সংক্ষিপ্ত লিগ, নির্দিষ্ট বাজেট, কড়াকড়ি সময়সীমা—সব মিলিয়ে ক্লাবগুলির উপর চাপ বাড়ল। এআইএফএফ পরিষ্কার বার্তা দিয়েছে, আর্থিক শৃঙ্খলায় কোনও ঢিলেমি চলবে না।

আইএসএল ট্রফি
শেষ আপডেট: 27 February 2026 17:08
দ্য ওয়াল ব্যুরো: চলতি মরশুমে নতুন করে কোনও অর্থ দেবে না অল ইন্ডিয়া ফুটবল ফেডারেশন (AIFF)। বরং নির্দিষ্ট সময়ে অংশগ্রহণ ফি না দিলে কঠোর শাস্তির মুখে পড়তে হবে আইএসএল (ISL) ক্লাবগুলিকে। বৃহস্পতিবার পাঠানো এক চিঠিতে স্পষ্ট জানিয়ে দিল ফেডারেশন।
চলতি আইএসএল মরশুম ৯১ ম্যাচের সংক্ষিপ্ত ফরম্যাটে আয়োজিত হচ্ছে। ১৪ ফেব্রুয়ারি শুরু হয়ে ১৭ মে পর্যন্ত চলবে লিগ। এই সিজনে মোট বাজেট ২৬ কোটি ২৩ লক্ষ টাকা। এর মধ্যে প্রায় ৮ কোটি পুরস্কারমূল্য ও প্রোডাকশন খরচ।
অর্থের অঙ্কটা ঠিক কী?
ফেডারেশনের হিসেব অনুযায়ী, এই মরশুমে নতুন করে কোনও তহবিল যোগ করা হবে না। বরং, প্রায় ৪ কোটি টাকা নিজেদের কাছে রাখবে এআইএফএফ।
হিসেব অনুযায়ী, আইএসএলের সম্প্রচার ও স্ট্রিমিং স্বত্বাধিকারী ফ্যানকোড (FanCode) দিয়েছে ৮ কোটি ৬২ লক্ষ টাকা। এর ৬০ শতাংশ অর্থাৎ, ৫ কোটি ১৭২ লক্ষ টাকা পেয়েছে সমস্ত ক্লাব। বাকি ৪০ শতাংশ এআইএফএফ। যাবতীয় হিসেব কষে প্রত্যেক ক্লাবের মোট প্রদেয় দাঁড়াচ্ছে আনুমানিক ১ কোটি ৩০ লক্ষ টাকা। ফ্যানকোডের অংশ বাদ দিলে ক্লাবগুলির বকেয়া থাকে প্রায় ৯৩ কোটি ৮৪ লক্ষ৷ অংশ নেওয়া দলগুলিকে এই বকেয়া টাকা চার কিস্তিতে শোধ করতে হবে। কিস্তির সময়সীমাও নির্দিষ্ট করে দিয়েছে ফেডারেশন।
কিস্তির সময়সীমা ও জরিমানা
প্রথম কিস্তি ৫ মার্চ—৩০ লক্ষ টাকা।
দ্বিতীয় কিস্তি ২৮ মার্চ থেকে ৪ এপ্রিলের মধ্যে—৩০ লক্ষ টাকা।
তৃতীয় কিস্তি ১ মে—২০ লক্ষ টাকা।
চূড়ান্ত বকেয়া (যদি থাকে) হিসেব মেলানোর পর পরিশোধ করতে হবে!
সময়মতো টাকা না দিলে প্রতিদিন ১ লক্ষ টাকা করে জরিমানা ধার্য (সর্বোচ্চ সাত দিন পর্যন্ত)। তাতেও টাকা না দিলে ‘লেটার অফ ডিসকোয়ালিফিকেশন’ পাঠাবে এআইএফএফ। সেই চিঠি পাওয়ার পর আরও চার দিন সময় মিলবে। তার পরও অর্থ না দিলে পরের আইএসএল মরশুমে অংশগ্রহণের অধিকার হারাতে পারে সংশ্লিষ্ট ক্লাব। চিঠিতে স্পষ্ট লেখা—এই বিষয়ে এআইএফএফের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত, বাধ্যতামূলক এবং আপিল-অযোগ্য। সংক্ষিপ্ত লিগ, নির্দিষ্ট বাজেট, কড়াকড়ি সময়সীমা—সব মিলিয়ে ক্লাবগুলির উপর চাপ বাড়ল। এআইএফএফ পরিষ্কার বার্তা দিয়েছে, আর্থিক শৃঙ্খলায় কোনও ঢিলেমি চলবে না।