শনিবারের একগুচ্ছ দ্বৈরথ প্রমাণ করল কেন প্রিমিয়ার লিগ বিশ্বের সবচেয়ে রোমাঞ্চকর ফুটবল প্রতিযোগিতা। সিটির দাপট, স্পার্সের আত্মবিশ্বাসী সূচনা, সান্ডারল্যান্ডের স্বপ্নময় প্রত্যাবর্তন আর ওয়েস্ট হ্যামের অচলাবস্থা—সব মিলিয়ে নাটকীয়, রঙিন ফুটবলসন্ধ্যা।

লিভারপুল
শেষ আপডেট: 17 August 2025 10:28
দ্য ওয়াল ব্যুরো: শুক্রবার ছিল প্রিমিয়ার লিগের (EPL) বোধন। প্রয়াত ফুটবলার দিয়োগো জোতার (Diogo Jota) স্মৃতিকে বুকে ধরে রেখেই অ্যানফিল্ডে (Anfield) চিরাচরিত ছন্দে লিভারপুল (Liverpool)। হারাল বোর্নমাউথকে (Bournemouth)। চার গোলে। স্কোরলাইন ৪-২। একপেশে জয় নয়। ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে দু’গোলে পিছিয়ে থাকা বোর্নমাউথ প্রত্যাবর্তন করে। ছিয়াশি মিনিটে ফ্রেদরিকো কিয়েসা এবং সংযুক্ত সময়ে মহম্মদ সালাহর গোল লিভারপুলকে নাটকীয় জয় এনে দেয়।
শনিবারের প্রিমিয়ার লিগেও ধরা পড়ল একই ছবি। কেউ দেখাল দাপট, কেউ ঘটাল অঘটন, আবার কোনও ময়দানে জমজমাট নাটক! একেক মাঠে একেক ছবি—ভরপুর আধিপত্য, স্বপ্নময় প্রত্যাবর্তন আর হতাশার অন্ধকার মিলিয়ে শুরুতেই সুপার হিট লিগ ফুটবলের কার্নিভাল!
সিটি মানেই গোলের ঝড়
চ্যাম্পিয়ন ম্যানচেস্টার সিটি (Manchester City) কাল নেমেছিল উলভারহ্যাম্পটনের (Wolves) মাঠে। শুরুর অল্প সময় পর থেকেই ম্যাচের মোড় ঘুরে গেল। ৩৪ মিনিটে আর্লিং হালান্ড গোল করে এগিয়ে দিলেন দলকে। দ্বিতীয়ার্ধে ৬১ মিনিটে করলেন দ্বিতীয় গোল। এরই মধ্যে নতুন দলে আসা টিজ্জিয়ানি রেইনডার্স অসাধারণ এক ফিনিশে ব্যবধান বাড়ান। আর রায়ান চেরকির অন্তিমলগ্নের গোল কফিনে শেষ পেরেক। ৪–০ তে সিটির জয়—একপেশে লড়াই। উলভস কার্যত অসহায়। গার্দিওলার দল মরশুমের প্রথম দিনই আধিপত্যের বার্তা ছুড়ে দিল।
স্পার্সের উৎসব উত্তর লন্ডনে
টটেনহ্যামের (Tottenham Hotsapur) সিজনের প্রথম হোম ম্যাচ হয়ে উঠল উৎসব! নতুন কোচ টমাস ফ্রাঙ্কের অধীনে বার্নলির (Burnley) বিরুদ্ধে পয়লা নম্বর ম্যাচেই দাপট দেখাল স্পার্স। রিচার্লিসন করলেন জোড়া গোল—প্রথমটা ম্যাচের শুরুতেই, দ্বিতীয়টা সেকেন্ড হাফে হাওয়ায় শরীর ভাসিয়ে! দু’বারই অ্যাসিস্ট বাড়ালেন নতুন সতীর্থ মহম্মদ কুদুস। শেষদিকে ব্রেনান জনসন গোল করে ব্যবধান বাড়ালেন ৩–০। বার্নলি কার্যত দাঁড়াতেই পারেনি। গ্যালারিতে উল্লাসের ঢেউ! গেলবারের ইউরোপা লিগজয়ী টটেনহ্যাম সমর্থকরা এবার আরও বড় কিছুর স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছেন!
সান্ডারল্যান্ডের স্বপ্নের প্রত্যাবর্তন
দিনের সবচেয়ে আবেগঘন গল্প লিখল সান্ডারল্যান্ড (Sunderland)। দীর্ঘ বিরতির পর প্রিমিয়ার লিগে ফেরা। আর সেই কামব্যাক যে কতটা বর্ণময় হতে পারে তার নজির বুনে দিল নব্বই মিনিটে। ওয়েস্ট হ্যামের (West Ham) বিরুদ্ধে দ্বিতীয়ার্ধে গোলের বন্যা। ৬১ মিনিটে এলিজার মায়েন্দা দলকে এগিয়ে দেন। কিছুক্ষণের মধ্যেই ড্যান ব্যালার্ডের দুরন্ত হেড। আর ম্যাচের একেবারে শেষদিকে উইলসন ইসিদরে গোল করে জয়কে স্মরণীয় করে তুললেন। ফল ৩–০। ওয়েস্ট হ্যামের মাঝমাঠ ছন্নছাড়া, রক্ষণ ভঙ্গুর—ম্যানেজার গ্রাহাম পটারের জন্য এটা কেবল পরাজয় নয়, লজ্জার শুরুয়াত।
নাটক ব্রাইটনে
ব্রাইটন (Brighton) বনাম ফুলহাম (Fulham) ম্যাচে শেষ মুহূর্তের নাটক। দ্বিতীয়ার্ধে পেনাল্টি থেকে এগিয়ে যায় ব্রাইটন। কিন্তু রেফারি শেষ বাঁশি বাজানোর ঠিক আগে ফুলহামের রদ্রিগো মুনিজ গোল করে সমতা ফেরান। ফল ১–১।
ভিলার জেদ, নিউক্যাসলের হতাশা
রেড কার্ডের অভিশাপে অ্যাস্টন ভিলা (Aston Villa) দ্বিতীয়ার্ধে ১০ জনে নেমে গেলেও অবিচল জেদে লড়াই জারি রাখে। নিউক্যাসল (Newcastle United) আক্রমণের ঝড় তুলেও ভিলার দেয়াল ভাঙতে ব্যর্থ। আলেকজান্ডার ইসাক নেই। ফলে উইঙ্গার অ্যান্তনি গর্ডনকে সামনে রেখে দল সাজান ম্যানেজার এডি হাও। যদিও গোলের দরজা খোলেনি। ফল গোলশূন্য ড্র।
মোটেও উপর শনিবারের একগুচ্ছ দ্বৈরথ প্রমাণ করল কেন প্রিমিয়ার লিগ বিশ্বের সবচেয়ে রোমাঞ্চকর ফুটবল প্রতিযোগিতা। সিটির দাপট, স্পার্সের আত্মবিশ্বাসী সূচনা, সান্ডারল্যান্ডের স্বপ্নময় প্রত্যাবর্তন আর ওয়েস্ট হ্যামের অচলাবস্থা—সব মিলিয়ে নাটকীয়, রঙিন ফুটবলসন্ধ্যা।