চেলসির স্পনসরহীন শার্ট এটা ঝুঁকি—কিন্তু অন্ধ ঝুঁকি নয়। হিসেবি অপেক্ষা। মাঠে যেমন তরুণদের উপর বিনিয়োগ করে ভবিষ্যৎ বানাচ্ছে, তেমনি সময় নিচ্ছে বোর্ডরুমেও।

রিস জেমস
শেষ আপডেট: 27 January 2026 13:55
দ্য ওয়াল ব্যুরো: প্রিমিয়ার লিগে (Premier League) চেলসি (Chelsea) এক অদ্ভুত ব্যতিক্রম। মাঠে সবচেয়ে কম বয়সি স্কোয়াড। ট্রান্সফার বাজারে আগাম বিনিয়োগ। আর শার্টের সামনে—ফাঁকা! পুরোপুরি লোগো-শূন্য। কারণ, ইংল্যান্ডের শীর্ষ লিগে একমাত্র ক্লাব হিসেবে চেলসির এখনও কোনও দীর্ঘমেয়াদি ফ্রন্ট-অফ-শার্ট স্পনসর নেই।
বাইরে থেকে দেখলে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক—এত বড় ব্র্যান্ড, এত বড় মঞ্চ, তবু কেন এই রিক্ততা? যদিও ক্লাবের অন্দরমহলে বার্তা একেবারে আলাদা। ওটা শূন্যতা নয়, আসলে হিসেবি অপেক্ষা।
স্পনসর নেই মানে পিছিয়ে থাকা নয়
২০২২–২৩ মরশুমে টেলিকম সংস্থা থ্রি-র (Three) সঙ্গে চুক্তি শেষ হওয়ার পর থেকে চেলসির শার্টে স্থায়ী কোনও স্পনসর নেই। মধ্যে এসেছে ইনফিনিট অ্যাথলিট (Infinite Athlete), শেষ মরশুমে কয়েক ম্যাচের জন্য ডামাক (DAMAC)। কিন্তু দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি হয়নি। ডেলয়েটের ফুটবল মানি লিগ (Deloitte Football Money League) বলছে, ২০২৪–২৫ মরশুমে চেলসির বাণিজ্যিক আয় ছিল প্রায় ২০১ মিলিয়ন পাউন্ড—ভারতীয় হিসেবে প্রায় ২,১০০ কোটি টাকা। এই অঙ্ক লিভারপুল (Liverpool), ম্যানচেস্টার সিটি (Manchester City), আর্সেনাল (Arsenal), ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড (Manchester United) ও টটেনহ্যামের (Tottenham Hotspur) থেকে প্রায় ৬০০–৭০০ কোটি টাকা কম। ক্লাবের অন্দরমহলের মতে, ফ্রন্ট-শার্ট স্পনসর থাকলে ব্যবধানটা কমত ঠিকই। কিন্তু ভুল চুক্তিতে আরও বড় বিপদ আসার সম্ভাবনা ছিল ষোলো আনা।
এই পরিস্থিতিতে চেলসির যুক্তি পরিষ্কার: বাজারমূল্যের চেয়ে কম দামে বহু বছরের চুক্তিতে বাঁধা পড়ার থেকে কিছুদিন আয় ছাড়াই অপেক্ষা ভালো।
রোমান যুগ থেকে বোয়েলি অধ্যায়—বদলে যাওয়া দর্শন
রোমান আব্রামোভিচ (Roman Abramovich) যুগে চেলসি মানেই নিশ্চিত চ্যাম্পিয়ন্স লিগ (Champions League), একটা না একটা ট্রফি আর নিখুঁত ধারাবাহিকতা। সেই সময় স্যামসাং (Samsung), ইয়োকোহামা টায়ারস (Yokohama Tyres), থ্রি—দীর্ঘমেয়াদি স্পনসর আসত সহজেই।
কিন্তু টড বোয়েলি (Todd Boehly) ও ক্লিয়ারলেক ক্যাপিটালের (Clearlake Capital) হাতে মালিকানা যাওয়ার পর লন্ডনের ক্লাব আপাতত রূপান্তরের আবর্তে। ২০২২–২৩-এ লিগে ১২তম হওয়া, স্কোয়াড ও স্টাফে বড়সড় বদল—এই অনিশ্চয়তা স্পনসরদের জন্য যথেষ্ট ঝুঁকিপূর্ণ।
তবে সাম্প্রতিক ছবিটা বদলেছে। চেলসি কনফারেন্স লিগ (Conference League), ক্লাব বিশ্বকাপ (Club World Cup) জিতেছে—যেখান থেকে আয় প্রায় ৮৮০ কোটি টাকা। আবার চ্যাম্পিয়ন্স লিগেও ফিরেছে। ক্লাবের অন্দরমহলের মতে, এখন তারা এমন জায়গায় পৌঁছেছে, যেখানে ‘বড় অঙ্কের’ স্পনসর দাবি করা যেতে পারে।
অপেক্ষার মূল্য দিতে প্রস্তুত চেলসি
ক্লাবের সূত্র বলছে, স্পনসর খোঁজ থেমে নেই। প্রযুক্তি (Technology) ও ফিনান্সিয়াল সার্ভিসেস (Financial Services) সেক্টরই মূল লক্ষ্য। শুধু টাকা নয়—ডেটা, এআই (AI), ফ্যান এনগেজমেন্ট—সব মিলিয়ে দীর্ঘমেয়াদি পার্টনারশিপ চায় চেলসি।
এর পাশাপাশি অন্য আয়ের পথও খুলছে। স্ট্যামফোর্ড ব্রিজে (Stamford Bridge) নতুন মিলেনিয়াম স্যুটস (Millennium Suites) থেকে শুরু করে কোবহ্যামে (Cobham) ট্রেনিং গ্রাউন্ড স্পনসরশিপ—সব মিলিয়ে রাজস্বের নতুন রাস্তা প্রশস্ত হচ্ছে। ১৩ জন গ্লোবাল পার্টনার ইতিমধ্যেই যুক্ত রয়েছে। বাণিজ্যিক বিশেষজ্ঞের ভাষায়, ‘আজ কম নিলে কাল বড় নেওয়ার জায়গা থাকবে না!’ চেলসির দর্শনও সেটাই। সাময়িকভাবে বছরে সম্ভাব্য ৪০০–৫০০ কোটি টাকা হাতছাড়া হলেও, ভবিষ্যতে সঠিক ব্র্যান্ডের সঙ্গে বহু হাজার কোটি টাকার চুক্তির লক্ষ্যে তারা ধৈর্য ধরতে রাজি।
শেষ কথা
চেলসির স্পনসরহীন শার্ট এটা ঝুঁকি—কিন্তু অন্ধ ঝুঁকি নয়। হিসেবি অপেক্ষা। মাঠে যেমন তরুণদের উপর বিনিয়োগ করে ভবিষ্যৎ বানাচ্ছে, তেমনি সময় নিচ্ছে বোর্ডরুমেও।