এক গোল দিয়েই থেমে থাকেনি বার্সা। তিন মিনিট বাদে সমতা ফেরান ফেরান তোরেস। প্রথমার্ধে পোস্টে লেগে যাওয়া শটের ক্ষত মুছে রাফিনহার কর্নার থেকে দুর্দান্ত ভলিতে স্কোরলাইন ২-২।

ফেরান তোরেস
শেষ আপডেট: 24 August 2025 12:56
দ্য ওয়াল ব্যুরো: স্প্যানিশ লিগে রোমাঞ্চের রাত। প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার পর যেটা কেউ কল্পনাও করেনি, দ্বিতীয়ার্ধে সেটাই ঘটল। দুই গোলে পিছিয়ে থেকেও লেভান্তের মাঠে অবিশ্বাস্যভাবে ঘুরে দাঁড়াল বার্সেলোনা। শেষ মুহূর্তের আত্মঘাতী গোলে ৩-২ জয় তুলে নিল হান্সি ফ্লিকের দল।
অন্যদিকে, শিরোপার আরেক দাবিদার আতলেতিকো মাদ্রিদ দ্বিতীয় ম্যাচেও জয়ের মুখ দেখল না। চলতি মরশুমে লা লিগায় নাম লেখানো এলচের বিরুদ্ধে ১-১ ড্র-য়ে আটকে গেল দিয়েগো সিমিওনের দল।
গতকাল ম্যাচের প্রথম ৪৫ মিনিট লেভান্তে ছিল স্বপ্নের দুনিয়ায়! গতবারের চ্যাম্পিয়ন দলের বিরুদ্ধে দু’গোলে এগিয়ে থাকা মুখের কথা নয়। সদ্য প্রমোশন পেয়েছে লেভান্তে। ১৫ মিনিটে সবাইকে হতচকিত করে দুরন্ত কাউন্টার অ্যাটাকে গোল করেন ইভান রোমেরো। যার শুরুটা হয়েছিল লামিন ইয়ামালের ভুলে। তিনি পা থেকে বল হারান। সুযোগের সদ্ব্যবহারে ভুল করেননি রোমেরো।
প্রথমার্ধের সংযুক্ত সময়ে দ্বিতীয় ধাক্কা। ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারির হস্তক্ষেপে বার্সেলোনার ডিফেন্ডার আলেহান্দ্রো বালদের হ্যান্ডবল ধরা পড়ে। পেনাল্টি থেকে ব্যবধান বাড়ান হোসে লুইস মোরালেস।
গোটা ছবি পালটে যায় দ্বিতীয়ার্ধে। ৪৯ মিনিটে ইয়ামালের পাস থেকে বক্সের অনেক বাইরে থেকে জোরালো শটে জাল খুঁজে পেলেন পেদ্রি গনসালেস। লড়াইয়ে ফিরে আসে বার্সা। ফ্লিকের ভাষায়, ‘ওই গোলটিই ম্যাচ পাল্টে দিল!’ তাঁর আরও সংযোজন, ‘প্রথম গোল আমাদের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়েছে, কিন্তু শেষ পর্যন্ত জয় পাওয়া সহজ ছিল না!’
এক গোল দিয়েই থেমে থাকেনি বার্সা। তিন মিনিট বাদে সমতা ফেরান ফেরান তোরেস। প্রথমার্ধে পোস্টে লেগে যাওয়া শটের ক্ষত মুছে রাফিনহার কর্নার থেকে দুর্দান্ত ভলিতে স্কোরলাইন ২-২। শেষ মুহূর্ত, যখন রোমাঞ্চ চূড়ান্ত, খেলা ৯০ মিনিট পেরিয়ে সংযুক্ত সময়ে গড়িয়েছে, তখন ইয়ামালের ক্রসে আত্মঘাতী গোল লেভান্তের ডিফেন্ডার উনাই এলগেজাবালের। এতেই জয় নিশ্চিত করে ফেলে বার্সেলোনা।
গতকাল ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড থেকে লোনে আসা মার্কাস র্যাশফোর্ড প্রথমবারের মতো লিগ ম্যাচে প্রথম একাদশে সুযোগ পান। খেলেন বাঁ-দিকের উইংয়ে। তবে নব্বই মিনিট ময়দানে থাকাত সুযোগ জোটেনি। প্রথমার্ধেই তাঁকে তুলে এনে হান্সি ফ্লিক মাঠে নামান দানি ওলমোকে। এই নিয়ে কোচের ব্যাখ্যা, ‘মার্কাস ফার্স্ট হাফে কয়েকটা সুযোগ পায়, যেখানে বোঝা গিয়েছে ও কতটা ভালো খেলোয়াড়। ভবিষ্যতে অবশ্যই অনেক সাহায্য করবে!’
চোট কাটিয়ে সিজনে প্রথমবার মাঠে নামলেন রবার্ট লেওয়ানডস্কি। তবে বদলি হিসেবে, শেষ দিকে। বার্সেলোনা এর আগে উদ্বোধনী ম্যাচে নয়জনের মায়োর্কাকে ৩-০ হারিয়েছিল।
অন্যদিকে কাতালান ক্লাব যেমন ম্যাচ জিতে স্বস্তিতে, আতলেতিকো মাদ্রিদের চাপ তেমনই বেড়েই চলেছে। নিজেদের মাঠে এলচের বিরুদ্ধে এগিয়েও জয় পায়নি সিমিওনের দল। ম্যাচের শুরুতেই গোল এনে দেন আলেকজান্ডার সর্লথ। ডিফেন্ডার ডেভিড হানকোর পাস ধরে দুর্দান্ত শটে স্কোরলাইন ১-০। মিনিট কয়েকের মধ্যে ব্যবধান বাড়ানোর সুযোগও এসেছিল সর্লথের সামনে। কিন্তু বক্সের ভেতর থেকে তাঁর শট আটকে দেন এলচে গোলরক্ষক মাতিয়াস দিতুরো।
তারপরই পাল্টা ধাক্কা। এলচের ঝটপট পাসিং মুভ শেষ হয় জার্মান ভালেরার ক্রসে। যেখান থেকে গোল করেন রাফা মির। ১-১। হাফটাইমের আগে গোলের সুবর্ণ সুযোগ হারান সিমিওনের ছেলে গিউলিয়ানো। শট পোস্টে লেগে ফিরে আসে। শেষ পর্যন্ত অমীমাংসিত ফল নিয়েই মাঠ ছাড়ে দুই দল। ম্যাচ শেষে সিমিওনের মন্তব্য, ‘আমরা কঠোর পরিশ্রম করছি। ধৈর্য ধরে এগোতে হবে। ফল আসবেই। দুটো ম্যাচে হারার কথা ছিল না!’ দুই ম্যাচে মাত্র এক পয়েন্ট। গ্রীষ্মে শক্তিশালী স্কোয়াড গড়ে শিরোপার স্বপ্ন দেখছিল আতলেতিকো। শুরুটা কিন্তু মোটেই আশাপ্রদ নয়।