যানজট থেকে শহরবাসী ও ভক্ত-পর্যটকদের মুক্তি দিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী নিজের লোকসভা কেন্দ্রে চালু করেছেন দেশের প্রথম শহুরে রোপওয়ে।
.jpeg.webp)
নরেন্দ্র মোদী ট্রায়াল রানের দিন কাশীতে বলেছিলেন, এটা শহরের যানজট থেকে মুক্তির পরিবেশবান্ধব সমাধান হতে চলেছে।
শেষ আপডেট: 11 November 2025 14:05
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বারাণসী বা কাশীর ভোলবদল। ঘিঞ্জি, অতিরিক্ত জনসংখ্যা ও গাড়ি-রিকশর ভিড়ে প্রায় রোজ অফিসটাইমে অবরুদ্ধ দশায় থাকে বিশ্বনাথের নিজের শহর। সেই যানজট থেকে শহরবাসী ও ভক্ত-পর্যটকদের মুক্তি দিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী নিজের লোকসভা কেন্দ্রে চালু করেছেন দেশের প্রথম শহুরে রোপওয়ে। যা যানজটে হাঁসফাঁস নগরীর বাসিন্দাদের যাতায়াতে নাকাল হওয়ার হাত থেকে সামান্য হলেও অক্সিজেন জোগাবে।
যানজটের হাত থেকে মুক্তি পেতে যখন দেশের অন্যান্য শহরে তৈর হচ্ছে একের পর এক মেট্রো লাইন। ক্রমশ তা আড়ে-বহরেও বাড়ছে। সেখানে প্রাচীনতম শহরের একটি বারাণসী গন্ডোলা যাত্রার মতো অতি প্রাচীন আকাশযাত্রায় লেগে রয়েছে। কারণ, কাশীর সরু সরু রাস্তা। চোরাগলির জন্য বিখ্যাত বারাণসীর প্রতিটি দেওয়ালের ওপারে লুকিয়ে রয়েছে শত শত বছরের ইতিহাস। সেই শহরে ৮০০ কোটি টাকা খরচ করে তৈরি হয়েছে নতুন ৪ কিমির কেবল কার প্রকল্প।
এই প্রকল্পের লক্ষ্য হল, কাশীকে নির্ভরযোগ্য সচল নগরের মর্যাদায় উন্নীত করা। ঠিক একই সময়ে দেশের নগর প্রযুক্তিবিদ এবং নির্মাণ কৌশল এক মহা সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। কারণ, একের পর এক ভুল নকশা, ঘুষকাণ্ডের কারণে সেতু ভেঙে পড়ছে দেশে। সেখানে দেশীয় পরিকাঠামোয় নতুন করে দিশা দেখাতে বারাণসী রোপওয়েকে গবেষণাগারের গিনিপিগ হিসাবে দেখা হচ্ছে।

এটি সম্পূর্ণ হয়ে গেলে এটাই হবে বিশ্বের তৃতীয় যাত্রী পরিবহণের রোপওয়ে প্রকল্প। বলিভিয়ার লা পাজ এবং মেক্সিকো শহরে এরকম রোপওয়ে রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ট্রায়াল রানের দিন কাশীতে বলেছিলেন, এটা শহরের যানজট থেকে মুক্তির পরিবেশবান্ধব সমাধান হতে চলেছে। বারাণসী ক্যান্টনমেন্ট থেকে কাশী বিদ্যাপীঠ, রথযাত্রা, গির্জা ঘর হয়ে গোদোলিয়া মোড় পর্যন্ত বিস্তৃত এই রোপওয়ে। প্রায় ১৪৮টি গন্ডোলা থাকবে এতে। একেকটিতে ৮-১০ জন যাত্রী বসতে পারবেন। আনুমানিক প্রতিদিন ১ লক্ষ যাত্রী চলাচলের সুবিধা মিলবে।
মাটি থেকে রোপওয়ের উচ্চতা হয়েছে ৪৫ মিটার। প্রথম পর্যায়ের কাজ শেষ হবে চলতি বছরের ডিসেম্বরে এবং আগামী বছর ফেব্রুয়ারি থেকে পুরোপুরি চালু হয়ে যাবে এই রোপওয়ে। চারটি রোপওয়ে স্টেশনেই পার্কিং সুবিধা গড়ে দেওয়া হবে। এছাড়াও প্রতিটি স্টেশনে থাকবে প্রাথমিক চিকিৎসা ঘর এবং প্রশিক্ষিত নার্সিং কর্মী। থাকবে অ্যাম্বুল্যান্স সুবিধাও।

গন্ডোলা মিলবে দেড় মিনিট থেকে দু মিনিটের মধ্যে। দিনে মোট ১৬ ঘণ্টা চলবে। ক্যান্টনমেন্ট থেকে গোদুলিয়া যেতে সময় লাগবে মাত্র ১৬ মিনিট। এক ঘণ্টায় একপিঠে প্রায় তিন হাজার যাত্রী নিয়ে যাওয়া যাবে। ইতিমধ্যেই বারাণসী ক্যান্টনমেন্ট রোপওয়ে স্টেশনের দেওয়ালে গঙ্গার ঘাটে বসে সানাই বাদনরত ওস্তাদ বিসমিল্লা খাঁ সাহেবের একটি প্রতিকৃতি তৈরি করা হয়েছে।