ইরানের রাস্তায় রাস্তায় এখন দেখা যাচ্ছে, লেদার শ্যুট, জিনস, জ্যাকেট পরা মেয়েরা স্কুটি ও বাইক চালিয়ে ঘোরাফেরা করছেন।

বোতল থেকে জিন বেরিয়ে পড়েছে।
শেষ আপডেট: 13 November 2025 12:37
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ‘দুচাকায় বিপ্লব’ ইরানে। তেহরানের রাজনৈতিক দণ্ডমুণ্ডের কর্তারা যখন মেয়েদের বাইক চালানোর উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা নিয়ে দাড়ি ছিঁড়ছেন, তখন দেশের রাজপথের উপর নারীদের ‘দুচাকার উপেক্ষা’ লিখে দিচ্ছে এক নতুন ইতিহাস। ইরানের রাস্তায় রাস্তায় এখন দেখা যাচ্ছে, লেদার শ্যুট, জিনস, জ্যাকেট পরা মেয়েরা স্কুটি ও বাইক চালিয়ে ঘোরাফেরা করছেন। এমনকী বোরখা পরেও স্কুটি চালাচ্ছেন অনেকে। বিশুদ্ধ শরিয়তি আইনে চলা দেশে তা নিয়ে শোরগোল পড়ে গিয়েছে রক্ষণশীল ইসলামি ধর্মবেত্তাদের। তাঁরা মেয়েদের বাইক চালানোর উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করতে আইন পরিবর্তনের ছক কষছেন। কিন্তু, সরকারি সবুজ সঙ্কেতের তোয়াক্কা না করেই রাজপথে লাল সিগন্যালকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে দিচ্ছেন মেয়েরাই।
তেহরানের এক শীর্ষ কর্তা এই বিতর্ককে উসকে দিয়ে দুদিন আগেই বলেন, মেয়েদের বাইক চালানোর লাইসেন্স দেওয়া উচিত কিনা তা নিয়ে পার্লামেন্টে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত। যদি ধর্মের পথে চলতে হয়, তাহলে শরিয়তি বিধিতে মোটরসাইকেল চড়ায় কোনও নিষেধ নেই। তাঁর মন্তব্যের পর অধিকাংশ সংবাদমাধ্যমের অনুমান, ইরানের মেয়েদের বাইক চালানোয় অনুমতি দেওয়া হতে পারে। যদিও রক্ষণশীল সাংসদদের আপত্তির কারণ, বলটি তাঁদের দিকে ছুড়ে দেওয়া হচ্ছে। সরকার নিজে থেকে দায়িত্ব নিতে চাইছে না।
সরকারি ওই আধিকারিক বলেন, মেয়েরা ইতিমধ্যেই হিজাব না পরেই বাইক-স্কুটি নিয়ে বেরিয়ে পড়েছে। এর মানে যে, বোতল থেকে জিন বেরিয়ে পড়েছে। তাঁর কথা যে সত্যি, তা প্রমাণ করেছেন ইরানি মেয়েরাই। রাস্তাঘাটে এখন সর্বত্র মেয়েদের দুচাকার চড়ে দেখা যাচ্ছে। তাঁরা বাচ্চাদের স্কুলে নিয়ে যাচ্ছেন, কাজে যাচ্ছেন। এমনকী দল বেঁধে সোশ্যাল ক্লাবেও যাচ্ছেন। এইসব ভিডিওতে হাজার হাজার লাইক পড়ে যাচ্ছে প্রতি মুহূর্তে।
শিয়া শাসকদের সর্বোচ্চ প্রধান আয়াতুল্লা আলি খামেনেইয়ের নির্দেশ, মেয়েদের দুচাকা গাড়ি চালানো ‘হারাম’ (নিষিদ্ধ)। জনসমক্ষে এরকম কাজ করলে মেয়েদের প্রতি পুরুষরা আকর্ষিত হয়, তাই এরকম কাজ উচিত নয়। তাঁর এই নির্দেশে ট্রাফিক আইনেও বদল ঘটিয়েও বাইক-স্কুটি চালানো কেবল ‘মর্দানি’ (পুরুষদের) কাজ বলে উল্লেখ করা হয়। তারপর থেকে রাস্তায় মেয়েদের দুচাকা চালানো নিয়ে পুলিশি ধরপাকড় শুরু হয়।

এর বিরোধীরা দেখিয়েছেন, ইসলামি আইনে কোনওদিন মেয়েদের ঘোড়া চালানোয় নিষেধাজ্ঞা নেই। এমনকী মেয়েরা সহযাত্রী হিসাবে মোটরসাইকেলে চাপেন বহুদিন ধরেই। ইরানি আইনেও মেয়েদের দুচাকায় চাপায় কোনও নিষেধাজ্ঞা নেই। কিন্তু ট্রাফিক আইনে একে পুরুষদের কাজ বলে একটি বিভেদ টানা হয়েছে। ফলে লাইসেন্সহীন মেয়েরা দুর্ঘটনা ঘটলে তার পুরো ক্ষতিপূরণ বাধ্য থাকবে। এমনকী রাস্তায় পুলিশ ধরলেও বিরাট আর্থিক জরিমানা এবং অপরাধ বলে গণ্য হবে।
প্রেসিডেন্সিয়াল পার্লামেন্টারি অফিস সম্প্রতি জানিয়েছে যে, তারা একটি বিলের খসড়া তৈরি করছে, যাতে চলতি আইনের সংশোধনী আনা যায়। তাতে মেয়েদের মোটরসাইকেল লাইসেন্স দেওয়ার বিধি আনা হতে পারে। এক আইনি বিশেষজ্ঞ বলেন, মহিলাদের মোটরসাইকেল চালানোর বিরোধীদের কাছে কোনও যুক্তিসঙ্গত, নৈতিক অথবা ধর্মীয় ভিত্তি নেই। সৌদি আরবের প্রাচীন নিষেধাজ্ঞার মতোই এই বৈষম্য অবাস্তব।