কোনওরকমে দুটো ছাতার সাপোর্ট দিয়ে ব্যান্ডেজ করে অ্যাম্বুলেন্সে তোলা হয় হাসপাতাল নিয়ে যাওয়ার জন্য।

তারক হেমব্রম
শেষ আপডেট: 7 July 2025 17:55
দ্য ওয়াল ব্যুরো: অবাক করা ঘটনা ঘটে গেল কলকাতা লিগের (CFL) ম্যাচ চলাকালীন। ব্যারাকপুরের বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় স্টেডিয়ামে এদিন ম্যাচ ছিল মোহনবাগান ও রেলওয়ে এফসির (Mohunbagan vs Railway FC) মধ্যে। সেই ম্যাচে দেখা গেল চূড়ান্ত অবব্যস্থা। লজ্জায় মাথা হেঁট হল বাংলার ফুটবলের।
ম্যাচের ৩৫ মিনিটে পায়ে চোট পান রেলওয়ে এফসির তরুণ ফুটবলার তারক হেমব্রম। মাটিতে পরে কাতরাতে শুরু করেন তিনি। চোট যে ভালই লেগেছে তা বোঝাও যাচ্ছিল। কিন্তু অবাক হতে হল আইএফএ-র পরিচালন ব্যবস্থা দেখে। মাঠে ছিল না চিকিৎসার ন্যুনতম ব্যবস্থাও। তাঁর পায়ে কোনওরকমে দুটো ছাতার সাপোর্ট দিয়ে ব্যান্ডেজ করে অ্যাম্বুলেন্সে তোলা হয় হাসপাতাল নিয়ে যাওয়ার জন্য। সেই ছবি মূহূর্তে ভাইরাল হয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। তীব্র সোরগোল পড়ে গিয়েছে এই ঘটনায়, উঠেছে নিন্দার ঝড়। নেটিজেনরা বলছেন, এই যদি চিকিৎসার হাল হয়, তবে বন্ধ হয়ে যাক কলকাতা লিগ।
মোহনবাগানের বিরুদ্ধে ম্যাচ চলাকালীন প্রথমার্ধে মার্শাল কিস্কুর ট্যাকেলে গুরুতর আহত হয়ে মাঠ ছাড়েন রেলওয়ের তারক হেমব্রম। জানা গিয়েছে তাঁর পা ভেঙে গিয়েছে। সঙ্গে সঙ্গে তারকের সাহায্যে এগিয়ে আসেন মোহনবাগান দলের চিকিৎসক। যন্ত্রণা উপশমের জন্য দ্রুত ইঞ্জেকশন তিনি।
এই প্রসঙ্গে আইএফ সচিব অনির্বাণ দত্ত বলেছেন, “কারও পা ভেঙে গেলে সাধারণত দুটো সাপোর্ট দুই দিকে দিয়ে ব্যান্ডেজ করা হয়। কাঠ বা শক্ত কোনও জিনিস সেই ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয়। এখানেও হয়তো সেটাই করা হয়েছে। আমরা প্রতিটি দলকে বলে দিয়েছি, মেডিক্যাল টিম মাঠে রাখা বাধ্যতামূলক। মোহনবাগানের মেডিক্যাল টিমই সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসার ব্যবস্থা করেছে। তবে রেলওয়ে এফসির কোনও মেডক্যাল টিম ছিল কি না, সেটা খোঁজ নিয়ে দেখতে হবে। এই ধরনের ইঞ্জুরি কখনওই কাম্য নয়। ছেলেটিকে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তাঁর চিকিৎসায় আমরা সবরকম ব্যবস্থাই গ্রহণ করব।”
ম্যাচের নাটকীয়তা অবশ্যই সেখানে শেষ হয়নি। ৬৩ মিনিটে দুই দলের মধ্যে গন্ডগোল বাঁধে। যার পরিপ্রেক্ষিতে রেফারি লাল কার্ড দেখান মোহনবাগানের সালাউদ্দিন ও রেলওয়ের এফসির গোলরক্ষক সুদীপ্ত বন্দ্যোপাধ্যায়কে।
ম্যাচে অবশ্য জিতেছে সবুজ-মেরুন ব্রিগেডই। গত ম্যাচে চার গোলে জেতার পর এদিন জয় এসেছে ২-০ ব্যবধানে। ৫ মিনিটের মাথায় মোহনবাগানকে এগিয়ে দেন সন্দীপ মালিক। এরপর একেবারে শেষের দিকে ব্যবধান বাড়ান শিবম মুণ্ডা।