২০২৪-২৫ মরসুমে চ্যাম্পিয়নস লিগের দর্শকসংখ্যা ছিল ১১৮ কোটি—ক্লাব ফুটবলের সবচেয়ে বড় মঞ্চ এটাই। সেখানে কার বল গড়াবে, তা নিয়ে লড়াই আপাতত জমে উঠেছে।

অ্যাডিডাস বল
শেষ আপডেট: 17 March 2026 12:58
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মাঠের লড়াইয়ে মজে থাকে দর্শক। কিন্তু ফুটবলের বলটা কে বানায়—এই প্রশ্ন সাধারণত অনুরাগীদের মাথায় আসে না!
ক্লাব ফুটবলের সবচেয়ে বড় মঞ্চ উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগে (UEFA Champions League) এই সওয়ালই আপাতত কোটি কোটি টাকার বাণিজ্যিক লড়াইয়ের কেন্দ্রে। ২০০১ সাল থেকে টুর্নামেন্টের অফিশিয়াল বল বানাচ্ছে জার্মান স্পোর্টসওয়্যার জায়ান্ট অ্যাডিডাস (Adidas)। সূত্র বলছে, সেই দীর্ঘ সম্পর্কে এবার ফাটল ধরতে পারে। ২০২৭-২৮ মরসুম থেকে নতুন বল সরবরাহকারী বেছে নিতে আনুষ্ঠানিক টেন্ডার ডেকেছে উয়েফা ও ইউরোপিয়ান ক্লাব অ্যাসোসিয়েশন।
লড়াইয়ে কারা?
অ্যাডিডাস স্বাভাবিকভাবেই নিজেদের জায়গা ধরে রাখতে চাইছে। চ্যাম্পিয়নস লিগের বাইরেও ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপ ও ফিফা বিশ্বকাপের সরকারি বল সরবরাহ করে এই সংস্থা—তাই বলের বাজারে তাদের আধিপত্য প্রশ্নাতীত।
কিন্তু এবার মাঠে নেমেছে নাইকি (Nike) ও পুমা (Puma)। নাইকির সিইও এলিয়ট হিল সম্প্রতি জানিয়েছেন, ফুটবল তাঁদের কাছে ‘প্রায়রিটি স্পোর্ট’! আর পুমা গত কয়েক বছরে একের পর এক বড় চুক্তি ছিনিয়ে নিয়েছে। ২০২৪ কোপা আমেরিকায় দু’দশক পর নাইকিকে সরিয়ে সরকারি বল সরবরাহকারী হয়েছে তারা। এই সিজন থেকে প্রিমিয়ার লিগের অফিশিয়াল বলও পুমার—যেখানে ২০০০-০১ মরসুম থেকে দখল ছিল নাইকি-র। ইতালির সেরি আ ও স্পেনের লা লিগাতে তো পুমা অনেক আগেই জায়গা করে নিয়েছে।
সংস্থার লাতিন আমেরিকার জেনারেল ম্যানেজার কার্লোস লাজের মন্তব্য, ‘বলটাই আসল—কারণ তা অপরিহার্য, প্রতিটি ম্যাচে থাকে। ভক্ত ও খেলোয়াড়—সবার আকর্ষণের কেন্দ্র। দেশে দেশে খেলোয়াড় বা দলের চুক্তি না করেও বল দিয়ে সব সময় প্রাসঙ্গিক থাকা যায়!’
ব্যবসার ছবি বদলাচ্ছে
উয়েফা এর আগেও দীর্ঘমেয়াদী পার্টনারদের সরিয়ে দিতে দ্বিধা করেনি। ১৯৯৪ সাল থেকে চ্যাম্পিয়নস লিগের বিয়ার স্পনসর ‘হিনেকেন’। কিন্তু সম্প্রতি আনহাউজার-বুশ ইনবেভ (AB InBev) ছয় বছরের চুক্তিতে বছরে ২০ কোটি ইউরো অফার করেছে—যা হিনেকেনের চুক্তির চেয়ে ৬৬ শতাংশ বেশি। জানা যাচ্ছে, দুই বছর আগে থেকেই নাকি আলোচনা শুরু হয়ে গিয়েছিল।
পেপসি-কোলার ক্ষেত্রেও একই গল্প। দীর্ঘ সম্পর্ক ছিন্ন হওয়ার মুখে পড়ে। শেষমেশ পেপসি তার স্পনসরশিপ দ্বিগুণেরও বেশি করে ছয় বছরের নতুন চুক্তি রক্ষা করেছে। বার্তা বেশ পরিষ্কার—উয়েফা এখন সর্বোচ্চ মুনাফার দিকে তাকাচ্ছে। পুরনো সম্পর্কের চেয়ে নতুন অর্থই তাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ।
তিনটি লিগ একসঙ্গে না আলাদা?
চ্যাম্পিয়নস লিগ ছাড়াও ইউরোপা লিগ ও কনফারেন্স লিগের বলও আলাদা সরবরাহকারী থেকে আসে। এই মুহূর্তে ফরাসি রিটেলার ডেকাথলন ইউরোপা ও কনফারেন্স লিগের বল দিচ্ছে। তিনটি প্রতিযোগিতায় মোট ৫৩১টি ম্যাচ হয় প্রতি মরসুমে। যা বিজ্ঞাপনের বিশাল মঞ্চও বটে। টেন্ডারে তিনটি লিগ একসঙ্গে দেওয়া হবে নাকি আলাদা, এখনও ঠিক হয়নি। তবে বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য, তিনটি একসঙ্গে পেলে যে কোনও সংস্থার জন্য এটা হবে সোনার খনি।
উল্লেখ্য, ২০২৪-২৫ মরসুমে চ্যাম্পিয়নস লিগের দর্শকসংখ্যা ছিল ১১৮ কোটি—ক্লাব ফুটবলের সবচেয়ে বড় মঞ্চ এটাই। সেখানে কার বল গড়াবে, তা নিয়ে লড়াই আপাতত জমে উঠেছে।