উয়েফা রিপোর্টে আরও বলা হয়েছে, চেলসির বর্তমান স্কোয়াড তৈরিতে মোট খরচ প্রায় ১.৫২ বিলিয়ন পাউন্ড—ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ১৫,৯০০ কোটি টাকা।

চেলসি
শেষ আপডেট: 27 February 2026 10:24
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ইংল্যান্ডের ফুটবল ইতিহাসে সর্বোচ্চ বার্ষিক লোকসানের রেকর্ড গড়ল চেলসি (Chelsea)। উয়েফা-র (UEFA) প্রকাশিত আর্থিক রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ মরশুমে ক্লাবটির কর-পূর্ব ক্ষতি দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩৫৫ মিলিয়ন পাউন্ড। ভারতীয় মুদ্রায় যা আনুমানিক ৩,৭০০ কোটি টাকারও বেশি। ইউরোপের ইতিহাসেও এটি দ্বিতীয় সর্বোচ্চ লোকসান। এর আগে ২০২১ সালে বার্সেলোনা (Barcelona) প্রায় ৪৮৪ মিলিয়ন পাউন্ড ক্ষতির রেকর্ড গড়েছিল। কিন্তু প্রশ্ন একটাই—এত বড় ক্লাব এমন লোকসানের কবলে পড়ল কীভাবে?
আয় কম, প্রতিদ্বন্দ্বীরা অনেক এগিয়ে
চেলসির মোট আয় ছিল প্রায় ৫১১ মিলিয়ন পাউন্ড (প্রায় ৫,৩০০ কোটি টাকা)। তুলনায় ম্যানচেস্টার সিটি (Manchester City) আয় করেছে প্রায় ৭৪৬ মিলিয়ন পাউন্ড (৭,৮০০ কোটি টাকার বেশি) এবং লিভারপুল (Liverpool) প্রায় ৭৪৪ মিলিয়ন পাউন্ড।
সবচেয়ে বড় ফারাক বাণিজ্যিক আয়ে। চেলসির বাণিজ্যিক খাতে আয় প্রায় ২০৭ মিলিয়ন পাউন্ড (২,১৭০ কোটি টাকা)। যা লন্ডনের প্রতিদ্বন্দ্বী ক্লাব টটেনহ্যামের (Tottenham) চেয়ে প্রায় ৬৬ মিলিয়ন পাউন্ড কম এবং ম্যান সিটির চেয়ে প্রায় ১৬৫ মিলিয়ন পাউন্ড কম। পাশাপাশি ম্যাচ-ডে আয়েও পিছিয়ে তারা। স্ট্যামফোর্ড ব্রিজের (Stamford Bridge) আসনসংখ্যা মাত্র ৪১,৭৯৮। তুলনায় ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের (Manchester United) ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে (Old Trafford) প্রায় ৭৫,০০০ আসন। কম দর্শক মানেই কম টিকিট বিক্রি।
একমাত্র উজ্জ্বল দিক সম্প্রচার আয়। ফিফা ক্লাব বিশ্বকাপে (FIFA Club World Cup) অংশগ্রহণ ও সাফল্যের ফলে এই খাতে আয় প্রায় ১৯২ মিলিয়ন পাউন্ড (২,০০০ কোটির বেশি)।
খরচ বেড়েই চলেছে
হিসেবমতে, আয়ের ঘাটতির পাশাপাশি চেলসির খরচও আকাশছোঁয়া। খেলোয়াড়দের বেতন বাবদ গিয়েছে প্রায় ৩৮৮ মিলিয়ন পাউন্ড (৪,০০০ কোটির কাছাকাছি)। যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ৪৩ মিলিয়ন পাউন্ড বেশি। অপারেটিং খরচ—যার মধ্যে রয়েছে বিদ্যুৎ, পরিবহণ, বিপণন, প্রশাসনিক ব্যয়—সব মিলিয়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ২৪০ মিলিয়ন পাউন্ড (২,৫০০ কোটির বেশি)। আগের বছরের তুলনায় ব্যাপক বৃদ্ধি।
উয়েফা রিপোর্টে আরও বলা হয়েছে, চেলসির বর্তমান স্কোয়াড তৈরিতে মোট খরচ প্রায় ১.৫২ বিলিয়ন পাউন্ড—ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ১৫,৯০০ কোটি টাকা। এটি ফুটবল ইতিহাসে সবচেয়ে ব্যয়বহুল স্কোয়াড। অনেক খেলোয়াড়কে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তিতে নেওয়া হয়েছে, যাতে ট্রান্সফার খরচ কয়েক বছরে ভাগ করে হিসেব দেখানো যায়। কিন্তু সেই ‘অ্যামর্টাইজেশন’ খরচই এখন ব্যুমেরাং হয়ে উঠেছে৷
উয়েফা নিয়ম মানা সম্ভব?
চেলসির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কিছু বিষয়ের মূল্য কমে যাওয়া, পুরনো চুক্তি থেকে বেরিয়ে আসা এবং আগের নিয়ম লঙ্ঘনের জরিমানার প্রভাব এই রিপোর্টে পড়েছে। ক্লাবের দাবি, অপারেশনাল দিক থেকে তারা লাভজনক এবং উয়েফা নিয়ম মেনে চলতে পারবে। এর জন্য তারকা ফুটবলার বিক্রি করার প্রয়োজন পড়বে না। মূলত গত গ্রীষ্মে ব্যয়ের নিয়ম ভাঙায় বড় অঙ্কের জরিমানা গুনতে হয়েছে। যে বিষয়ে উয়েফার নজরদারি এখনও চলছে।