Date : 14th Apr, 2026 | Call 1800 452 567 | info@thewall.in
লক্ষ্য ২০২৯ লোকসভা ভোট, তড়িঘড়ি মহিলা সংরক্ষণ কার্যকরে মরিয়া মোদী! বাধা হয়ে দাঁড়াবে কি কংগ্রেস?Gold investment: যুদ্ধের বাজারে সোনার দাম কমছে! এটাই কি বিনিয়োগের সেরা সময়? কী বলছেন বিশেষজ্ঞরারহস্য আর মনের অন্ধকারে ঢুকে পড়ল ‘ফুল পিসি ও এডওয়ার্ড’! টিজারে চমকজিৎ-প্রযোজক দ্বন্দ্বে আটকে মুক্তি! ‘কেউ বলে বিপ্লবী, কেউ বলে ডাকাত’-এর মুক্তি বিশ বাঁও জলে?কিউআর কোড ছড়িয়ে হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ! কীভাবে রাতারাতি নয়ডার বিক্ষোভের প্ল্যানিং হল, কারা দিল উস্কানি?নয়ডা বিক্ষোভ সামাল দিতে 'মাস্টারস্ট্রোক' যোগী সরকারের! শ্রমিকদের বেতন বাড়ল ৩ হাজার টাকা পর্যন্ত Jeet: ভুয়ো প্রচার! ভোট আবহে গায়ে রাজনীতির রঙ লাগতেই সরব জিৎ৪ হাজার থেকে নিমেষে ১ লক্ষ ৮৫ হাজার ফলোয়ার! এক স্পেলেই সোশ্যাল মিডিয়ার নতুন তারকা প্রফুল্লসামনে কাজল শেখ, মমতা কথা শুরু করতেই হাত নেড়ে বিরক্তি প্রকাশ অনুব্রতর! সিউড়িতে কী ঘটলEPL: নায়ক ওকাফর! ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে ৪৫ বছরের অভিশাপ মুছল লিডস, রক্ষণের ভুলে ডুবল ম্যান ইউ

ভাইয়া বলে ডাকবে না, তোমায় বিয়ে করব, রাস্তায় দাঁড়িয়ে প্রেমপ্রস্তাব ‘গব্বর সিং’ আমজাদ খানের

আজ, বুধবার, ১২ নভেম্বর তাঁর ৮৫-তম জন্মদিন।

ভাইয়া বলে ডাকবে না, তোমায় বিয়ে করব, রাস্তায় দাঁড়িয়ে প্রেমপ্রস্তাব ‘গব্বর সিং’ আমজাদ খানের

মানবিকতার দিক থেকেও তিনি ছিলেন অতুলনীয়।

শুভেন্দু ঘোষ

শেষ আপডেট: 12 November 2025 10:51

দ্য ওয়াল ব্যুরো: একটি চরিত্র। একটি ব্যক্তি। একটি ডাকাতের নাম। ব্যস! এটুকুই। ভারতীয় চলচ্চিত্রে শুধু নয়, তামাম দেশের জনমানসে ঢুকে রয়েছে গব্বর সিংয়ের নাম। রাজনীতির মহল্লা থেকে গরিবের কোঠা পর্যন্ত অবাধ যাতায়াত গব্বরের প্রবাদ। সেই চরিত্রকে যিনি অমর করে দিয়ে গিয়েছেন তাঁর নাম আমজাদ খান। আজ, বুধবার, ১২ নভেম্বর তাঁর ৮৫-তম জন্মদিন। দর্শন শাস্ত্র ও ফারসি সাহিত্যে প্রথম শ্রেণিতে স্নাতকোত্তর করেছেন আমজাদ খান। যা তাঁর সিনেমার চরিত্রের সম্পূর্ণ বিপরীত। কলেজে থাকাকালীনই নাটকে অভিনয় দিয়ে হাতেখড়ি। একটিই ছবি শোলে তাঁর জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। এরপর প্রায় দেড় যুগের বেশি হিন্দি ছবির পরিচালকদের খলনায়ক চরিত্র নিয়ে ভাবতে হয়নি।

বেশ কিছু ছবিতে আমজাদ খানের অভিনয় মনে রাখার মতো। যেমন- সত্যজিৎ রায়ের শতরঞ্জ কি খিলাড়ি, কুরবানি, ইয়ারানা, মুকদ্দর কি সিকান্দর, লাভ স্টোরি ও উৎসব। এছাড়াও আমজাদ খান অনেক ছবিতে সিরিও-কৌতুকাভিনেতার কাজও করেছেন। অল্প বয়সে স্থূলকায় হয়ে যাওয়া এবং গব্বর সিংয়ের ছায়া তাঁর চারধারে তৈরি হওয়া সত্ত্বেও অত্যন্ত নরম স্বভাবের ছিলেন আমজাদ। অতি বড় নিন্দুকেও বলতে পারবে না তাঁর সঙ্গে কারও ঝগড়া হয়েছে। শুধু তাই নয়, মানবিকতার দিক থেকেও তিনি ছিলেন অতুলনীয়। আমজাদের খানের মৃত্যুর পর তাঁর ছেলে শাহদাব খান বলেছিলেন, প্রযোজকরা তাঁর বাবার কাছ থেকে ১.২৫ কোটি টাকা ধার নিয়েছিলেন, কিন্তু শোধ দেননি।

আমজাদের হঠাৎ মৃত্যুর পর তাঁর পরিবার অকূল পাথারে পড়ে। কেউ সে সময় পাশে দাঁড়ায়নি। চরম অর্থ সংকটের মধ্যে তখন মধ্য-পূর্বের এক গ্যাংস্টার আমজাদের পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর প্রস্তাব দেয়। কিন্তু আমজাদের স্ত্রী শেহলা খান তৎক্ষণাৎ সেই প্রস্তাব ফিরিয়ে দেন। তিনি জানিয়ে দেন, আমজাদ জীবদ্দশায় কখনও অন্ধকার জগতের কাছ থেকে একটি পয়সাও ছুঁয়ে দেখেননি। তখন তিনিও স্বামীর বিপরীত কাজ করতে পারবেন না। শেহলা একটি নির্মাণকাজের ব্যবসা শুরু করে একাই গোটা পরিবারকে বাঁচান।

আমজাদ খান ও শেহলা খান মুম্বইয়ের বান্দ্রায় প্রতিবেশী ছিলেন। ১৪ বছর বয়সি শেহলা যখন স্কুলে পড়তেন তখন আমজাদ বিএ পড়ছেন। দুজনে একসঙ্গে ব্যাডমিন্টন খেলতেন। খেলার সময় শেহলা তাঁকে ভাইয়া বলে ডাকতেন। একদিন আমজাদ তাঁকে বলেন, আমাকে ভাইয়া বলে ডাকবে না তুমি। কিছুদিনের মধ্যেই শেহলা যখন স্কুল থেকে ফিরছিলেন, পথের মধ্যে দাঁড়িয়ে আমজাদ প্রেমের প্রস্তাব দেন। আমজাদ বলেছিলেন, তাড়াতাড়ি বড় হও, আমি তোমায় নিকাহ করব।

এর কিছুদিন পরে আমজাদের বাড়ি থেকে শেহলাদের বাড়িতে আনুষ্ঠানিক বিয়ের প্রস্তাব যায়। কিন্তু, শেহলার বাবা সেখানেই দাঁড়িয়ে নাকচ করে দেন। বলেন, তাঁর মেয়ে খুবই ছোট। সেই শুনে রেগে গিয়ে আমজাদ শেহলাকে বলেছিলেন, এটা যদি তাঁর গ্রামে ঘটত। তাহলে তিনি শেহলার পরিবারের তিন পুরুষকে মুছে দিতেন, বিয়ের প্রস্তাব না করে দেওয়ার জন্য। শেহলার বাবা মেয়েকে আমজাদের সঙ্গে মেলামেশা বন্ধ করতে নির্দেশ দেন। কিন্তু, শেহলাও লুকিয়েচুরিয়ে যোগাযোগ রাখতেন আমজাদের সঙ্গে।

শেহলার বাবা তাঁকে আলিগড়ে পাঠিয়ে দেন। সেখান থেকেও চিঠিপত্রে যোগাযোগ চলে আমজাদের সঙ্গে। কিন্তু আলিগড়ে শেহলা অসুস্থ হয়ে পড়লে তাঁকে নিয়ে আসা হয় মুম্বইতে। আমজাদের কাছে তিনি তখন ফারসি ভাষা পড়তে শুরু করেন। একবার পুরনো একটি সাক্ষাৎকারে শেহলা বলেছিলেন, জীবনে প্রথম প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য সিনেমা তিনি দেখেছিলেন আমজাদের সঙ্গেই। তাঁদের অমরপ্রেম দেখে দ্বিতীয়বার আর শেহলার বাবা বিয়েতে আপত্তি করেননি। ১৯৭২ সালে তাঁদের নিকাহ সম্পন্ন হয়। 

আমজাদ খানের জীবনে সবথেকে দুঃখজনক ঘটনা ছিল, তাঁর স্ত্রীর প্রথম সন্তান শাহদাব হওয়ার সময়। আমজাদ খানের কাছে হাসপাতালের বিল মেটানোর পয়সাও ছিল না। সেই সময় দেব আনন্দের ভাই চেতন আনন্দ তাঁর পাশে এসে দাঁড়ান। চেতন ৪০০ টাকা দিয়ে হাসপাতালের বিল মিটিয়ে দেন। তারপর আমজাদ তাঁর স্ত্রী ও নবজাতককে নিয়ে ঘরে ফিরে আসেন।

আমজাদ খান নিজের সুরে বাঁধা এক অদ্ভুত মানুষ। সেই সময় তিনি মুম্বইয়ের বিখ্যাত পৃথ্বী থিয়েটারে কাজ করতেন। কিন্তু, একদিন কাজের সময় দুধের অভাবে চা পাননি। আমজাদ ছিলেন এক্কেবারে চায়ের নেশাড়ু। পরিচিতরা বলেন, দিনে অন্তত ৩০ কাপ চা খেতেন তিনি। তাই চা খেতে না পেয়ে তিনি একটি মহিষ কিনে নিয়ে আসেন স্টুডিওতে। সবাই দেখে তো হেসে কুটোপাটি। আমজাদও হেসে বলেন, আজ থেকে কারওরই চায়ে দুধের অভাব হবে না।


```