৩৭ মিনিটে আসে বিতর্কিত প্রথম গোল। গুলের এমবাপেকে নিশান করে শর্ট পাস বাড়ান। ফ্রেঞ্চ ফরোয়ার্ড ঘুরে দাঁড়িয়েই ডান কোণায় জড়িয়ে দেন।

কিলিয়ান এমবাপে
শেষ আপডেট: 25 August 2025 11:13
দ্য ওয়াল ব্যুরো: শনিবার পিছিয়ে পড়ে তিন গোল মেরেছিল বার্সেলোনা (Barcelona)। এবার একটিও গোল না খেয়ে লা লিগায় (La Liga) রিয়াল মাদ্রিদ (Real Madrid) ৩–০ ব্যবধানে হারাল রিয়াল ওভিয়েদোকে (Oviedo)। অবনমনের প্রায় পঁচিশ বছর পর স্পেনের শীর্ষ লিগে ফেরা ওভিয়েদোর জন্য দিনটা ছিল উৎসবের। স্টেডিয়াম ভর্তি সমর্থক, তুমুল আওয়াজে সরগরম। কিন্তু সমস্ত আয়োজনে জল ঢেলে দেন কিলিয়ান এমবাপে ও ভিনিসিয়াস জুনিয়র। ফরাসি স্ট্রাইকারের জোড়া গোলের পর সংযুক্ত সময়ে খাতা খুলে ওভিয়েদোর কফিনে শেষ পেরেকটি পুঁতে দেন ভিনি।
প্রথম ম্যাচে ওসাসুনার বিরুদ্ধে ১–০ ব্যবধানে কষ্টার্জিত জয়ের পর এই ম্যাচে প্রথম একাদশে দু’টি বদল আনেন কোচ জাবি আলোনসো। বেঞ্চে ভিনিসিয়ুস ও ট্রেন্ট আলেকজান্ডার-আর্নল্ড। সুযোগ পান রদ্রিগো গোঁয়েস ও চোট কাটিয়ে ফেরা অধিনায়ক দানি কার্ভাহাল। হয়তো কোচের সিদ্ধান্ত মেনে নিতে পারেননি ভিনি। তেতে ছিলেন। তাই পরে বদলি হিসেবে নেমে আধঘণ্টায় একটি অ্যাসিস্ট বাড়িয়ে ও এক গোল করে জবাব দিয়ে দেন!
লড়াই জিতে আলোনসোর মন্তব্য, ‘খুব গুরুত্বপূর্ণ একটা ম্যাচ। বল পায়ে ও বল ছাড়া—টিম হিসেবে খেলেছি। ভিনিও পরে নেমে দু’গোলের ক্ষেত্রে ছাপ ফেলেছে। এতে স্বস্তি বেড়েছে। সবাই সুযোগ পাবে। সিদ্ধান্তগুলো দলের কথা ভেবেই নেওয়া হয়, আজও তাই হয়েছে!’
আর্জেন্তিনীয় বিস্ময়-প্রতিভা ফ্রাঙ্কো মাস্তান্তুওনোর ছিল রিয়ালের জার্সি গায়ে প্রথম একাদশে পূর্ণ অভিষেক। বছর আঠারোর ফরোয়ার্ড শুরুতেই দুই ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে বক্সে ঢুকে পড়েন। পড়ে গেলে পেনাল্টির আবেদন জানান, কিন্তু রেফারি অনড়।
২৩ মিনিটে ওভিয়েদোর বিরল পালটা আক্রমণে লিয়ান্দার ডেনডঁকার চিপে থিবো কুর্তোয়া পরীক্ষা নিলেও বল জড়িয়ে ধরেন বেলজিয়ান গোলকিপার। একটু পরই আরদা গুলেরের টার্ন থেকে নেওয়া শট দারুণ সেভ করেন অ্যারন এসকানদেল।
৩৭ মিনিটে আসে বিতর্কিত প্রথম গোল। গুলের এমবাপেকে নিশান করে শর্ট পাস বাড়ান। ফ্রেঞ্চ ফরোয়ার্ড ঘুরে দাঁড়িয়েই ডান কোণায় জড়িয়ে দেন। কিন্তু প্রতিপক্ষ শিবিরের তীব্র আপত্তি: বল কাড়ার সময় অরেলিয়ান শুয়ামেনি নাকি ডেনডঁকারের উপর অতিরিক্ত জোর খাটিয়েছেন!
এতক্ষণ পর্যন্ত রিয়ালকে স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিমায় দেখা যায়নি। ঘণ্টা পেরোতেই ম্যাচের ভোল পালটে যায়। বাইরে রদ্রিগো ও মাস্তান্তুওনো। নামেন ভিনিসিয়ুস ও ব্রাহিম দিয়াস। ঢুকেই দিয়াস বাড়িয়ে দেন সুযোগ। ছুটতে থাকা ফেদে ভালভেরদের শট আঙুলের ডগায় ঠেকিয়ে কর্নারে পাঠান এসকানদেল।
৮১ মিনিটে ম্যাচে ফিরে আসার সুযোগ পায় ওভিয়েদো। আচমকা ছাড়া দূরপাল্লার শটে পোস্টে লেগে ফিরে আসে। দাঁড়িয়ে দেখেন কুর্তোয়া। সেই ধাক্কাতেই যেন চাগাড় দিয়ে ওঠে রিয়াল। ৮৩ মিনিটে ভিনি বল কাড়েন, দৌড়ে গিয়ে বুদ্ধিদীপ্ত পাস বাড়ান এমবাপেকে। প্রথম ছোঁয়াতেই নিখুঁত ফিনিশ—২–০। ৯৩ মিনিটে স্কোরশিটে নাম তোলেন ভিনি। দিয়াস ডান দিকে ফাঁকা জায়গায় অ্যাসিস্ট বাড়ান। ঠান্ডা মাথায় গোল করেন ব্রাজিলীয় স্ট্রাইকার। ব্যবধান ৩–০।
কালকের অন্য ম্যাচগুলোও ছিল ঘটনাবহুল। ভিয়ারিয়াল ঘরের মাঠে জিরোনাকে ৫–০ উড়িয়ে দেয়। নতুন সাইনিং তাজন বুকানান ঝোড়া হ্যাটট্রিকে খোলেন লা লিগার গোলখাতা। প্রথম ত্রিশ মিনিটেই ৪–০—নিকোলাস পেপে ও রাফা মারিন একটি করে, বুকানানের জোড়া। ঘণ্টা পেরিয়ে চার মিনিটের মাথায় কানাডিয়ান উইঙ্গারের তৃতীয় গোল। টানা দুই ম্যাচে হেরে, সাত গোল হজম করে এবং একটি গোলও না দিয়ে লিগ টেবিলের তলায় জিরোনা। কোচ মিচেল সানচেস কড়া ভাষায় দলকে কাঠগড়ায় তুলে বলেন, ‘পূর্ণশক্তি দিয়ে না খেললে ভিয়ারিয়ালের মতো দল আপনাকে গুঁড়িয়ে দেবে। সেটাই হয়েছে। আমরা গর্ব আর সম্মানের জন্য খেলি; আজ সেটা করতে পারিনি!’
অন্যদিকে রিয়াল সোসিয়েদাদ ০–২ ব্যবধানে বিরতিতে পিছিয়ে থেকেও এস্পানিওলের বিরুদ্ধে ২–২ ড্র তুলেছে। কাতালানদের হয়ে পেরে মিয়া ও খাভি পুয়াদো প্রথমার্ধে গোল করেন। দ্বিতীয়ার্ধে আট মিনিটের ব্যবধানে আন্দের বারেনেত্সেয়া ও অরি অস্কারসন সমতা ফেরান। আর পামপ্লোনায়, আঁতে বুদিমিরের নবম মিনিটের গোলেই ১০ জনের ভ্যালেন্সিয়াকে ১–০ ব্যবধানে হারিয়ে দেয় ওসাসুনা।