আসছে ধনতেরাস, সমৃদ্ধি আর ধনের প্রতীক এই দিনে কী কী করলে খুশি হবেন, জেনে নিন।

প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 12 October 2025 12:03
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দীপাবলির পাঁচ দিনের উৎসবের শুরু ধনতেরাস দিয়ে। সমৃদ্ধি, স্বাস্থ্য আর প্রাচুর্যের প্রতীক এই উৎসব এবার পালিত হবে আগামী ১৮ অক্টোবর, শনিবার। কার্তিক মাসের কৃষ্ণ পক্ষের ত্রয়োদশী তিথিতে পালিত হয়। এই দিনটি মূলত ধনদেবতা কুবের এবং সম্পদের দেবী লক্ষ্মীর উদ্দেশ্যে নিবেদিত।
প্রথা অনুযায়ী, ধনতেরাসের দিন মানুষ ঘরদোর পরিষ্কার করে, প্রদীপ জ্বালায়, সোনা-রুপো, নতুন পাত্র কিংবা গৃহস্থালির নতুন জিনিস কেনে, যা শুভ বলে মনে করা হয়। তবে প্রাচীন বিশ্বাস অনুযায়ী, ধনতেরাসের রাতে কিছু জিনিস অন্যকে ধার দেওয়া একেবারেই অশুভ বলে ধরা হয়। কারণ এতে না কি ঘরের সমৃদ্ধি আর ইতিবাচক শক্তি হারিয়ে যায়।
দেখে নিন, ধনতেরাসের রাতে কোন কোন জিনিস ধার দেওয়া একেবারেই ঠিক নয়
১. টাকা-পয়সা বা মূল্যবান জিনিস
ধনতেরাসে কারও হাতে টাকা বা দামী জিনিস তুলে দেওয়া নিষেধ। বিশেষত সন্ধেয় লক্ষ্মীপুজো করার পর কারও কাছে টাকা ধার দিলে মনে করা হয় ঘরের সম্পদশক্তি বাইরে চলে যায়। এতে অর্থপ্রবাহ থেমে যেতে পারে বলেও বিশ্বাস রয়েছে।
২. চিনি
লক্ষ্মীপুজোয় চিনির বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। চিনি বা মিষ্টি ধন-সম্পদ আর মাধুর্যের প্রতীক। শাস্ত্র মতে, মা লক্ষ্মী নাকি আখ ভালবাসেন, তাই ধনতেরাসের রাতে কারও হাতে চিনি দেওয়া মানে প্রতীকীভাবে ঘরের সমৃদ্ধি বাইরে পাঠানো। সূর্যাস্তের পর রান্নাঘরে চিনি রেখে দেওয়া শুভ বলে মনে করা হয়।
৩. নুন
নুন সাধারণ জিনিস মনে হলেও, ধর্মীয় বিশ্বাসে এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে আর্থিক স্থিতি ও আশীর্বাদের সম্পর্ক। যেহেতু লবণ সমুদ্র থেকে আসে আর সমুদ্র দেবী লক্ষ্মীর আশ্রয়স্থল বলে ধরা হয়, ধনতেরাসের রাতে তাই কারও হাতে নুন দেওয়া অশুভ বলে মনে করা হয়। এতে না কি ঘরের সৌভাগ্যের প্রবাহে ব্যাঘাত ঘটে।
৪. দুধ, দই, তেল বা সুঁইয়ের মতো প্রয়োজনীয় জিনিস
জ্যোতিষশাস্ত্র বলছে, ধনতেরাসের রাতে দুধ, দই, তেল বা এমনকি সুঁই-সুতোর মতো জিনিস ধার দেওয়া বা নেওয়া দুই-ই অমঙ্গলসূচক। এসব জিনিস জীবনীশক্তি ও গৃহস্থের ভারসাম্যের প্রতীক, যা বাইরে গেলে গৃহে অস্থিরতা আসতে পারে।
এই সব রীতি ও বিশ্বাস হয়তো ধর্মীয় ঐতিহ্যের সঙ্গে যুক্ত, কিন্তু এর মধ্যে একটা গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা লুকিয়ে আছে, ধনতেরাস মানে আকর্ষণ, বিসর্জন নয় অর্থাৎ এই দিনে ঘর ভরানোর দিন, খালি করার নয়। তাই এই দিনে ইতিবাচকতা, কৃতজ্ঞতা আর সমৃদ্ধি নিজের ঘরেই রাখুন, তবেই উৎসবের মঙ্গল হবে।