মোহনবাগানের প্রথম দল কার্যত ‘ফ্রিজে’। খেলোয়াড়দের মনোবল তলানিতে। ইস্টবেঙ্গল নিজের লড়াই চালিয়ে যেতে চায়। কিন্তু সামগ্রিকভাবে ভারতীয় ফুটবলের এই অন্ধকার অধ্যায়—যেখানে আলো জ্বালানোর দায়িত্ব কার?

ছবি: গুগল
শেষ আপডেট: 9 November 2025 18:25
দ্য ওয়াল ব্যুরো: এক অস্বস্তিকর অচলাবস্থা ভারতীয় ফুটবলে (Indian Football)। আইএসএল (ISL) ঘিরে অনিশ্চয়তা তীব্র হওয়ায় প্রথম দলের যাবতীয় অনুশীলন (first team operations) স্থগিত রাখার ঘোষণা করল মোহনবাগান সুপার জায়ান্ট (Mohun Bagan Super Giant)। আর ঠিক তখনই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ইস্টবেঙ্গল (East Bengal) জানাল, তারা আপাতত নিয়মিত কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। যদিও ক্লাবের শীর্ষকর্তা দেবব্রত সরকার সোজাসুজি আবেদন করেছেন—‘বিসিসিআই (BCCI) যদি এগিয়ে আসে, ভারতীয় ফুটবল বাঁচতে পারে!’
অনিশ্চয়তায় লিগের ভবিষ্যৎ
ইতিমধ্যে অল ইন্ডিয়া ফুটবল ফেডারেশন (AIFF) জানিয়েছে, নতুন বাণিজ্যিক পার্টনার খোঁজার জন্য তারা যে টেন্ডার আহ্বান করেছিল, তাতে একটিও বিড আসেনি। ফলে ডিসেম্বর থেকে শুরু হওয়ার কথা থাকা নতুন মরশুম এখন বিশ বাঁও জলে।
এই প্রেক্ষতে মোহনবাগান ক্লাব সূত্রে খেলোয়াড়দের আগেই জানানো হয়েছিল—যদি লিগ নিয়ে স্পষ্ট নির্দেশ না আসে, তাহলে শিবির বা প্রস্তুতি শুরু করা অর্থহীন। কর্মকর্তাদের ভাষায়, ‘আমরা আশা করেছিলাম ১৫ ডিসেম্বর লিগ শুরু হবে। সোমবার থেকে শিবির বসার কথা ছিল। কিন্তু এখন পরিস্থিতি একদমই অনিশ্চিত!’
বিসিসিআইকে এগিয়ে আসার আহ্বান
যদিও নীতু সরকারের নেতৃত্বে ইস্টবেঙ্গল পুরোপুরি আলাদা অবস্থানে। সুপার কাপে (Super Cup) ইতিমধ্যেই সেমিফাইনালে উঠেছে লাল–হলুদ। ৪ ডিসেম্বর পাঞ্জাব এফসির (Punjab FC) মুখোমুখি হবে তারা। অন্য সেমিতে খেলবে এফসি গোয়া (FC Goa) ও মুম্বই সিটি এফসি (Mumbai City FC)। এই আবহে নীতু বলছেন, ‘আমরা কোনও অপারেশন বন্ধ করিনি। আমার বিশ্বাস, আইএসএল চলবেই। ভারতীয় ফুটবল এভাবে থেমে যেতে পারে না। কেন্দ্রীয় ক্রীড়া মন্ত্রক, এআইএফএফ ও আগের কর্মকর্তারা নিশ্চয়ই বিষয়টা গুরুত্ব সহকারে দেখবেন।’
এখানেই থেমে থাকেননি তিনি। দিয়েছেন চমকপ্রদ প্রস্তাব—‘আমার ব্যক্তিগত অনুরোধ, বিসিসিআই অন্তত ৪–৫ বছরের জন্য ভারতীয় ফুটবল স্পনসর করুক। ওদের কাছে ১০০–১৫০ কোটি টাকা কোনও বড় অঙ্ক নয়। ওরা যদি দায়িত্ব নেয়, ভারতীয় ফুটবল অনেক দূর এগোতে পারবে।’
আর্থিক ধাক্কায় বিপর্যস্ত কাঠামো
গত মাসে এআইএফএফ ঘোষণা করেছিল, ন্যূনতম ২৫০ কোটি টাকার নিট সম্পদ থাকলে তবেই কোনও সংস্থা আইএসএলের বাণিজ্যিক অধিকার পেতে পারে। শর্ত অনুযায়ী, ১৫ বছরের মেয়াদে প্রতি বছর ৩৭.৫ কোটি টাকা বা মোট আয়ের ৫ শতাংশ (যেটা বেশি), দিতে হবে। তাতে ছিল বাধ্যতামূলক প্রোমোশন–রেলিগেশন, রেলিগেটেড ক্লাবের জন্য ‘প্যারাশুট পেমেন্ট’এবং ধীরে ধীরে ভিএআর (VAR) ব্যবস্থার সংযোজন। কিন্তু নির্ধারিত সময়সীমা—৭ নভেম্বর বিকেল ৫টা—শেষ হওয়ার পর দেখা গেল, একটাও বিড আসেনি। যে কারণে ভারতের শীর্ষ লিগের ভবিষ্যৎ আবারও প্রশ্নচিহ্নে।
প্রশাসনের নীরবতা
মোহনবাগানের প্রথম দল কার্যত ‘ফ্রিজে’। খেলোয়াড়দের মনোবল তলানিতে। ইস্টবেঙ্গল নিজের লড়াই চালিয়ে যেতে চায়। কিন্তু সামগ্রিকভাবে ভারতীয় ফুটবলের এই অন্ধকার অধ্যায়—যেখানে আলো জ্বালানোর দায়িত্ব কার? এই প্রশ্নটাই এখন ঘুরছে গ্যালারি থেকে প্রশাসনের করিডরে। আর নীতু সরকারের মতো অভিজ্ঞ ক্লাবকর্তারা মনে করছেন, হয়তো ক্রিকেটই দিতে পারে সেই দিশা!