খাতায়-কলমে প্রীতি ম্যাচ। সেটা মাঠের লড়াই দেখে বোঝার উপায় নেই। লাল কার্ড, স্নায়ুচাপ, বিশ্বকাপের আগে বড় পরীক্ষা—সব মিলিয়ে হাড্ডাহাড্ডি টক্কর। যা জিতে নিল ফ্রান্স। হারাল ব্রাজিলকে।
.jpeg.webp)
মধ্যমণি এমবাপে
শেষ আপডেট: 27 March 2026 10:15
দ্য ওয়াল ব্যুরো: খাতায়-কলমে প্রীতি ম্যাচ। সেটা মাঠের লড়াই দেখে বোঝার উপায় নেই। লাল কার্ড, স্নায়ুচাপ, বিশ্বকাপের আগে বড় পরীক্ষা—সব মিলিয়ে হাড্ডাহাড্ডি টক্কর। যা জিতে নিল ফ্রান্স (France Beat Brazil)। হারাল ব্রাজিলকে। চোট-আঘাতের দুঃস্বপ্ন ও সাম্প্রতিক নাটককে পিছনে ফেলে নায়ক সেই কিলিয়ান এমবাপে (Kylian Mbappe)। নিখুঁত ফিনিশ, ঠান্ডা মাথা আর তুখোড় নেতৃত্বের ঝলক একসঙ্গে (France vs Brazil)। ১০ জনে খেলেও ভিনিসিয়া-কাসেমিরোদের পরাস্ত করল ফরাসি বাহিনী। ফলাফল ২-১।
কেমন খেললেন এমবাপে?
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জিলেট স্টেডিয়ামে (Gillette Stadium) শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ছিল ফ্রান্স। যার ফল আসে প্রথমার্ধে। উসমান দেম্বেলের (Ousmane Dembele) পাস ধরে ডিফেন্স ভেঙে এগিয়ে যান এমবাপে (Kylian Mbappe)। তারপর গোলকিপার এডারসনকে (Ederson) পরাস্ত করে চিপ শটে গোল। যা শুধু দলকে ম্যাচে এগিয়ে দেয়নি, ফরাসি স্ট্রাইকারকে ইতিহাসের দিকেও ঠেলে দিল। জাতীয় দলের হয়ে ৫৬ গোল। আর একবার লক্ষ্যভেদ করলেই ছুঁয়ে ফেলবেন অলিভিয়ের জিরুর (Olivier Giroud) ৫৭ গোলের রেকর্ড।
লাল কার্ডেও অদম্য ফ্রান্স
প্রথমার্ধের দাপট ধাক্কা খায় দ্বিতীয়ার্ধ, একেবারে শুরুর দিকে। ডিফেন্ডার দয়ো উপামেকানো (Dayot Upamecano) লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন। ফলে ১০ জনে নেমে আসে ফ্রান্স (France)। খেলা এখানেই ঘুরে যেতে পারত। কিন্তু কার্যত হল ঠিক উল্টো। রক্ষণ মজবুত রেখে সুযোগ তৈরির চেষ্টা চালাল ফরাসিরা। যার সুবাদে ৬৫ মিনিটে এল দ্বিতীয় গোল। করলেন হুগো একিটিকে (Hugo Ekitike)। মাইকেল অলিসের (Michael Olise) পাস থেকে সহজ ফিনিশে ব্যবধান বাড়ান তিনি। শক্তিশালী ব্রাজিলের বিরুদ্ধে ১০ জনে খেলেও ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ছাড়েনি ফ্রান্স। সেটাই হয়ে উঠেছে সবচেয়ে বড় বার্তা।
ব্রাজিলের পালটা লড়াই, কিন্তু যথেষ্ট নয়
খেলার শেষদিকে কামব্যাকের মরিয়া চেষ্টা চালায় ব্রাজিল। ৭৮ মিনিটে গ্লেইসন ব্রেমার (Gleison Bremer) গোল করে কিছুটা হলেও আশা জাগান। তবে ততক্ষণে যা দেরি হয়ে গিয়েছে। ব্রাজিলের আক্রমণে ধার থাকলেও শেষ পর্যন্ত সমতা ফেরানো সম্ভব হয়নি। কোচ কার্লো অ্যান্সেলোত্তি (Carlo Ancelotti) ম্যাচ হেরে নিরাশ। যদিও আত্মবিশ্লেষণের সুরে বললেন, ‘হারলে খুশি হওয়া যায় না। তবে দল লড়েছে। কোথায় ভুল হয়েছে, সেটাও বোঝা গেল।’
এই ম্যাচে আলিসন বেকার (Alisson Becker), রদ্রিগো (Rodrygo) সহ আরও বেশ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ ফুটবলার অনুপস্থিত ছিলেন। কিন্তু তাই বলে ফ্রান্সের জয়কে স্বীকৃতি না জানানো অন্যায়। যোগ্য দল হিসেবেই শেষ হাসি হেসেছে দিদিয়ের দেশঁ-র ছেলেরা।