সিজনের শুরুতে স্বপ্ন ছিল চতুর্মুকুটের। কিন্তু একের পর এক হারে স্বপ্ন ছাঁটতে ছাঁটতে দুঃস্বপ্নের কিনারে আর্সেনাল। এফএ কাপের কোয়ার্টার ফাইনালে সাউদাম্পটনের কাছে হেরে বিদায় নিল আর্তেতার ছেলেরা। বিস্তারিত পড়ুন।
.jpeg.webp)
আর্সেনাল
শেষ আপডেট: 5 April 2026 10:38
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সিজনের গোড়ায় ছিল ‘চতুর্মুকুট’ বা কোয়াড্রপল জেতার স্বপ্ন। নজরে চ্যাম্পিয়নস লিগ, প্রিমিয়ার লিগ, এফএ কাপ ও লিগ কাপ। প্রথম দুটোয় আশা এখনও জিইয়ে। কিন্তু শেষ দুই ঘরোয়া নক আউট প্রতিযোগিতায় প্রায় পরপর হেরে যাওয়ার ফলে আর্সেনালের স্বপ্নের সিজন নিয়ে প্রবল সমর্থকদের মনেও ঘনাতে শুরু করেছে দুশ্চিন্তা।
লিগ কাপ ফাইনালে ম্যান সিটির (Manchester City) বিরুদ্ধে কিছুদিন আগেই কুপোকাত হতে হয়েছে। প্রায় একতরফা লড়াইয়ে খেতাব হাতে তুলেছে পেপ গুয়ার্দিওলার (Pep Guardiola) টিম। আর এবার এফএ কাপে স্বপ্নভঙ্গ। তাও কিনা দ্বিতীয় ডিভিশনের ক্লাব সাউদাম্পটনের (Southampton) বিপক্ষে! গতরাতে ২-১ স্কোরলাইনে ম্যাচ জিতে শেষ চারে জায়গা পাকা করে নিল ‘দ্য সেইন্টস’রা।
ম্যাচের শুরুতে বল দখলে এগিয়ে আর্সেনাল (Arsenal)। একাধিক সুযোগ তৈরি হয়েছিল। মার্টিন ওডেগার্ড (Martin Odegaard), কাই হাভার্টজ (Kai Havertz), গ্যাব্রিয়েল মার্টিনেলি (Gabriel Martinelli)—সবাই চেষ্টা করেছেন। কিন্তু ফাইনাল থার্ডে শেষ মুহূর্তে সিদ্ধান্ত নিতে ভুল। শট লক্ষ্যভ্রষ্ট। সেখান থেকেই ম্যাচ হাতছাড়া হওয়া শুরু।
উল্টোদিকে সাউদাম্পটন সুযোগ পেলেই আঘাত হেনেছে। যার ফল মেলে ৩৫ মিনিটে। রস স্টুয়ার্ট (Ross Stewart) গোল করে এগিয়ে দেন দলকে। রক্ষণে ভুল, মার্কিংয়ে গাফিলতি—এই দুই গলদের জেরে গোল খায় আর্সেনাল।
পিছিয়ে পড়ে দ্বিতীয়ার্ধে গানার্সদের আক্রমণের ঝাঁজ আরও বেড়ে ওঠে। ৬৮ মিনিটে ফেরে সমতাও। গ্যাব্রিয়েলের (Gabriel Magalhaes) পাস থেকে হাভার্টজ বল বাড়ান ভিক্টর গিয়োকেরেসকে (Viktor Gyokeres)। সদ্য সুইডেনকে জিতিয়ে বিশ্বকাপে নিয়ে যাওয়া স্ট্রাইকার বল নিশানায় রাখতে ভুল করেননি। ম্যাচ তখন ১-১। শেষ দিকে মিকেল আর্তেতার ছেলেদের সামনে জেতার সুযোগও তৈরি হয়েছিল। কিন্তু গোল এল অন্য প্রান্তে। ৮৫ মিনিটে বদলি হিসেবে নামা শেয়া চার্লস (Shea Charles) ঠান্ডা মাথার দুরন্ত ফিনিশে ম্যাচ খতম করে দেন। এই গোলেই বদলে যায় সবকিছু। ওয়েম্বলির টিকিট ছিনিয়ে নেয় সাউদাম্পটন।
ম্যাচ শেষে কোচ মিকেল আর্তেতা (Mikel Arteta) ভরাডুবির দায় নিলেন। তাঁর কথায়, ‘আমরা অনেক সুযোগ পেয়েছি। কাজে লাগাতে পারিনি!’ যোগ করেন, ‘রক্ষণে যে ভুলগুলো করেছি, তা এই স্তরের ম্যাচে মারাত্মক।’
পরিসংখ্যান বলছে, এটা আর্সেনালের চলতি মরসুমের মাত্র পঞ্চম হার। কিন্তু সময়টা গুরুত্বপূর্ণ। টানা দুটো কাপ প্রতিযোগিতা থেকে বিদায়। তাও কিনা হাতেগোনা কয়েক দিনের মধ্যে। লিগে এগিয়ে থাকলেও চাপ বাড়ছে। চোট সমস্যাও বড় ফ্যাক্টর। সব মিলিয়ে, আর্সেনালের সামনে এখন বড় পরীক্ষা—ধাক্কা সামলে কি তারা আবার উঠে দাঁড়াতে পারবে? নাকি এই পরপর পরাজয়ই স্বপ্নের মরসুমকে আরও দুঃস্বপ্নের দিকে ঠেলে দেবে। চলতি সপ্তাহে স্পোর্টিং লিসবনের বিরুদ্ধে চ্যাম্পিয়নস লিগের কোয়ার্টার ফাইনালের গুরুত্বপূর্ণ লড়াই। তার আগে কোচ আর্তেতাকে অনেক প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে হবে।