মা-ঠাকুমার কাছে গল্প শোনা, এইদিন দুপুর থেকে সারারাত ঘুরে বেড়ায় ভূত-পেত্নির দল।

সত্যিই কী এইদিনে বাতাসে ঘুরে বেড়ায় ভূতপেত্নির দল?
শেষ আপডেট: 13 October 2025 15:44
দ্য ওয়াল ব্যুরো: প্রতিবছর কালীপুজো বা অমাবস্যার আগের দিনটিতে পালিত হয় ভূত চতুর্দশী। মা-ঠাকুমার কাছে গল্প শোনা, এইদিন দুপুর থেকে সারারাত ঘুরে বেড়ায় ভূত-পেত্নির দল। একা বাচ্চাদের দেখতে পেলেই ঘাড় মটকে দেবে। সেই ভয়ে বাচ্চারা এককালে দুপুরে খেলতে বেরতো না। সন্ধ্যায় চুপটি করে বসে থাকত কোনও বড়দের গা ঘেঁষে। গেম আর মোবাইলের যুগে সেইসব ভূতপ্রতের দল আজ উধাও। সত্যিই কী এইদিনে বাতাসে ঘুরে বেড়ায় ভূতপেত্নির দল? একা একা ঘুরলেই কি ঘাড়ে চেপে বসে অশরীরী আত্মারা? কী রয়েছে ভূতে বিশ্বাস করার নেপথ্যে?
ভূত চতুর্দশী মূলত দুটি কারণে পালন করা হয়: একটি হল অশুভ শক্তির বিনাশ ও শুভশক্তির জয় এবং অন্যটি হল- পরলোকগত পিতৃপুরুষদের স্মরণ করা। কথিত রয়েছে, কার্তিক মাসের এই তিথিতে শ্রীকৃষ্ণ বধ করেছিলেন নরকাসুরকে। মনে করা হয়, নরকাসুররূপী রাজা বলি প্রতিবছর ভূত চতুর্দশীর দিন অসংখ্য ভূত-প্রেত নিয়ে মর্ত্যে নেমে আসেন মায়ের পুজো দিতে। ঠিক এই কারণে ভূত চতুর্দশীর অপর নাম নরক চতুর্দশী। কারও কারও মতে, এই দিন যমকে প্রদীপ জ্বালিয়ে পূজা করা হয়, যা নরকের যন্ত্রণা থেকে মুক্তি দেয় বলে বিশ্বাস করা হয়। একটি মতে, দেবী কালী চামুণ্ডারূপে ১৪ ভূতকে সঙ্গে নিয়ে এসে অশুভ শক্তিকে দূর করেন।
পশ্চিম ও দক্ষিণ ভারতে এই তিথিটি নরক চতুর্দশী নামে পরিচিত। এ ছাড়াও কোথাও কোথাও ছোটা দেওয়ালি, রূপ চৌদাস, নরকা চৌদাস, রূপ চতুর্দশী বা নরকপূজা নামেও পরিচিত।
দৈত্যরাজ বলী স্বর্গ, মর্ত্য ও পাতাল দখল করলে অসুররা সবার উপর অত্যাচার শুরু করে। বলীকে থামানোর জন্য ভগবান বিষ্ণু বামন অবতারে বলির কাছে তিন পা জমি চাইলেন। দৈত্যরাজ এতে রাজি হলেন। বামনাবতার দুই পা স্বর্গ ও মর্ত্যে দিলেন। এরপর নাভি থেকে বের হওয়া তৃতীয় পা বলীর মাথায় দিয়ে তাঁকে পাতালে পাঠিয়ে দিলেন। নিজের কথা রাখায় ও তাঁকে চিনেও দান দেওয়ায় বামনরূপী বিষ্ণু বলীকে প্রতি বছর পৃথিবীতে পূজা পাওয়ার আশীর্বাদ করলেন। এরপর থেকে কালীপূজার আগের রাতে রাজা বলি পাতাল থেকে পৃথিবীতে পূজা নিতে আসেন। তার সঙ্গে সহস্র ভূত, প্রেতাত্মা এবং অশরীরী এ সময় আসে।
নরকাসুর নামে এক রাক্ষস ছিল এবং সে পৃথিবীতে মানুষের উপর অত্যাচার করছিল। সে ১৬০০০ গোপীকে বন্দি করেছিল। তাঁরা সকলেই কৃষ্ণের কাছে রাক্ষসকে হত্যা করার জন্য প্রার্থনা করেছিলেন। নরকাসুর ব্রহ্মার কাছ থেকে একটি বর পেয়েছিলেন যে, তিনি কেবল তাঁর মায়ের দ্বারাই নিহত হতে পারেন। তাই ভগবান শ্রীকৃষ্ণ তাঁর স্ত্রী সত্যভামা সহ সমস্ত মেয়েদের উদ্ধার করতে যান। কারণ সত্যভামা পূর্বজন্মে তার মা ছিলেন। চতুর্দশীর এই দিনে তাঁরা রাক্ষসকে বধ করে সবাইকে রক্ষা করেছিলেন।