সাদিও মানের পরিস্থিতি আলাদা। ২০২২-এ ট্রফি জয়। চাপ কম। সেনেগাল তৃতীয়বার ফাইনাল খেলতে মরিয়া। মানে জানেন, এই ম্যাচে ধৈর্যই সবচেয়ে বড় অস্ত্র।

সালাহা বনাম মানে
শেষ আপডেট: 13 January 2026 11:20
দ্য ওয়াল ব্যুরো: তিন বছর পর আবার একই মাঠে। তবে এবার একই জার্সি নয়। আফকন সেমিফাইনালে সেনেগাল বনাম মিশর। যে লড়াইয়ের দুই প্রান্তে দাঁড়িয়ে দুই প্রাক্তন সতীর্থ: সাদিও মানে (Sadio Mané) আর মহাম্মদ সালাহ (Mohamed Salah)। ফাইনালের টিকিট চূড়ান্ত হবে এই দ্বন্দ্বের ফলাফলে।
পুরনো স্মৃতি, নতুন যুদ্ধ
লিভারপুলে একসঙ্গে শেষ খেলা ২০২২-এর চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ফাইনালে। তারপর মানে বায়ার্ন ঘুরে আল-নাসরে। সালাহ রয়ে গেছেন লিভারপুলেই। এবার তাঁরা মুখোমুখি—সেনেগাল ও মিশরের হয়ে—মরক্কোর তানজিয়ারে আফ্রিকা কাপ অফ নেশনসের (Africa Cup of Nations) সেমিফাইনালে।
সালাহর খিদে, মানের স্বস্তি
মিশর অধিনায়ক সালাহ চলতি টুর্নামেন্টে চার ম্যাচে চার গোল করেছেন। লক্ষ্য একটাই—প্রথমবার আফ্রিকা-সেরার খেতাব জেতা। ২০১৭ ও ২০২২—দু’বার ফাইনালে হারের যন্ত্রণা তাঁর সঙ্গী। ২০২২-এ পেনাল্টি শুটআউটে মানের শেষ শটে স্বপ্ন ভেঙেছিল। এবার সেই হিসেব মেটাতে চান সালাহ।
অন্যদিকে সাদিও মানের পরিস্থিতি আলাদা। ২০২২-এ ট্রফি জয়। চাপ কম। সেনেগাল তৃতীয়বার ফাইনাল খেলতে মরিয়া। মানে জানেন, এই ম্যাচে ধৈর্যই সবচেয়ে বড় অস্ত্র।
পেনাল্টির ভূত, যোগ্যতার লড়াই
২০২২-এ আফকন ফাইনাল। তারপর বিশ্বকাপ প্লে-অফ। দু’বারই পেনাল্টিতে মানে জিতেছেন, সালাহ হেরেছেন। সেই স্মৃতি আজও টাটকা। তবে ২০২৬ বিশ্বকাপের যোগ্যতা অর্জন করেছে দু’দল। এখন ফোকাস একটাই—মহাদেশীয় শ্রেষ্ঠত্ব।
বন্ধুত্ব শেষ, প্রতিদ্বন্দ্বিতা শুরু
ক্লপ যুগে মানে–সালাহ–ফিরমিনো এই ত্রিফলা আক্রমণ ইউরোপ কাঁপিয়েছে। মাঠে বোঝাপড়ায় ঘাটতি গোড়ায় চোখে পড়েনি। পরে পরিস্থিতি বদলে যায়। মানে নিজেই জানান, বল পাস না পাওয়া নিয়ে প্রায়শই রেগে যেতেন তিনি। আজ সেই গল্প অতীত। এখন তাঁরা দুই দেশের নেতা। দায়িত্বের অঙ্ক বদলে গিয়েছে।
ফলাফলের সমীকরণ
সেনেগাল চাইছে ধারাবাহিকতা। মিশর ইতিহাস। মানের অভিজ্ঞতা বনাম সালাহর তাড়না—এই দ্বন্দ্বেই নির্ধারিত হবে ফাইনালের একটি আসন। আবেগ নয়, ফলাফলই বলবে শেষ কথা।