এটুকু নিশ্চিত—ভিলা আর ‘ডার্ক হর্স’ নয়। তারা এখন শিরোপা-আলোচনার বৈধ শরিক!

ছবি: গুগল
শেষ আপডেট: 22 December 2025 12:46
দ্য ওয়াল ব্যুরো: লিগ লিডার্স আপাতত আর্সেনাল। ১৭ ম্যাচে ৩৯ পয়েন্ট৷ দুইয়ে ম্যানচেস্টার সিটি (৩৭)। তিনে যে টিমের নাম জ্বলজ্বল করছে তারা না লিভারপুল, না চেলসি। সবাইকে চমকে দিয়ে লিগ জেতার রেসে তড়বড়িয়ে উঠে এসেছে অ্যাস্টন ভিলা! চকিতে চোখ ধাঁধিয়ে মিলিয়ে যাওয়ার বস্তু যে তারা নয়, সাম্প্রতিক সময়ে আর্সেনাল, গতরাতে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডকে হারিয়ে বুঝিয়ে দিয়েছে উনাই এমেরির ছাত্রেরা।
কিন্তু স্প্রিন্ট জেতা আর ম্যারাথন কব্জা করা আলাদা কিসিমের লড়াই৷ চ্যালেঞ্জের ধাঁচে আকাশ-পাতাল ফারাক। ধারাবাহিক ও লাগাতার দুরন্ত পারফরম্যান্স ছাড়া লিগ খেতাব হাতে আসে না। এর সারমর্ম দু'মরশুম আগে হাড়ে হাড়ে টের পেয়েছে ভিলা। জোর টক্কর দিয়েও টপ ফোর ফিনিশেই খুশি থাকতে হয়েছিল। এবার কি সেই ভুল থেকে শিক্ষা নেবেন মর্গ্যান রজার্সরা (Morgan Rogers)? জবাবের উপর প্রিমিয়ার লিগের ভবিষ্যতের অনেক কিছুই নির্ভর করছে।
দুর্গের নাম ‘ভিলা পার্ক’!
অ্যাস্টন ভিলার সবচেয়ে বড় শক্তি কোনও একক ফুটবলার নয়—সামগ্রিক কাঠামো। দলকে উনাই এমেরি (Unai Emery) যেভাবে সাজিয়েছেন, তাতে ম্যাচের ‘ক্রিটিক্যাল প্যাসেজ’-গুলো প্রায়ই তাদের দখলে থাকে। বল পায়ে রাখার সময় ধৈর্য, না রাখলে শৃঙ্খলা—এই দুইয়ের ভারসাম্যই ভিলাকে আলাদা করে তুলেছে।
সবচেয়ে চোখে পড়ছে ঘরের মাঠের আধিপত্য। ভিলা পার্ক (Villa Park) কার্যত অভেদ্য দুর্গ। এমেরির অধীনে ইউরোপে খুব কম দলই ঘরে এত ম্যাচ জিতেছে। এই সিজনে ঘরের জমিতে হার প্রায় নেই—এই তথ্যটা শিরোপা-আলোচনায় ঢোকার অন্যতম টিকিট। কারণ খেতাবি-দৌড়ে থাকা দলগুলোর একটাই মিল: হোম ফর্ম অটুট, ঘরের মাঠে সকলে অপ্রতিরোধ্য!
এখানেই ভিলার উন্নতি চোখে পড়ার মতো। গত মরশুমে টপ ফোরের লড়াইয়ে শেষদিকে ছন্দ খুইয়েছিল তারা। সেই জায়গায় রোটেশন, ম্যাচ ম্যানেজমেন্ট আর ‘কখন রিস্ক নেবে, কখন নয়’—এই বোধটা এবার পরিণত। আর্থিক সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও স্কোয়াডের ব্যবহার নিখুঁত। এই ধারাবাহিকতাই ভিলাকে শিরোপার কথোপকথনে রাখছে—অন্তত বড়দিন পেরোনো পর্যন্ত তো বটেই।
স্বপ্ন দেখাচ্ছেন রজার্স
গতকালের ম্যাচে পার্থক্য গড়ে দিলেন মর্গ্যান রজার্স (Morgan Rogers)। শুরুতে খেলায় খুব বেশি দেখা না গেলেও তিনি সুযোগ পেলেই ফায়দা লুটেছেন। বিশেষ করে ‘এক বনাম এক’ পরিস্থিতিতে তাঁর লং রেঞ্জ ড্রাইভ—এমেরির প্ল্যানে সোনার খনি।
ইউনাইটেডের রক্ষণে লেনি ইয়োরোর (Leny Yoro) বিপক্ষে রজার্স যখন নিজের শক্ত পায়ে কাট-ইন করলেন, তখন সিদ্ধান্তে সামান্য দেরিই সর্বনাশ ডেকে আনে। দু’টি গোলই দূরপাল্লার নিখুঁত স্ট্রাইক—গোলকিপারের দাঁড়িয়ে দেখা ছাড়া উপায় ছিল না। এই ধরনের ‘লো xG, হাই আউটপুট’ গোল কিন্তু শিরোপা-দৌড়ে বাড়তি পয়েন্ট এনে দেয়।
অন্যদিকে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড (Manchester United) বড় ধাক্কা খেল ব্রুনো ফার্নান্দেজের (Bruno Fernandes) চোটে। অধিনায়ক মাঠ ছাড়তেই ইউনাইটেডের মাঝমাঠের সংযোগ ভেঙে পড়ে। আক্রমণে গতি কমে, সেট-পিসে ধার নেমে যায়। চ্যাম্পিয়ন্স লিগের দৌড়ে থাকা দলের জন্য এমন মুহূর্তে ‘ইনফ্লুয়েন্সার’-কে হারানো মানে সুযোগ হাতছাড়া।
শিরোপা-স্বপ্ন: কতটা বাস্তব কতটা রোমাঞ্চ?
প্রশ্নটা সরল—ভিলা কি সত্যিই শিরোপা জিততে পারে? উত্তরে দু’টি স্তর। এক, পয়েন্ট-অঙ্ক। আর্সেনাল (Arsenal) এগিয়ে, ম্যানচেস্টার সিটি (Manchester City) ঠিক পেছনে। ভিলার হাতে এখনও কঠিন অ্যাওয়ে ম্যাচ আছে। আসছে শনিবারের চেলসি সফরই প্রথম পরীক্ষা। সেখানে পয়েন্ট হারালে ব্যবধান বাড়বে।
দুই, মানসিকতা। এমেরি নিজেই বলেছেন—‘আশাবাদী, কিন্তু বাস্তব ভুললে চলবে না!’ এই ‘বাস্তববাদ’-টাই ভিলার প্লাস। তারা জানে কখন আধিপত্য দেখানো উচিত, কখন ডিফেন্ড করে সময় নেওয়া জরুরি। স্কোয়াড ডেপথ সিটি বা আর্সেনালের মতো নয়—যা বড় চ্যালেঞ্জ। ইনজুরি এলে কীভাবে সামলাবেন এমেরি? এই প্রশ্ন কিন্তু শিরোপা-স্বপ্নের কাঁটা হয়ে উঠতে পারে।
তবু এটুকু নিশ্চিত—ভিলা আর ‘ডার্ক হর্স’ নয়। তারা এখন শিরোপা-আলোচনার বৈধ শরিক! বড়দিনের পরও যদি এই ছন্দ থাকে, যদি ঘরের দুর্গ অটুট থাকে, আর রজার্সদের মতো ম্যাচ-উইনাররা ধারাবাহিক থাকতে পারেন—তাহলে ম্যারাথনে শেষ পর্যন্ত টিকে থাকার স্বপ্ন আর অলীক নয়। প্রিমিয়ার লিগের চলতি মরশুমে সেটাই সবচেয়ে বড় চমক হতে চলেছে।