা?
আগে ‘কুলিং ব্রেক’দেওয়া হত কেবল তখনই, যখন মাঠের তাপমাত্রা ৩২ ডিগ্রি ছাড়িয়ে যেত। কিন্তু গত ক্লাব বিশ্বকাপ (Club World Cup) থেকেই নিয়ম বদলেছে। প্রায় প্রতিটি ম্যাচেই বিরতি দেওয়া হয়েছে। সেই নিয়ম আসন্ন বিশ্বকাপেও লাগু করা হবে। ফিফা জানিয়েছে, প্রতিটি অর্ধের ২২ মিনিট পেরোলেই তিন মিনিটের ব্রেক বাধ্যতামূলক।
কেন এ বিরতি?
মেক্সিকো সিটি, গুয়াডালাহারা আর মন্টেরেতে গরম খুব থাকে—এটা ঠিক। ক্লাব বিশ্বকাপের সময় এনজো ফারনান্দেজ পর্যন্ত বলেছিলেন, ‘বিপজ্জনক গরমে মাথা ঘুরছিল!’ সর মিলিয়ে ইংল্যান্ডের কোচ টমাস টুখেলের মন্তব্য, ‘বদলি খেলোয়াড়দের রোদে বের করাই বিপজ্জনক’। এই সব অভিযোগের পরই ফিফা সিদ্ধান্ত নিয়েছে—সব ম্যাচে বিরতি থাকবে।
আর এখানেই বিতর্ক। প্রশ্ন উঠছে—যেখানে গরম নেই, সেখানে কেন হাইড্রেশন ব্রেক? ফিফা যদিও পিছু হটতে নারাজ। টুর্নামেন্ট ডিরেক্টর মানোলো জুবিরিয়ার (Manolo Zubiria) স্পষ্ট বক্তব্য, ‘তাপমাত্রা, ছাদ, মাঠ—কিছুই বিবেচ্য নয়। প্রতিটি ম্যাচে দুই অর্ধে তিন মিনিটের বিরতি থাকবে।’
সন্দেহের কারণ
হাইড্রেশন ব্রেক মানেই ম্যাচে অতিরিক্ত বিরতি। যার অর্থ অতিরিক্ত বিজ্ঞাপন। অনেক সমর্থকের মতে, লক্ষ্য একটাই—সম্প্রচারের মধ্যে আরও কমার্শিয়াল ঢোকানো। কারণ, বিশ্বকাপ ২০২৬ নিয়ে ফিফার সিদ্ধান্তে বাণিজ্যিক ছাপ দেখা যাচ্ছে। যেমন, টুর্নামেন্ট ৪৮ দলে বাড়ানো, ম্যাচ সংখ্যা ১০৪-এ নিয়ে যাওয়া—যা ইতিহাসে সর্বোচ্চ, তিন দেশের বিস্তৃত ভেন্যু—যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো, কানাডা… কিংবা ‘ডাইনামিক প্রাইসিং’—টিকিটের দাম গ্রুপে ৬০ ডলার, ফাইনালে ৬,৭০০ ডলারও ছাড়িয়েছে!
ক্লাব বিশ্বকাপের সময় দেখা গিয়েছে, গ্যালারি ভরাতে টিকিটের দাম হুড়মুড় করে কমেছে। ফলে ধারণা আরও জোরালো—ফিফা এখন আগের চেয়ে বেশি বাণিজ্যকেন্দ্রিক।
খেলোয়াড়রা কি সত্যিই সুরক্ষিত?
অনেকের বক্তব্য, ফুটবলারতা ম্যাচ চলাকালীন কেবল ছোট চুমুকে জল খান। তিন মিনিটের বিরতি কি অহেতুক, অতিরিক্ত সময় বরাদ্দ নয়? যে কারণে এই ব্রেক ফুটবলারদের জন্য কতটা প্রয়োজন, তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। বরং, অতিরিক্ত বিরতি খেলায় ছন্দ ভাঙে কি না, তা নিয়েও চড়েছে আশঙ্কা।
শেষ কথা
ফিফার দাবি—এ সিদ্ধান্ত খাঁটি নিরাপত্তার জন্য। সমর্থকদের বড় অংশ মনে করছে—এটা নতুন বিজ্ঞাপন উইন্ডো খোলার কারচুপি। বিশ্বকাপে প্রতিটি ম্যাচে ‘জলপানের বিরতি’ থাকলে ফুটবলের গতি কতটা বদলাবে, তা বলবে সময়। আপাতত আসল প্রশ্নটা ঝুলে আছে—স্বাস্থ্য, না ব্যবসা—কাকে অগ্রাধিকার দিতে চাইছেন ইনফান্তিনোরা?