এআইএফএফের অভ্যন্তরীণ বিতর্ক নতুন নয়। কিন্তু এবার মহিলা কমিটির প্রধান নিজেই যেভাবে খোদ সভাপতির বিরুদ্ধে জোরালো অভিযোগ আনলেন, তা ভারতীয় ফুটবলের প্রশাসনিক সংকটকে আগামী দিনে আরও ঘনীভূত করতে চলেছে।

কল্যাণ ও ভালাঙ্কা
শেষ আপডেট: 30 March 2026 13:00
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভারতীয় ফুটবলে ফের নয়া বিতর্ক। অল ইন্ডিয়া ফুটবল ফেডারেশনের (AIFF) মহিলা কমিটির প্রধান ভালাঙ্কা আলেমাও (Valanka Alemao) সরাসরি অভিযোগ করলেন এআইএফএফ সভাপতি কল্যাণ চৌবের (Kalyan Chaubey) বিরুদ্ধে। দাবি, ২৯ মার্চ নয়াদিল্লিতে এক্সিকিউটিভ কমিটির বৈঠকে নাকি তাঁকে ‘হেনস্থা ও হয়রানি’ করা হয়েছে। গোটা বক্তব্য চিঠিতে লিখে কমিটির অন্য সদস্যদের ইতোমধ্যে পাঠিয়েও দিয়েছেন তিনি।
চিঠিতে কী লিখেছেন ভালাঙ্কা?
ভালাঙ্কার বয়ানে, ‘এআইএফএফ সভাপতি কল্যাণ চৌবে, ভাইস প্রেসিডেন্ট এন এ হারিস ও ডেপুটি সেক্রেটারি জেনারেল এম সত্যনারায়ণের ব্যবহার সম্পূর্ণ ঘৃণ্য। আমার গলা বন্ধ করে দেওয়ার বারবার চেষ্টা হয়েছে!’ আরও অভিযোগ, সভাপতি তাঁর উদ্দেশে অপ্রয়োজনীয় ও অসম্মানজনক মন্তব্য, জোর গলায় কথা বলে ভয় দেখানোর চেষ্টা করেছেন। পুরো বৈঠক জুড়ে একমাত্র তিনিই বারবার নিশানায় এসেছেন বলে দাবি ভালাঙ্কার।
বিবাদের শুরু কোথায়?
অস্ট্রেলিয়ায় মহিলা এশিয়া কাপের পর থেকে এই টানাপড়েনের সূত্রপাত। দলের মেয়েদের পারফরম্যান্স নিয়ে নয়, সমস্যা ঘনিয়েছিল পরিচালনা নিয়ে। টিমের ব্যবস্থাপনা, যাতায়াত ও সিদ্ধান্তগ্রহণে একাধিক ‘গাফিলতি’ হয়েছে বলে ভালাঙ্কা চৌবেকে চিঠি দেন। পাশাপাশি অভিযোগ, গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় এক্সিকিউটিভ কমিটি বা মহিলা কমিটির সঙ্গে কোনওদিনই ন্যূনতম পরামর্শ করা হয় না। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বক্তব্য কল্যাণ ভালভাবে নেননি। ঘনিয়ে ওঠে সংঘাত। যা এবারের বৈঠকে বারুদে আগুন লাগিয়েছে।
কে এই ভালাঙ্কা আলেমাও?
ভালাঙ্কা শুধু এআইএফএফের মহিলা কমিটির প্রধান নন, বিখ্যাত চার্চিল ব্রাদার্স ফুটবল ক্লাবের সিইও-ও বটে। গোয়ার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ও ক্লাবের মালিক চার্চিল আলেমাওর মেয়ে। সবচেয়ে বড় কথা—তিনি ফিফার (FIFA) উইমেন’স ফুটবল ডেভেলপমেন্ট কমিটিতে মনোনীত হওয়া প্রথম ভারতীয় মহিলা। ২০২৫-২০২৯ মেয়াদের জন্য এই পদ পেয়েছেন। ফুটবলের আন্তর্জাতিক মঞ্চে দেশের মেয়েদের হয়ে আওয়াজ তোলার ক্ষেত্রে সবচেয়ে চর্চিত মুখ।
উল্লেখ্য, এআইএফএফের অভ্যন্তরীণ বিতর্ক নতুন নয়। কিন্তু এবার মহিলা কমিটির প্রধান নিজেই যেভাবে খোদ সভাপতির বিরুদ্ধে জোরালো অভিযোগ আনলেন, তা ভারতীয় ফুটবলের প্রশাসনিক সংকটকে আগামী দিনে আরও ঘনীভূত করতে চলেছে।