ডোনাল্ড ট্রাম্প নাকি আসল ক্লাব বিশ্বকাপের ট্রফি, যা বিশেষ কায়দায় বানানো, খুলতে গেলে চাবি ঘোরাতে হয়, তা যখন ওভাল অফিসে টুর্নামেন্ট শুরুর আগে পরিদর্শনে নিয়ে আসে ফিফা, তখনই আবদার করে নিজের জিম্মায় রেখে দেন!

ডোনাল্ড ট্রাম্প
শেষ আপডেট: 17 July 2025 15:34
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ট্রফিটা কে জিতেছে?
চেলসি (Chelsea)।
ট্রফিটা রেখেছেন কে?
ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump)।
ট্রফিটা এই মুহূর্তে কোথায়?
ওভাল অফিসে (Oval Office), ল্যাম্পের কাছে, খুব সম্ভবত মেলানিয়ার পুরনো ফুলদানি সরিয়ে রাখা।
এটাই আধুনিক ফুটবল নব্য বাস্তবতা। ম্যাচ জেতে ক্লাব। আর ট্রফি যায় রাষ্ট্রপ্রধানের ডেস্কে! একেবারে ফাইলবন্দি কাগজপত্রের পাশ ঘেঁষে, যেখানে দিন ঘুরলে কোনওদিন শান্তির নোবেলও ঠাঁই পেতে পারে!
এবারের ক্লাব বিশ্বকাপ ফাইনাল (Club World Cup) ছিল নিউ জার্সিতে। নতুন সংস্করণ, ঝাঁ-চকচকে আয়োজন। সবাইকে ভুল প্রমাণ করে টুর্নামেন্ট জেতে চেলসি। অধিনায়ক রিস জেমস সদলবলে ট্রফি উত্তোলন করেন, ফিফা প্রেসিডেন্ট ইনফান্তিনো হাততালি দেন… আর ট্রাম্প?
তিনি দাঁড়িয়ে থাকেন ঠিক মাঝখানে। মধ্যমণি হয়ে!
এমনিতে যিনি ফাইনালজয়ী দলকে ট্রফি দেন, হতে পারেন ফাইনালের প্রধান অতিথি কিংবা আয়োজক সংস্থার শীর্ষ কর্তা, তিনি অধিনায়কের হাতে খেতাব দেওয়ার পরই স্টেজ ছেড়ে দেন। রবিবার এত ব্যত্যয় লক্ষ্য করে মেটলাইফ স্টেডিয়ামের দর্শক। ডোনাল্ড ট্রাম্প হাসিমুখে জেমসের হাতে ক্লাব ওয়ার্ল্ড কাপ সমর্পণ করলেও মঞ্চ ছাড়তে নারাজ! যেন টিমের অন্যতম সদস্য তিনি। এমন ভঙ্গিমায় ঠায় দাঁড়িয়ে। ফিফা প্রেসিডেন্টের আর্জি, চেলসি অধিনায়কের অনুরোধেও ডাল গলেনি। ডোয়াল্ড ট্রাম্প গোঁ ধরে স্টেজেই রয়ে যান। বাধ্য হয়ে চেলসি খেলোয়াড়রা যখন ট্রফি নিয়ে উচ্ছ্বাসে বুঁদ, দেখা যায় আমেরিকার প্রেসিডেন্ট হাসিমুখে হাততালি দিয়ে চলেছেন!
কেন মঞ্চ থেকে নেমে যাননি মার্কিন রাষ্ট্রপতি? এই বিষয়ে কেউ কিছু না বললেও পরে ট্রফির ‘জাত-কুল’ নিয়ে মারাত্মক তথ্য সামনে আসে। ‘বিস্ফোরক’ শব্দটা বহু ব্যবহারে জীর্ণ হলেও, এক্ষেত্রে এ ছাড়া বিকল্প বিশেষণ কিছু হয় না! চাউর হয়, ডোনাল্ড ট্রাম্প নাকি আসল ক্লাব বিশ্বকাপের ট্রফি, যা বিশেষ কায়দায় বানানো, খুলতে গেলে চাবি ঘোরাতে হয়, তা যখন ওভাল অফিসে টুর্নামেন্ট শুরুর আগে পরিদর্শনে নিয়ে আসে ফিফা, তখনই আবদার করে নিজের জিম্মায় রেখে দেন!
অর্থাৎ, সাঁটে বললে বিষয়টা দাঁড়াল এই: ফাইনালের মঞ্চে চেলসি যেটা পেল সেটা রেপ্লিকা… নকল। আসলটা রয়েছে ট্রাম্পের অফিসে!
এই খবরটা যে জল্পনা নয়, মেনে নিয়েছেন ট্রাম্পও। এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘ওরা জানাল, আর নিতে আসবে না। আমি-ই রাখি। ফিফা নতুন একটা বানাবে!’
সরল আত্মবিশ্বাসে ট্রফি দখল করার এমনতর রাষ্ট্রীয় উদাহরণ বিরল।
এই পরিস্থিতিতে আসল-নকলের বিবাদভঞ্জনে খোদ ফিফাও ততটা তৎপর নয়। মুখে কুলুপ এঁটেছে। চেলসি ভদ্রতার মুখোশ পরে চুপ।
ওদিকে ট্রাম্প হাসছেন এবং ওভাল অফিসে ট্রফি শোভা পাচ্ছে এমন কায়দায়, যেন দেম্বেলেকে কাটিয়ে হাফ লাইনের এপার থেকে গোল করে ফাইনালটা তিনিই জিতেছেন!
কিন্তু ঘটনা এখানেই শেষ নয়। ট্রাম্প জানিয়েছেন, তাঁর ইচ্ছে—আমেরিকায় ‘সকার’ শব্দটা তুলে ‘ফুটবল’ চালু হোক। একদিকে খেলা, অন্যদিকে ভাষার ওপর রাষ্ট্রীয় সার্জারি। একটিমাত্র এক্সিকিউটিভ অর্ডারেই কি ইতিহাস বদলে যেতে পারে? উঠেছে প্রশ্ন।
এর মধ্যে চলছে ট্রাম্পের দ্বিতীয় ইনিংসের ট্র্যাভেল ব্যান, ভিসা-জট। বিশ্বকাপের ম্যাচ দেখতে এসে আটকে পড়ছেন নানা দেশের সমর্থক। কিন্তু প্রেসিডেন্ট বলছেন, ‘ফুটবল মানেই ঐক্য, ভালোবাসা, দেশের মিলন!’
ক্লাব বিশ্বকাপের ট্রফি হয়ে গেছে হোয়াইট হাউসের ডেকর আইটেম। আলো একটু কম থাকলে ভুল করে কেউ ফুলদানির বদলে কাপে জল ঢেলে দেবে—এই আশঙ্কা প্রবল!