লোথার ম্যাথাউজের মতো কিংবদন্তি ফুটবলারকে ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসাডার করে আদৌ কি বাংলার ফুটবলের কোনও উন্নতি হবে, নাকি এটা শুধুই চমক?

গ্রাফিক্স- দিব্যেন্দু দাস
শেষ আপডেট: 16 October 2025 13:08
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ডিসেম্বরে ভারত সফরে আসছেন লিওনেল মেসি। সফর চলাকালীন তিনি কলকাতাতেও আসবেন। কলকাতায় এবারই প্রথম পদার্পণ হচ্ছে না মেসির। এর আগে ২০১১ সালে তিনি আর্জেন্টিনার জাতীয় দলের হয়ে যুবভারতী স্টেডিয়ামে ভেনেজুয়েলার বিরুদ্ধে প্রীতি ম্যাচ খেলে গিয়েছেন। মেসির আগমন বার্তার মধ্যেই জানা গেল, দ্রুতই কলকাতায় আসতে পারেন আরও এক বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক। আর তিনি হলেন জার্মান কিংবদন্তি লোথার ম্যাথাউজ (Lothar Matthaus)।
জানা গিয়েছে বেঙ্গল সুপার লিগে (Bengal Super League) ম্যাথাউজকে ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসাডর (Brand Ambassador) করার পরিকল্পনা নিয়েছে বাংলা ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা আইএফএ (IFA)। শ্রাচী স্পোর্টস গ্রুপের সহায়তায় আইএফএ এই লিগের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করে চলতি বছরের জুলাই মাসে। ইতিমধ্যেই ম্যাথাউজের সঙ্গে কথা বলতে জার্মানি গিয়েছেন শ্রাচী গ্রুপের দুই শীর্ষ কর্তা। সব কিছু ঠিক থাকলে আগামীকাল (শুক্রবার) সরকারি ভাবে জার্মান কিংবদন্তির নাম ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসাডর হিসাবে ঘোষণা হতে পারে।
তৃণমূল স্তর থেকে প্রতিভা তুলে আনার জন্য আইএফএ এই টুর্নামেন্ট করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আইএসএল-এর মডেলে এই টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত হবে জেলা ভিত্তিক দল নিয়ে। আটটি টিম নিয়ে হবে এই প্রতিযোগিতা। প্রতিটি দল তিন জন করে বিদেশি খেলাতে পারবে।
আইএফএ-র এই সিদ্ধান্ত হয়তো নতুন প্রতিভার জন্ম দেবে। তবে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে একাধিক। এমনিতেই জাতীয় দলে বাংলার ফুটবলার খুঁজতে হলে আতস কাচও যথেষ্ট নয়। জেলাগুলিতে ফুটবল কাঠামো নেই বললেই চলে। ফলে সেরকম ফুটবলারও উঠে আসছে না। যে কলকাতা লিগ একসময় বাংলার নতুন ফুটবলারদের উঠে আসার অন্যতম মঞ্চ ছিল, তার হাল এখন বেহাল। নমো নমো করে চলছে আইএফএ শিল্ড, তাও আবার প্রতি বছর নয়। তাই লোথার ম্যাথাউজের মতো কিংবদন্তি ফুটবলারকে ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসাডার করে আদৌ কি বাংলার ফুটবলের কোনও উন্নতি হবে, নাকি এটা শুধুই চমক? এই প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছেন অনেকেই।
সোশ্যাল মিডিয়ায় আলোচনা চলছে, ম্যাথাউজের পিছনে টাকা খরচ না করে সেটা যদি বাংলার ফুটবলের পরিকাঠামোর পিছনে খরচ করা হতো, তাহলে কাজের কাজ হতো। কারণ এর আগেও কলকাতায় পা রেখেছেন অনেক তাবড় ফুটবলার। পেলে, মারাদোনা, অলিভার কান, রেনে হিগুয়েতা, লিওনেল মেসি-সহ অনেক কিংবদন্তি ফুটবলারকে দেখেছে কলকাতা। পেলে তো মোহনবাগানের বিরুদ্ধে ম্যাচও খেলেছেন। তবে তখনকার বঙ্গ ফুটবল ছিল আলাদা। ভারতীয় দল মানেই তখন একঝাঁক বাঙালি। কিন্তু কালের স্রোতে বর্তমান জাতীয় দলে মাত্র দুজন বাঙালি- শুভাশিস বোস ও রহিম আলি।
বিশ্বখ্যাত ফুটবলাররা এসে চমক সৃষ্টি করতে পারেন। এর মধ্যে একটা লোক দেখানো ভাব থাকে। প্রচুর উন্মাদনা তৈরি হয়। কিন্তু বঙ্গ ফুটবলের উন্নতি আদৌ হচ্ছে কি? বরং তারকাদের পিছনে টাকার থলি নিয়ে না ছুটে সেই অর্থ যদি রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে অ্যাকাডেমি তৈরির জন্য, বা নিম্নবিত্ত পরিবার থেকে উঠে আসা ফুটবলারদের পিছনে খরচ করা হয়, তাহলে কিন্তু বাংলার ফুটবলেরই লাভ হতো। বাংলার প্রত্যন্ত অঞ্চলগুলিতে অনেক প্রতিভাসম্পন্ন তরুণ বা কিশোর ফুটবলার রয়েছেন, যাঁদের ঠিক মতো দেখভাল করলে সম্পদ হয়ে উঠতে পারেন। কিন্তু তাঁদের সঠিক পুষ্টি তো দূরে থাক, সামান্য বুট কেনারও পয়সা নেই। উপার্জনের জন্য খেপ খেলতে গিয়ে চোট পেয়ে শেষ হয়ে যাচ্ছে তাঁদের কেরিয়ার। শুধু গ্রামে-গঞ্জে নয়, মফস্বল শহরগুলিতে তাকালেও এই দৃশ্য চোখে পড়বে। তাই ভাল অ্যাকাডেমি, ভাল কোচ, যথেষ্ট সুযোগ-সুবিধার দিকে নজর দেওয়া উচিত আইএফএ-র। ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসাডর করে বিশ্বজয়ী ফুটবলারকে আনলে কি সত্যিই কোনও উন্নতি হবে বাংলার ফুটবলের? ভাবুন কর্তারা ভাবুন।