ঘরের মাঠে ম্যানচেস্টার সিটিকে আটকে দিল অভিভাবকহীন চেলসির। এই ড্রয়ের ফলে প্রিমিয়ার লিগের খেতাব দৌড়ে বাড়তি সুবিধা পেয়ে গেল আর্সেনাল।

ম্যানচেস্টার সিটি-চেলসির খেলা
শেষ আপডেট: 5 January 2026 08:21
দ্য ওয়াল ব্যুরো: নভেম্বরে যিনি প্রিমিয়ার লিগের সেরা কোচ নির্বাচিত হন, সেই এনজো মারেসকাকে পয়লা জানুয়ারি ছাঁটাই করে দিয়েছে চেলসি। দলে এই মুহূর্তে কোনও হেডকোচ নেই। ঢাল-তরোয়াল ছাড়া নিধিরাম সর্দার বলা না গেলেও কার্যত দিশাহীন, অভিভাবকহীন একটা টিম৷ যাদের ‘ম্যানেজ’ করতে আপৎকালীন পরিস্থিতিতে অনূর্ধ্ব-২১ দলের কোচকে চেয়ারে বসানো হয়েছে! আর এহেন চরম সঙ্কটজনক পরিস্থিতিতে সামনে কে? না দুর্দান্ত ম্যানচেস্টার সিটি! যারা প্রিমিয়ার জয়ের লক্ষ্যে দুরন্ত ছন্দে আগুয়ান। ক্লাব আর দেশের হয়ে চলতি সিজনে ৩১ গোল করে ফেলেছেন এর্লিং হালান্ড (Erling Haaland)। ফিল ফোডেন (Phil Foden)-ও চেনা মেজাজে। রক্ষণ গোড়ায় নড়বড়ে দেখালেও এখন বেশ জমাট, অটুট!
কিন্তু ইতিহাসের লিখন কি আর বদলানো যায়! অতীতেও যখন চেলসিকে আন্ডারডগ মনে করেছে সবাই, বারবার চমকে দিয়ে হয় জয় নয়তো নিদেনপক্ষে ড্র ছিনিয়ে নিয়েছে ‘দ্য ব্লুজ’-রা। গতকাল এতিহাদে ম্যান সিটির ঘরের মাঠেও তার অন্যথা হল না। ম্যাচের প্রায় পুরোটাই ব্যাকফুটে থাকা, স্রেফ ডিফেন্ড করে চলা চেলসি সংযুক্ত সময়ে সমতা ফিরিয়ে চুরি করল এক পয়েন্ট। খাতায়-কলমে এক-ই। কিন্তু টপ ফোরের দৌড়ে টিকে থাকতে আগামী দিনে মূল্যবান হয়ে উঠতে পারে৷ অন্যদিকে নিশ্চিত জয় হাতছাড়া করে প্রিমিয়ার লিগ জয়ের লক্ষ্য থেকে বেশ খানিকটা দূরেই সরে গেল গুয়ার্দিওলার সিটি। সব মিলিয়ে সুপার সানডের রাতে জমজমাট দ্বৈরথের সাক্ষী রইল ফুটবল মহল।
প্রথমার্ধে ম্যাচের রাশ ছিল পুরোপুরি সিটির হাতে। মাঝমাঠে রদ্রি (Rodri) ফিরে আসায় গতি আর নিয়ন্ত্রণ—দুটোই ছিল আলাদা মাত্রায়। তিন মাস পর প্রথম একাদশে নেমে তিনি শুধু বল উদ্ধারই করেননি, খেলা ছড়িয়ে দেওয়ার কাজটাও নিখুঁতভাবে সামলেছেন। সেই কাঠামোর ওপর ভর করেই ৩৭ মিনিটে গোল। বক্সের ধারে আলগা বল কুড়িয়ে বেনুয়া বাদিয়াশিলকে (Benoît Badiashile) কাটিয়ে বাঁ-পায়ে নিখুঁত ফিনিশ তিজানি রেইনডার্সের (Tijjani Reijnders)। হাফটাইমে ১–০। ম্যাচ তখন সিটিরই নিয়ন্ত্রণে।
যদিও বিরতির পর ছবিটা বদলাতে শুরু করে। চেলসি শুধু বসে থাকেনি। মাঝমাঠে রিস জেমসের চাপ, উইংয়ে পেদ্রো নেতোর (Pedro Neto) দৌড়—সব মিলিয়ে সিটির রক্ষণে অস্বস্তি বাড়ে। ৫৫ মিনিটে নেতোর সুযোগ নষ্ট না হলে স্কোরলাইন অনেকটাই বদলে যেতে পারত। বদলি হিসেবে নেমে লিয়াম ডেলাপ (Liam Delap) পায়ে বল ধরে রাখায় চেলসি একটু হলেও শ্বাস নেওয়ার সময় পায়।
সিটির হাতে এন্তার সুযোগ আসে ম্যাচ শেষ করার। কিন্তু হালান্ডের দু’টি সুযোগ—একবার পোস্টে, একবার ফিলিপ ইয়র্গেনসেনের (Filip Jørgensen) রিফ্লেক্স সেভে—ফলাফল বদলায়নি। আর প্রিমিয়ার লিগে এমন জায়গায় সুযোগ মিস করলে শাস্তির খাঁড়া নামবেই নামবে!
ঠিক তাই হল সংযুক্ত সময়ে। ডান দিক থেকে নিচু ক্রস। প্রথম দু’বার ঠেকাল সিটি রক্ষণ। তৃতীয় চেষ্টায় বল জালে ঠেলে দিলেন এনজো ফার্ন্দান্দেজ (Enzo Fernández)। গোলের পর গ্যালারি স্তব্ধ। বুঝিয়ে দিচ্ছিল, পুরো পরিস্থিতি এবার কতটা জটিল হতে চলেছে। সিটির আট ম্যাচের ঘরের মাঠের জয়যাত্রা থামল। দুই সপ্তাহে দু’টি ড্র—আর আর্সেনাল (Arsenal) লিগ টেবিলের শীর্ষে ছ’পয়েন্টের লিড তৈরি করল।
অন্যদিকে চেলসির কাছে এই ড্র মানে শুধু এক পয়েন্ট নয়। কোচশূন্য পরিস্থিতিতে দল হিসেবে টিকে থাকার প্রমাণ। সিটির কাছে বার্তা আরও স্পষ্ট—খেতাব দৌড়ে টিকে থাকতে গেলে এমন ভুলের আর কোনও জায়গা নেই।