মনোনয়ন জমা দেওয়ার পর এককালের হরিহর আত্মা সৃঞ্জয়-দেবাশিস এক সঙ্গে প্রেস কনফারেন্সও ও করলেন। তাঁদের দেখে তখন কে বলবে, কয়েকদিন আগেও একে অপরের যুযুধান প্রতিপক্ষ হয়ে কাদা ছোড়াছুড়ি করেছেন।

সৃঞ্জয় ও দেবাশিস
শেষ আপডেট: 9 June 2025 18:16
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মোহনবাগানের নির্বাচনে (Mohunbagan Election) ভোটাভুটি এড়িয়ে যে একটা রফাসূত্র খোঁজার চেষ্টা হচ্ছে তা সবার আগে লিখেছিল দ্য ওয়াল। সোমবার যেন সেটাই বাস্তবে পরিণত হল। এদিন ছিল মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ তারিখ। কোনও সমস্যা ছাড়াই সচিব পদে মনোনয়ন জমা দিলেন সৃঞ্জয় বসু আর সভাপতি পদে বর্তমান সচিব দেবাশিস দত্ত।
মনোনয়ন জমা দেওয়ার পর এককালের হরিহর আত্মা সৃঞ্জয়-দেবাশিস এক সঙ্গে প্রেস কনফারেন্সও ও করলেন। তাঁদের দেখে তখন কে বলবে, কয়েকদিন আগেও একে অপরের যুযুধান প্রতিপক্ষ হয়ে কাদা ছোড়াছুড়ি করেছেন। এদিন দুইজনকে দেখে মনে হল পুনর্মিলনের এই আবহে তাঁরাই সব থেকে খুশি হয়েছেন। তিন বছর পর ফের সচিব হতে চলেছেন টুটু বসুর পুত্র সৃঞ্জয়। দেবাশিসের মুখে প্রশস্ত হাসি দেখে মনে হল, এককালের পরম বন্ধু সচিব হচ্ছেন দেখে তাঁর থেকে খুশি আর কেউ হননি। পাশাপাশি এদিন কর্মসমিতির পদে ২১ জন মনোনয়ন জমা দিয়েছেন। এক্ষেত্রেও শোনা গিয়েছে, দুই শিবিরেরই রয়েছেন ফিফটি-ফিফটি।
মনোনয়ন জমা দেওয়ার পর সৃঞ্জয় বসু বলেছেন, “সব জায়গায় গণতন্ত্র থাকা উচিত। গণতন্ত্র না হলে সদস্যদের সঙ্গে যোগসূত্র থাকে না। এই সদস্যদের সঙ্গে জনসংযোগ তৈরি করা ক্লাবের অন্যতম লক্ষ্য। দুই পক্ষই একসময় নির্বাচন চেয়েছি। কোনও বিরোধী পক্ষ না থাকলে গণতন্ত্র থাকত না। তবে, কোথাও একটা লাগাম দেওয়া উচিত। সব কিছুরই সময় আসে উপলব্ধি করার। এই দুটো কমিটি আগেও এক সঙ্গে কাজ করেছে। ব্যক্তিগত সমস্যার জন্য মাঝে আলাদা হয়েছিলাম। আলাপ আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধান হয়। আমি একটা পয়েন্ট নিয়ে বলেছি। দেবাশিসদা একটা পয়েন্ট বলেছে। টুবলাই বলেছে। দুজনে একসময় মোহনবাগানের সেরা একাদশ গড়েছি। এক সঙ্গে মিলেছি। ২২ জনের টিম। শ্রেষ্ঠ মোহনবাগান টিম।”
দেবাশিস সাংবাদিক সম্মেলনে বলেন, “বিলম্বিত হওয়াতে সুবিধা হয়েছে। সদস্যদের বক্তব্য আমরা শুনতে পেয়েছি। মোহনবাগানের ঐতিহ্য বজায় রয়েছে। সৃঞ্জয় আমার ভাল বন্ধু, আমরা বহুদিন এক সঙ্গে কাজ করেছি। কোনও কারণে হয়তো দুটো দল তৈরি হয়েছিল। দুটো দল ভেঙে একটা কমিটি এবার তৈরি হচ্ছে। এই টিমের নাম মোহনবাগান টিম। মোহনবাগান ক্লাব সবচেয়ে বড় প্রতিষ্ঠান। মোহনবাগান ক্লাব সোসাইটির অংশ। সব মানুষই কিছু না কিছু ভাবে উদ্যোগ নিয়েছিল। রাজনৈতিক ভাবে দেখতে চাইনা। এক সঙ্গে কাজ করি। সবাই মোহনবাগানী।”
সৃঞ্জয়ের ভাই সঞ্জয় ঘোষের (বাপ্পা) বাদ পড়া প্রসঙ্গে দেবাশিস বলেন, “বাদ কেউ যায়নি। টুম্পাই ২০১৮ সাল পর্যন্ত এই মোহনবাগান দলের অংশ ছিল। মোহনবাগান-ইস্টবেঙ্গলে সিপিএম, তৃণমূল দেখা উচিত নয়।”
আসলে মোহনবাগানের নির্বাচন নিয়ে কয়েকদিন আগেও তুমুল শোরগোল চলছিল। কিন্তু বাগান সমর্থকরা এই বিতর্ক মন থেকে মেনে নিতে পারছিলেন না। পাশাপাশি শতবর্ষ প্রাচীন ক্লাবের এই বিতর্ক নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়েছিলেন স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আগ্রহে এর পর দৌত্যে নামে ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস ও দলের মুখপাত্র কুণাল ঘোষ। তাঁদের দৌত্যে এদিন চূড়ান্ত সিলমোহর পড়ল এদিন, তা বলাই যায়।