পদক্ষেপের পটভূমিতে রয়েছে সাম্প্রতিক বিতর্ক। গত শনিবার সোশ্যাল মিডিয়ায় উয়েফার তরফে যুদ্ধবিরোধিতা সংক্রান্ত একটি পোস্ট করা হয়। সেই নিয়ে ক্ষোভে ফেটে পড়েন লিভারপুল ও মিশরের ফরোয়ার্ড মহম্মদ সালাহ।

স্তাদিও ফ্রিউলি
শেষ আপডেট: 14 August 2025 18:17
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ইতালির উদিনের স্তাদিও ফ্রিউলি ময়দানে বুধবার সুপার কাপের আগে ভেসে উঠল এক ব্যানার—‘শিশুদের হত্যা বন্ধ করুন, নাগরিকদের হত্যা বন্ধ করুন’! (‘Stop killing children-Stop killing civilians’)। টটেনহ্যাম হটস্পার (Tottenham Hotspar) ও পিএসজির (PSG) খেলোয়াড়রা যখন কিক-অফের আগে সারিবদ্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে, তখন ব্যানারটি সামনে মেলে ধরা হয়।
শুধু বার্তা প্রদর্শনই নয়, সেই মুহূর্তে মাঠে উপস্থিত ছিল যুদ্ধবিধ্বস্ত এলাকার কয়েকজন শিশু। গাজার দুই শরণার্থী—১২ বছরের প্যালেস্তাইনি মেয়ে তালা ও ৯ বছরের ছেলে মহম্মদ—অংশ নেয় ম্যাচশেষে মেডেল বিতরণী অনুষ্ঠানে। উয়েফার বক্তব্য, দু’জনই চিকিৎসার জন্য মিলানে। গাজায় যুদ্ধ শুরুর পর প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জাম না থাকায় তালাকে ইতালিতে আনা হয়েছে। অন্যদিকে মহম্মদ যুদ্ধের সময় বাবা-মাকে হারিয়ে নিজে এক বিমান হামলায় গুরুতর আহত। এই দুজনের পাশপাশি আফগানিস্তান, ইরাক, নাইজেরিয়া ও ইউক্রেন-সহ বিভিন্ন সংঘাত-পীড়িত অঞ্চল থেকে ইতালিতে আশ্রয় নেওয়া আরও নয় শিশু প্রাক-ম্যাচ অনুষ্ঠানে অংশ নেয়।
এহেন পদক্ষেপের পটভূমিতে রয়েছে সাম্প্রতিক বিতর্ক। গত শনিবার সোশ্যাল মিডিয়ায় উয়েফার তরফে যুদ্ধবিরোধিতা সংক্রান্ত একটি পোস্ট করা হয়। সেই নিয়ে ক্ষোভে ফেটে পড়েন লিভারপুল ও মিশরের ফরোয়ার্ড মহম্মদ সালাহ। পোস্টটিতে প্যালেস্তিনীয় ফুটবলার সুলেইমান আল-ওবেইদের মৃত্যুতে শোক জানানো হলেও মৃত্যুর কারণ বা প্রেক্ষাপট উল্লেখ করা হয়নি। ৪১ বছরের আল-ওবেইদ, যিনি ‘প্যালেস্তাইনের পেলে’ নামে পরিচিত ছিলেন, দক্ষিণ গাজা উপত্যকায় মানবিক সহায়তার জন্য অপেক্ষা করার সময় ইসরায়েলি হামলায় নিহত হন। উয়েফা যখন এক্স-হ্যান্ডেলে তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা জানায়, তখন সালাহ মন্তব্য করেন, ‘আপনারা কি বলতে পারেন তিনি কীভাবে, কোথায় এবং কেন মারা গিয়েছিলেন?’
এই ঘটনার পরই ইউরোপীয় ফুটবল সংস্থা নড়েচড়ে বসে। মঙ্গলবার ‘উয়েফা ফাউন্ডেশন ফর চিলড্রেন’ ঘোষণা করে, গাজার শিশুদের জন্য তাদের উদ্যোগ বাড়ানো হবে। এই মুহূর্তে তারা তিনটি দাতব্য সংস্থার সঙ্গে হাতে হাত মিলিয়ে কাজ করছে। উয়েফার নিয়ম অনুযায়ী, ম্যাচের আগে, চলাকালীন বা পরে রাজনৈতিক, মতাদর্শগত কিংবা ধর্মীয় বার্তা স্টেডিয়ামে প্রদর্শন করা নিষিদ্ধ। এই নিয়ম ভাঙলে অর্থদণ্ড-সহ শাস্তির বিধান রয়েছে। যদিও এক্ষেত্রে সংস্থার তরফে এমন ঘোরতর রাজনৈতিক বার্তা কেন পেশ করা হল—তাই নিয়ে প্রশ্ন দানা বেঁধেছে।