মুদ্রার পিছনের দিকে ফুটে উঠেছে ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম বিখ্যাত মুহূর্ত - ১৯৮৬ মেক্সিকো বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে মারাদোনার একক দৌড়ে করা ‘গোল অফ দ্য সেঞ্চুরি’।

দিয়েগো মারাদোনা
শেষ আপডেট: 30 October 2025 09:42
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আজ বিশ্ব ফুটবলের রাজপুত্রের জন্মদিন (Birthday)। সকল ফুটবল বা বলা ভাল, আর্জেন্টিনা সমর্থকদের জন্য দিয়েগো মারাদোনা (Diego Maradona) দিবস। স্বাভাবিকভাবে দিয়েগোর দেশে আজ উৎসব-উচ্ছ্বাসের শেষ থাকবে না। আর এই খুশির দিনেই মারাদোনাকে অনন্য সম্মান জানাল আর্জেন্টিনার কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক (Argentina Central Bank)।
২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপকে সামনে রেখে কিংবদন্তি দিয়েগো মারাদোনাকে সম্মান জানিয়ে স্মারক রুপোর মুদ্রা (Anniversary Coin) প্রকাশ করেছে তারা। ফুটবল ইতিহাসের সোনালি অধ্যায় এবং দেশের অবিচ্ছেদ্য আবেগ - এই দুই মিলিয়ে তৈরি হয়েছে বিশেষ স্মারকটি।
মুদ্রার পিছনের দিকে ফুটে উঠেছে ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম বিখ্যাত মুহূর্ত - ১৯৮৬ মেক্সিকো বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে মারাদোনার একক দৌড়ে করা ‘গোল অফ দ্য সেঞ্চুরি’। ২০২৬ সালে সেই ঐতিহাসিক গোলের ৪০ বছর পূর্তি, তাই এই নকশার তাৎপর্য আরও গভীর।
সামনের দিকে রয়েছে নীচ থেকে ওপরে উঠতে থাকা ফুটবলের ছবি যা আর্জেন্টিনার ফুটবলপ্রেম, উচ্ছ্বাস এবং দলের প্রতি অটল ভালবাসার প্রতীক। কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক জানিয়েছে, এই মুদ্রা দেশের ফুটবল-স্পিরিট, গর্ব এবং মারাদোনার প্রতিভার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি।
মুদ্রাটি তৈরি হয়েছে ৯২৫ গ্রেডের রুপো দিয়ে। ওজন ২৭ গ্রাম, ব্যাস ৪০ মিলিমিটার। সংখ্যা মাত্র আড়াই হাজার। এর অর্থ, এটি একটি দুর্লভ সম্পদ। দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১০ ডলার। আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের জন্য একই নকশায় সোনার মুদ্রাও আনার পরিকল্পনা রয়েছে।

১৯৮৬ সালের বিশ্বকাপে মারাদোনার খেলা শুধু আর্জেন্টিনাকে বিশ্বসেরা করে তোলেনি, বিশ্বফুটবলের গতিপথও বদলে দিয়েছিল। পুরো টুর্নামেন্ট জুড়ে তাঁর ম্যাজিক আজও অনন্য। তাই তাঁকে এখনও বিশ্বজুড়ে ‘ফুটবলের রাজপুত্র’ বলেই মনে করা হয়।
বর্তমানেও বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে লিওনেল মেসির নেতৃত্বে দেশ আবার বিশ্বসেরা হয়। দুই প্রজন্মের সাফল্যের এই সেতুবন্ধন মারাদোনাকে আরও প্রাসঙ্গিক করে তুলেছে। তাই আর্জেন্টিনার স্মারক মুদ্রা শুধু কোনও দ্রব্য নয়, এক প্রজন্মের স্মৃতি, জাতীয় গর্ব এবং ফুটবল–ভালোবাসার উজ্জ্বল প্রতীক।
প্রসঙ্গত, আগামী বিশ্বকাপ ২০২৬ সালের ১১ জুন থেকে ১৯ জুলাই পর্যন্ত তিন দেশ - মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা এবং মেক্সিকো মিলিতভাবে আয়োজন করবে। প্রথমবার তিনটি দেশ যৌথভাবে ফুটবল বিশ্বকাপের আয়োজন করতে চলেছে।