খেতাব দৌড় আর জটিল সমীকরণ নয়, বরং পুরোপুরি আর্সেনালের নিজেদের হাতে। সিটি এখনও অঙ্কের দৌড়ে আছে, কিন্তু মাঠের যুদ্ধে তারা ক্রমশ দূরে সরে যাচ্ছে।
.jpeg.webp)
নায়ক মিতোমা
শেষ আপডেট: 8 January 2026 10:39
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দু'সপ্তাহ আগেও খেতাব দখলের লড়াই যতটা রুদ্ধশ্বাস, টানটান মনে হচ্ছিল, আজ, বৃহস্পতিবার, সপ্তাহের শেষ উইকডেজ ফিক্সচার শুরুর আগে ছবিটা পুরোপুরি বদলে গিয়েছে৷ ত্রিমুখী বা দ্বিমুখী যুদ্ধ নয়। প্রিমিয়ার লিগের একমাত্র দাবিদার আপাতত আর্সেনাল৷ ২০ ম্যাচে ঝুলিতে ৪৮ পয়েন্ট৷ এক ম্যাচ বেশি খেলে ৪৩-এ ম্যানচেস্টার সিটি। যারা গতরাতে ফের একবার হোঁচট খেল৷ রুখে দিল ব্রাইটন৷ তাও কিনা ঘরের মাঠে! যে কারণে গানার্সের ঘাড়ে নিঃশ্বাস ফেলা তো দূর, শিরোপা দখলের সড়ক থেকে কয়েক যোজন দূরে সরে গেল পেপ গুয়ার্দিওলার দল। আজ অ্যানফিল্ডে লিভারপুল যদি ত্রাতা হয়ে না ওঠে, আর্সেনাল জিতে ৩ পয়েন্ট বাগিয়ে নেয়, তাহলে মরশুমের মাঝপথেই প্রিমিয়ার লিগের ভাগ্য কার্যত নিশ্চিত হয়ে যাবে।
সিটির সমস্যা: আধিপত্য আছে, কিন্তু ধার নেই
গতরাতের ম্যাচে ম্যানচেস্টার সিটি (Manchester City) বল দখলে রেখেছে, সুযোগ বানিয়েছে, কিন্তু ধারাবাহিকভাবে সেগুলো কাজে লাগাতে পারেনি। প্রথমার্ধে এরলিং হালান্ডের (Erling Haaland) পেনাল্টিতে এগিয়ে যাওয়ার পরেও খেলার নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিজেদের করে নিতে ব্যর্থ হয়েছে তারা। দ্বিতীয়ার্ধে একের পর এক সুযোগ নষ্ট—এই ছবিটা নতুন নয়। গত কয়েক সপ্তাহ ধরেই সিটির সমস্যা এক জায়গায় ঘুরপাক খাচ্ছে: ফাইনাল থার্ডে হুল ফোটাতে না পারা।
পেপ গুয়ার্দিওলা (Pep Guardiola) ম্যাচের পর স্বীকার করেছেন, সমস্যা কোনও এক জনের নয়। ফরোয়ার্ড লাইন সামগ্রিকভাবেই কাজটা শেষ করতে অসফল। পরিসংখ্যান বলছে, ২০টির বেশি শট নিয়েও সিটি মাত্র ছ’টি অন টার্গেটে রাখতে পেরেছে। আধিপত্য থাকলেও ম্যাচ ‘কিল’ করার ক্ষমতা নেই—শিরোপা জয়ের দৌড়ে যা বেশ বিপজ্জনক।
ব্রাইটনের বার্তা: এক পয়েন্ট নয়, মানসিক জয়
ব্রাইটন (Brighton) এই ম্যাচে শুধু একটি গোল করেনি, দেখিয়েছে কীভাবে সংগঠিত থাকলে সিটিকে আটকে দেওয়া যায়। মাঝমাঠে ব্লক, রক্ষণে শৃঙ্খলা এবং সুযোগ পেলেই দ্রুত ট্রানজিশন—এই ফর্মুলা কাজে দিয়েছে। বিশেষ করে কাওরু মিতোমা (Kaoru Mitoma) আবারও প্রমাণ করলেন, তিনি এই লিগে অন্যতম ‘গেমচেঞ্জার’। ১৮ গজের বাইরে সামান্য জায়গা পেলেই ম্যাচ ঘুরিয়ে দেওয়ার ক্ষমতা তাঁর আছে।
সিটির রক্ষণ এখানে নিষ্ক্রিয় থাকায় খেসারত দিতে হয়েছে। ম্যাচের শেষে ব্রাইটনের জয়ের সুযোগও এসেছিল, তারা কাজে লাগাতে পারেনি। তবু এই এক পয়েন্ট শুধু লিগ টেবিলের অঙ্ক নয়—সিটির আত্মবিশ্বাসে জোরালো ধাক্কা।
আর্সেনালের সুবিধা, আজকের ম্যাচের গুরুত্ব
এই ফলাফলের সবচেয়ে বড় লাভবান আর্সেনাল (Arsenal)। তারা এখন শুধু পয়েন্টে নয়, মানসিকভাবেও একধাপ এগিয়ে। সিটি পরপর ঘরের মাঠে পয়েন্ট হারাচ্ছে, অন্যদিকে গানার্সরা তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল। আজ অ্যানফিল্ডে (Anfield) লিভারপুল (Liverpool) যদি সিটিকে ‘সাহায্য’ করতে না পারে এবং আর্সেনাল নিজেদের ম্যাচ জিতে নেয়, তাহলে ব্যবধান দাঁড়াবে ৮ পয়েন্টে—যা মরশুমের এই পর্যায়ে কার্যত পাহাড়সম।
এই অবস্থায় খেতাব দৌড় আর জটিল সমীকরণ নয়, বরং পুরোপুরি আর্সেনালের নিজেদের হাতে। সিটি এখনও অঙ্কের দৌড়ে আছে, কিন্তু মাঠের যুদ্ধে তারা ক্রমশ দূরে সরে যাচ্ছে। এখন থেকে প্রতিটি ম্যাচে শুধু জেতাই নয়, প্রতিপক্ষের ভুলের দিকেও তাকিয়ে থাকতে হবে গুয়ার্দিওলার দলকে। শিরোপা লড়াইয়ে সেটাই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।