মোটে ৫.২৫ লক্ষ জনসংখ্যার এই দেশটি পর্তুগালের কাছ থেকে স্বাধীনতা পায় ১৯৭৫ সালে। ২০০২ সালের জাপান-কোরিয়া বিশ্বকাপ থেকে যোগ্যতা অর্জনের চেষ্টা শুরু করেছিল তারা।

জয়ের পর উচ্ছ্বাস খেলোয়াড়দের
শেষ আপডেট: 14 October 2025 08:29
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আফ্রিকার ফুটবলে (Africa Football) নতুন ইতিহাস লিখল কেপ ভার্দে (Cape Verde)। আফ্রিকার পশ্চিম উপকূলের ছোট্ট দ্বীপরাষ্ট্রটি প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে (Football World Cup) পৌঁছে গেল। তাও আবার ক্যামেরুনের মতো শক্তিশালী প্রতিপক্ষকে পিছনে ফেলে। শনিবার প্রাইয়ায় নিজেদের ঘরের মাঠে এসওয়াতিনিকে ৩-০ গোলে হারিয়ে ব্লু শার্কসরা ২০২৬ সালের বিশ্বকাপে (World Cup 2026) তাদের জায়গা নিশ্চিত করল।
দ্বীপদেশটির হয়ে দাইলন লিভ্রামেন্তো ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে প্রথম গোলটি করেন। তার পরেই উইলি সেমেদোর দুর্দান্ত ভলিতে আসে দ্বিতীয় গোল। আর যোগ করা সময়ে অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার স্টোপিরা গোল করে জয়কে আরও পোক্ত করেন। ম্যাচ শেষ হতেই প্রায় ১৫ হাজার দর্শকের ন্যাশনাল স্টেডিয়াম ফেটে পড়ে উল্লাসে।
মোটে ৫.২৫ লক্ষ জনসংখ্যার এই দেশটি পর্তুগালের কাছ থেকে স্বাধীনতা পায় ১৯৭৫ সালে। ২০০২ সালের জাপান-কোরিয়া বিশ্বকাপ থেকে যোগ্যতা অর্জনের চেষ্টা শুরু করেছিল তারা। দীর্ঘ দুই দশক পরে অবশেষে সেই স্বপ্ন পূরণ হল। এর ফলে কেপ ভার্দে এখন বিশ্বের দ্বিতীয় ক্ষুদ্রতম দেশ হিসেবে বিশ্বকাপের মঞ্চে পা রাখছে। এর আগে একমাত্র আইসল্যান্ডই ছোট দেশ হিসেবে এই কৃতিত্ব দেখিয়েছিল (২০১৮ বিশ্বকাপে)।
কেপ ভার্দের ফুটবল ইতিহাসে এটি নিঃসন্দেহে সোনার অধ্যায়। ২০১৩ এবং ২০২৩, দু’বার আফ্রিকা কাপ অব নেশনসের কোয়ার্টার ফাইনালে পৌঁছেছিল তারা। বর্তমানে বিশ্ব র্যাঙ্কিংয়ে ৭০ নম্বরে থাকা দলটি এবার বিশ্বকাপে নাম লিখিয়ে আফ্রিকার ছয় নম্বর দল হিসেবে টিকিট নিশ্চিত করল।
গত মাসে ক্যামেরুনের বিরুদ্ধে ১-০ জয় তাদের গ্রুপ ডি-র শীর্ষে পৌঁছে দেয়। লিবিয়ার বিরুদ্ধে ৩-৩ ড্রয়ের পর শনিবার এসওয়াতিনিকে হারিয়েই তারা নিশ্চিত করল ইতিহাস।
ম্যাচ দেখতে গিয়েছিলেন কেপ ভার্দের প্রেসিডেন্ট হোসে মারিয়া নেভেসও। প্রথমার্ধে কিছুটা চাপ থাকলেও দ্বিতীয়ার্ধে গোল পেতেই খেলায় দখল নেয় ব্লু শার্কসরা।
শামরক রোভার্সের ডিফেন্ডার রবার্তো ‘পিকো’ লোপেস বলেন, “আফ্রিকার জন্য বিশ্বকাপে কোয়ালিফাই করা সব সময় কঠিন ছিল। কিন্তু এবার বেশি স্লটস থাকায় আমাদের সুযোগ বেড়েছে। প্রথম হওয়ার লড়াই আমাদের অনুপ্রেরণা দিয়েছে।”
২০২০ সাল থেকে দলের কোচ বুবিস্তা— যিনি নিজেও একসময় জাতীয় দলের ফুটবলার ছিলেন। তাঁর তত্ত্বাবধানে দলটি গড়ে উঠেছে সংগঠিত রক্ষণ, টেকনিক্যাল মিডফিল্ড ও দ্রুতগতির ফরোয়ার্ডদের মেলবন্ধনে।
দেশের ঘরোয়া লিগে মাত্র ১২টি ক্লাব থাকলেও প্রবাসী ফুটবলারদের ওপর নির্ভর করেই দল গড়েছে কেপ ভার্দে। মজার ব্যাপার, পিকো লোপেসকে জাতীয় দলে ডাকা হয়েছিল লিংকডইন মারফত!
গত বছর প্যারিস অলিম্পিকে বক্সার ডেভিড দে পিনা দেশের ইতিহাসে প্রথম অলিম্পিক পদক জেতেন। এবার বিশ্বকাপের টিকিট পেয়ে দ্বীপদেশটির খেলাধুলার নতুন অধ্যায়ের সূচনা হল। আসছে বিশ্বকাপে আফ্রিকার প্রতিনিধি দল: মরক্কো, তিউনিসিয়া, মিশর, আলজেরিয়া, ঘানা ও কেপ ভার্দে।