এগিয়ে যাওয়া। কামব্যাক। ব্যবধান বাড়ানো। ফের গোল হজম করে বসা। শেষমেশ অন্তিম মুহূর্তের গোলে তিন পয়েন্ট! ডেব্রেচেনের মাঠে ইজরায়েলের বিরুদ্ধে নয় গোলের টানটান থ্রিলারে সমস্ত মশলাই মজুত ছিল।

ইতালি টিম
শেষ আপডেট: 9 September 2025 11:15
দ্য ওয়াল ব্যুরো: এগিয়ে যাওয়া। কামব্যাক। ব্যবধান বাড়ানো। ফের গোল হজম করে বসা। শেষমেশ অন্তিম মুহূর্তের গোলে তিন পয়েন্ট! ডেব্রেচেনের (Debrecen) মাঠে ইজরায়েলের বিরুদ্ধে নয় গোলের টানটান থ্রিলারে সমস্ত মশলাই মজুত ছিল। দু-দুটো আত্মঘাতী গোল, ম্যাচ নাগালে পেয়েও চকিতে রাশ খুইয়ে বসা, শেষমেশ নাটকীয় কায়দায় প্রত্যাবর্তন—সমর্থকদের পালস রেট বাড়িয়ে বিশ্বকাপে যোগ্যতা অর্জনকারী ম্যাচ জিতে তিন পয়েন্ট ছিনিয়ে নিল আজুরি বাহিনী।
ম্যাচ শেষ হওয়ার আগে মনে হচ্ছিল দু’দলকেই এক পয়েন্ট নিয়েই মাঠ ছাড়তে হবে! সামগ্রিক নজরে এটাই হয়তো ন্যায্য ফল হত। স্কোরলাইন যখন ৪-৪, প্রশ্ন জাগছে: আরেকবার কি বিশ্বকাপের (FIFA World Cup 2026) দোরগোড়ায় এসে হোঁচট খেতে চলেছে ইতালি (Italy)? ঠিক সেই সময় দূরপাল্লার শট সান্দ্রো টোনালির (Sandro Tonali)। বল ডিফেন্ডারদের ভিড় ভেদ করে জড়িয়ে গেল জালে। বাঁধভাঙা উল্লাসে মেতে উঠল ইতালি ডাগআউট। থমথমে ইজরায়েল বেঞ্চ!
মঙ্গলবার রাতে এই জয়—৫-৪—যতটা না তিন পয়েন্টের, তার চেয়েও বেশি নুইয়ে পড়া আত্মবিশ্বাস ফেরানোর। কারণ একসময় ম্যাচে ৪-২ এগিয়ে থেকেও সব শেষ হতে বসেছিল। ৮১ মিনিটে মাঠে নেমে সঙ্গে সঙ্গেই গোল করেন জিয়াকোমো রাসপাদোরি (Giacomo Raspadori)। ভেবেছিল সবাই, এই গোলেই ম্যাচ সুরক্ষিত। কিন্তু মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যে এক আত্মঘাতী গোল করলেন আলেসান্দ্রো বাস্তোনি (Alessandro Bastoni), তারপর হেডে সমতা ফেরালেন দোর পেরেতজ (Dor Peretz)। ৪-৪ স্কোরে তখন ইতালি ডিফেন্স থরহরিকম্প! সেই কাঁপুনি দূর করলেন টোনালি, নিউক্যাসল ইউনাইটেডের (Newcastle United) মিডফিল্ডার। তাঁর জোরালো শটই শেষমেশ মান বাঁচাল কোচ জেনারো গাত্তুসোর (Gennaro Gattuso)।
জয়ের পরেও অবশ্য ইতালি শিবির খুশি নয়। গাত্তুসোর অকপট স্বীকারোক্তি, ‘আমরা পুরোপুরি উন্মাদ হয়ে গিয়েছিলাম। এমন অদ্ভুত গোল খাওয়া উচিত হয়নি। ছেলেরা জানে, ওরা খুব সহজেই গোল হজম করছে। তবে এর দায় আমার।’ যদিও খেলোয়াড়দের মনোবলকে কুর্নিশ জানাতে ভোলেননি গাত্তুসো। তাঁর সংযোজন, ‘প্রতিবার ওরা ধাক্কা খেয়েছে, সাহস দেখিয়েছে, লড়াই করেছে।’
এই জয়ের সুবাদে গ্রুপ ‘আই’–এর টেবিলে দ্বিতীয় স্থানে উঠে এল ইতালি। একটি ম্যাচ বেশি খেলে সমান নয় পয়েন্ট ইজরায়েলের। শীর্ষে নরওয়ে তিন পয়েন্টে এগিয়ে। বিশ্বকাপে সরাসরি যাওয়ার রাস্তা এখনও খোলা। তবে গাত্তুসোর জন্য একরাশ চিন্তা। অক্টোবরে ফের ইজরায়েল ও এস্তোনিয়ার মুখোমুখি হতে হবে।
গতকালের ম্যাচ ঘিরে রাজনৈতিক তরজাও ছিল তীব্র। গাজায় ইজরায়েলের আক্রমণের কারণে ক্ষুব্ধ দর্শকদের একাংশ জাতীয় সঙ্গীত বেজে ওঠার সময় পেছন ঘুরে দাঁড়ান। যুদ্ধবিরোধী ব্যানারও ওড়ে!
যদিও ততোধিক তালভঙ্গ দশা ইতালির। মাঠে নেমে শুরুতেই ছন্নছাড়া। ১৮ মিনিটে ম্যানুয়েল লোকাতেল্লি (Manuel Locatelli) আত্মঘাতী গোল করে বসেন। দোষমোচনে কিছুক্ষণ বাদে এক চমৎকার ভলি মারেন। বল ক্রসবারে লাগে। একইভাবে অল্পের জন্য গোল মিস করেন মইসে কিন (Moise Kean)–ও। তবে তিনিই প্রথমার্ধে দলকে সমতায় ফেরান। দ্বিতীয়ার্ধে আবারও জোড়া আঘাত—একবার পেরেতজের দুরন্ত ফার্স্ট টাইম শট, আরেকবার কিনের ঝলক। ২-২ হয়ে যায় স্কোরলাইন, মুহূর্তে। মাত্তেও পলিতানো (Matteo Politano) দুর্দান্ত ভলি ইতালিকে এগিয়ে দেন। ৪-২–এ রাসপাদোরির গোল যেন জয় নিশ্চিত করে দিচ্ছিল। কিন্তু ফুটবল যে কত অনিশ্চিত খেলা, তার প্রমাণ মেলে কয়েক মিনিটেই।
শেষতক সবকিছুর সমাধান টোনালির দূরপাল্লার শট। গোলটা যতটা সৌভাগ্যের, ততটাই ইচ্ছাশক্তির। যা ইতালিকে বিপর্যয় থেকে বাঁচিয়ে দেয়।
এই জয় প্রমাণ করল, ইতালি দল এখনও নড়বড়ে, রক্ষণ দুর্বল, কিন্তু লড়াইয়ের জেদ ভরপুর। বিশ্বকাপের যোগ্যতা নিশ্চিত করতে সেই জেদই কোচ গাত্তুসোর ভরসা। আপাতত আজুরি শিবিরে স্বস্তি—তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ মিস করার ভয় অন্তত কিছুটা হলেও পিছু হটল!