ইউনাইটেডের জন্য এই হারের ছবিটা পরিচিত। গত সিজনে তাদের জার্নি শেষ হয়েছিল পনেরো নম্বর স্থানে। নতুন কোচ রুবেন আমারিমের অধীনে এবার ঘুরে দাঁড়ানোর লড়াই।

ইউনাইটেড বনাম আর্সেনাল
শেষ আপডেট: 18 August 2025 10:45
দ্য ওয়াল ব্যুরো: নতুন মরশুম। নতুন জার্নি। কিন্তু রবিবাসরীয় ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে (Old Trafford) ম্যাঞ্চেস্টার ইউনাইটেডের (Manchester United) ভাগ্যের রেখা বদলাল না। সেই পরাজয়। সেই লিগ টেবিলে পনেরো নম্বর স্থান। চিরশত্রু আর্সেনালের (Arsenal) সেট পিস জুজুর রহস্যভেদ করতে ব্যর্থ রুবেন আমোরিমের টিম। কর্নার থেকে করা গোলে গোলে ম্যাচ জিতে নিল গানার্সরা (ম্যান ইউ ০-১ আর্সেনাল)। সেই সঙ্গে মরশুমের পয়লা নম্বর ম্যাচে জয় ছিনিয়ে নিয়ে বুঝিয়ে দিল: এবার আর দু’নম্বর নয়, প্রথম স্থানে থেকে প্রিমিয়ার লিগ (EPL) ট্রফি জেতাই তাদের আসল চাঁদমারি!
গতকালের ম্যাচে শুরু থেকেই ছিল চাপা উত্তেজনা। তেরো মিনিটের মাথায় ইউনাইটেড গোলরক্ষক আলতাই বায়িন্দিরের ভুলে গোল করে এগিয়ে যায় আর্সেনাল। গোলকিপারের হাত ফসকানো বল নিখুঁত হেডারে জালে জড়ান ইতালিয়ান ডিফেন্ডার রিকার্দো কালাফিওরি। আর সেই একমাত্র গোলেই নির্ধারিত হল ম্যাচের ভাগ্য।
পিছিয়ে পড়েও ম্যাঞ্চেস্টার ইউনাইটেড ভরসা হারায়নি। নতুন সিজনের আগে প্রায় ২০০ মিলিয়ন পাউন্ড খরচ করে আক্রমণভাগ সাজানো হয়েছে। এক অর্থে নতুন ফ্রন্ট থ্রি! নয়া সাইনিং ব্রায়ান এমবেমো আর মাতেয়ুস কুনহা প্রথম একাদশে সুযোগ পান। দ্বিতীয়ার্ধে বদলি হিসেবে নামেন বেনজামিন সেশকো। প্রথমার্ধে কুনহা আর এমবেমোর জুটি বেশ কয়েকবার আর্সেনালের রক্ষণে অস্বস্তি তৈরি করে। গ্যাব্রিয়েল আর সালিবাকে বারবার চাপে ফেলে। যদিও সঠিক ফিনিশিংয়ের অভাব আর আর্সেনালের স্প্যানিশ গোলরক্ষক দাভিদ রায়ার বিচক্ষণতায় গোল মেলেনি।
ইউনাইটেড সবচেয়ে ভাল সুযোগ পায় বিরতির আগে। তরুণ প্যাট্রিক ডোরগুর দূরপাল্লার জোরালো শট সরাসরি পোস্টে লেগে ফিরে আসে। দ্বিতীয়ার্ধেও বেশ কিছু হাফ চান্স হাতে পান ব্রুনো ফার্নান্দেজরা। এমবেমোর হেড গোলমুখে গেলেও অসাধারণ সেভে দলকে রক্ষা করেন রায়া। কুনহার শটও দারুণ দক্ষতায় ঠেকান তিনি। আর্সেনালের কিপারের ধারাবাহিক সেভ দলকে বাঁচিয়ে রাখে।
আর্সেনালের আক্রমণভাগ সেভাবে জ্বলে ওঠেনি। নতুন সাইনিং সুইডিশ স্ট্রাইকার ভিক্টর গিয়োকেরেস কার্যত অদৃশ্য। প্রিমিয়ার লিগে তাঁর অভিষেকটা মোটেও স্মরণীয় হল না। ঘণ্টাখানেক মাঠে থেকে কোনও কার্যকরী ভূমিকা রাখতে পারেননি। পরে তাঁর বদলে নামানো হয় কাই হাভার্টজকে। যদিও তাতেও আক্রমণে বাড়তি ধার আসেনি।
ম্যাচ শেষে গোলদাতা কালাফিওরি বলেন, ‘আমরা সব সময় সেট পিস নিয়ে কাজ করি। আজ সেটাই মাঠে দেখা গেল। অবশ্যই উন্নতির জায়গা রয়েছে। তবে সতীর্থরা প্রস্তুত। ভিতরে যে আত্মবিশ্বাস আছে, সেটা আমাদের আরও উপরে তুলবে। আশা করি, এই সিজনে আমি আরও বেশি সুযোগ পাব!’
অন্যদিকে ইউনাইটেড অধিনায়ক ব্রুনো ফার্নান্দেজ মনে করেন, দল খেলায় নিয়ন্ত্রণ রাখলেও কাজে লাগাতে পারেনি। তাঁর ভাষায়, ‘আমরা অনেক সুযোগ পেয়েছি। কিন্তু তাতে গোল আসেনি। পরের বার আরও ভালো করতে হবে। কুনহা আর এমবেমো সঠিক পজিশনে খেলেছে। জানি, ওরা কতটা বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে। প্রথম ম্যাচেই তার ছাপ স্পষ্ট!’
এই জয়ে আর্সেনাল মরশুমের শুরুতেই শক্ত ভিত গড়ে তুলল। গত তিন মরশুম সেকেন্ড পজিশনে শেষ করায় এবার মিকেল আর্তেতার উপর চাপ আরও বেড়েছে। ২০০৩-০৪ সালের পর লিগ জেতেনি আর্সেনাল। তাই প্রত্যাশা প্রবল। দলের রক্ষণ ও গোলরক্ষকের নির্ভরযোগ্যতায় তিন পয়েন্ট পাওয়া গেলেও আক্রমণে ঘাটতি প্রশ্ন তুলেছে।
ইউনাইটেডের জন্য এই হারের ছবিটা পরিচিত। গত সিজনে তাদের জার্নি শেষ হয়েছিল পনেরো নম্বর স্থানে। নতুন কোচ রুবেন আমারিমের অধীনে এবার ঘুরে দাঁড়ানোর লড়াই। প্রথম দিনেই পরাজয়ের হতাশা সত্ত্বেও এমবেমো, কুনহা আর সেশকোর পারফরম্যান্স আশার আলো জাগিয়েছে।
সবলিমিয়ে, লিগের প্রথম উইকেন্ডেই শিরোপাদখলে প্রতিদ্বন্দ্বিতার ছাপ স্পষ্ট। আর্সেনাল, লিভারপুল আর ম্যানচেস্টার সিটি—তিন দলই জয় দিয়ে শুরু করেছে। যত দিন গড়াবে, লড়াই আরও তীব্র হবে। গতকালের অন্য দুই ম্যাচে চেলসি গোলশূন্য ড্র করেছে ক্রিস্টাল প্যালেসের বিরুদ্ধে আর নটিংহ্যাম ফরেস্টের হাতে পর্যুদস্ত ব্রেন্টফোর্ড (৩-১)।