রেফারি বিতর্কিত পেনাল্টি না দিলে কাতার ম্যাচ থেকে এক পয়েন্ট নিয়েই মাঠ ছাড়তে পারত ভারতের অনূর্ধ্ব ২৩ দল।

ভারতীয় অনূর্ধ্ব ২৩ ফুটবল দল
শেষ আপডেট: 7 September 2025 13:14
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভারতীয় কোচেরাই যে দেশের ফুটবলের উন্নয়নের অন্যতম হাতিয়ার হতে পারেন, তা আগে রহিম স্যার, পিকে বন্দ্যোপাধ্যায়রা দেখিয়ে গিয়েছেন। চিরিচ মিলোভান ছাড়া আর কোনও বিদেশি কোচ ভারতকে সাফল্য এনে দিতে পারেননি। অথচ বিদেশ থেকে কোচ নিয়ে এসে তাঁদের পিছনে কাড়ি কাড়ি টাকা খরচ করা হয়েছে, কিন্তু কোথায় সাফল্য?
সম্প্রতি অবশ্য দেখা যাচ্ছে, দেশের কোচেই ভরসা রাখছে ফেডারেশন। ভারতের সিনিয়র ও অনূর্ধ্ব ২৩ দলের কোচ যথাক্রমে খালিদ জামিল ও নৌশাদ মুসা। দু’জনেই ভারতীয়। আর এঁদের আমলে কিন্তু ভারতীয় ফুটবলকে আগের থেকে অনেক গোছানো লাগছে। খালিদ সম্প্রতি ভারতীয় দলের প্রধান কোচ হয়েছেন। তবে মুসা কিন্তু অনেকদিন ধরেই যুব দলের দায়িত্ব সামলাচ্ছেন। আর তাঁর দলের পারফরম্যান্স কিন্তু বেশ চমকপ্রদ।
ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে ভারতের থেকে আশি ধাপ এগিয়ে কাতার। যারা সর্বশেষ বিশ্বকাপ ফুটবলের আয়োজক ছিল। সেই দলকেই প্রায় আটকে দিয়েছিল মুসার ছাত্ররা। রেফারি বিতর্কিত পেনাল্টি না দিলে কাতার ম্যাচ থেকে এক পয়েন্ট নিয়েই মাঠ ছাড়তে পারত ভারতের অনূর্ধ্ব ২৩ দল।
শনিবার এএফসি অনূর্ধ্ব ২৩ এশিয়ান কাপ কোয়ালিফায়ার্সের (AFC U23 Asian Cup Qualifiers) ম্যাচে কাতারের মুখোমুখি হয়েছিল ভারত (India Vs Qatar)। ম্যাচে ভারত হেরেছে ১-২ গোলে। কিন্তু এদিন মোটেও হেরে যাওয়ার মতো খেলেননি নিকসন, সুহেল, নামতেরা। প্রতিপক্ষ শক্তিশালী ছিল বলে মোটেও গুটিয়ে যাননি ভারতীয় ফুটবলাররা। রক্ষণে ভিড় না বাড়িয়ে একের পর এক আক্রমণ করে কাতার ডিফেন্সকে ব্যস্ত রেখেছিল ভারত।
দোহার আবদুল্লা বিন খলিফা স্টেডিয়ামে ম্যাচের ১৮ মিনিটে এগিয়ে যায় কাতার। কর্নার থেকে ভেসে আসা বলে মাথা ছুঁইয়ে গোল করেন আল হাশমি মহিয়ালদিন। গোল খেয়েই মাঝমাঠ দখল নেওয়ার চেষ্টায় মরিয়া হয়ে ওঠে মুসার ছাত্ররা। ৪১ মিনিটে ডানদিক থেকে পার্থিব গগৈয়ের একটা ক্রস কাতার ডিফেন্সকে অস্বস্তিতে ফেলে দিয়েছিল। প্রথমার্ধের সংযোজিত সময়ে আরও একটা সুযোগ পায় ভারত। কাতারের গোলরক্ষক আলি মহম্মদ গুলাইস তা বিপদমুক্ত করেন। এক গোলে পিছিয়ে থেকেই বিরতিতে যায় ভারত।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকেই গোল শোধের জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে ভারত। অবশেষে ৫২ মিনিটে দুরন্ত হেডে গোল করে ‘ব্লু কোল্টস’কে সমতায় ফেরান মহম্মদ সুহেল। গোল পাওয়ার পর আরও আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে ভারত। কিন্তু এরপরই এল রেফারির সেই বিতর্কিত সিদ্ধান্ত। ৬৫ মিনিটে লাল কার্ড দেখেন পরমবীর। পেনাল্টি পায় কাতার। ৬৭ মিনিটে পেনাল্টি থেকে কাতারকে এগিয়ে দেন জাসেম আল শারশানি।
১০ জনে হয়ে গেলেও পিছিয়ে থাকা ম্যাচ থেকে হারিয়ে যায়নি নৌশাদ মুসার ছাত্ররা। ৫১ শতাংশ বল পজিশন ছিল ভারতের পক্ষে। ইনজুরি সময়ে একটা কর্নারও পায় ভারত। তবে গোল হয়নি। শেষ পর্যন্ত ১-২ গোলে হেরেই মাঠ ছাড়তে হয় ভারতকে।
এই ম্যাচ থেকে ভারতের প্রাপ্তি অনেক। হার না মানা মানসিকতা দেখিয়ে যে অদম্য লড়াই সুহেল, শানন, সাহিলরা করেছেন তা প্রশংসা কুড়িয়ে নিচ্ছে। হেরে গেলেও এএফসি অনূর্ধ্ব-২৩ এশিয়ান কাপের মূলপর্বে যাওয়ার রাস্তা এখনও বন্ধ হয়ে যায়নি ভারতের। ব্রুনেইকে কাতার ১৩ গোলে হারিয়েছিল। ভারত যদি ব্রুনেইকে বেশি গোলে হারাতে পারে তাহলে গ্রুপের দ্বিতীয় বেস্ট টিম হিসাবে তারা পরবর্তী রাউন্ডে যাবার বড় দাবিদার। ৯ সেপ্টেম্বর ব্রুনেইয়ের বিরুদ্ধে নামবে ভারত। এর আগে শক্তিশালী বাহারিনকে ২-০ গোলে হারিয়েছিল মেন ইন ব্লুজ।