বছরের পর বছর প্রশ্ন উঠেছে – কেন শুধু গান্ধীর ছবিই থাকবে নোটে?

ভারতের সব নোটে রয়েছে মোহনদাস করমচাঁদ গান্ধীর ছবি
শেষ আপডেট: 15 August 2025 14:39
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভারতের প্রতিটি নোটে মহাত্মা মোহনদাস করমচাঁদ গান্ধীর মুখ – আজকের দিনে যা দেশের মুদ্রার পরিচিত প্রতীক। কিন্তু স্বাধীনতার শুরুর বছরগুলোতে নোটে গান্ধীর ছবি ছিল না, বরং ছিল স্থাপত্য, শিল্প, বিজ্ঞান-প্রযুক্তি ও প্রকৃতির নানা চিত্র।
আসলে স্বাধীনতার পর নোটে ‘বাপু’র ছবি দেওয়ার প্রস্তাব একবার উঠলেও, প্রথমেই কিন্তু তা বাতিল হয়ে গিয়েছিল। তাহলে কীভাবে গান্ধীজির ছবি নোটে এল? রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়ার ইতিহাস ঘেঁটে জানা যায় পুরো কাহিনি।
স্বাধীনতার পর মুদ্রা বিনিময়ের প্রথম চ্যালেঞ্জ
১৯৪৭ সালের ১৪ অগস্ট মধ্যরাতে ভারত স্বাধীনতা পেলেও ১৯৫০ সালের ২৬ জানুয়ারি দেশ প্রজাতন্ত্র হল। এই সময় আরবিআই এবং ভারত সরকারকে নতুন মুদ্রা বিনিময়ের নীতি ঠিক করতে হয়েছিল – কত টাকার নোট ছাপা হবে, কী নকশা থাকবে, কী প্রতীক ব্যবহার হবে।
প্রথমে প্রস্তাব এসেছিল ব্রিটেনের রাজার জায়গায় গান্ধীর মুখ ছাপা হবে। কিন্তু চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে ১৯৪৯ সালের ১ টাকার নোটে সারনাথের সিংহ প্রতীক রাখা হয়। এরপর দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে নোটের নকশায় ফুটে উঠেছিল ভারতের ঐতিহ্য ও উন্নয়ন – বাঘ, হরিণ, হিরাকুদ বাঁধ, আর্যভট্ট উপগ্রহ, বৃহদেশ্বর মন্দির প্রভৃতি।
নোটে প্রথম গান্ধীজির আগমন
১৯৬৯ সালে গান্ধীর জন্মশতবর্ষে প্রথমবার নোটে তাঁর ছবি ছাপা হয়। বাপুর বসে থাকা সেই বিখ্যাত ভঙ্গির ছবি, যার পেছনে ছিল সেবাগ্রাম আশ্রমের দৃশ্য।
পরে ১৯৮৭ সালে রাজীব গান্ধীর সরকার নতুন ৫০০ টাকার নোট চালু করলে তাতেও গান্ধীর মুখ স্থান পায়। আসলে এর আগে জনতা পার্টির সরকার উচ্চমূল্যের নোট বাতিল করেছিল, যা রাজীব গান্ধী ফের চালু করেন।
‘মহাত্মা গান্ধী সিরিজ’-এর সূচনা
১৯৯৬ সালে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক “মহাত্মা গান্ধী সিরিজ” চালু করে, যেখানে জাল নোট রোধে জলছবি ও অতিরিক্ত নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্য যোগ করা হয়। সেই থেকেই গান্ধীজির মুখাবয়ব স্থায়ীভাবে ভারতীয় মুদ্রায় জায়গা করে নেয়।
বিতর্ক ও বিকল্প প্রস্তাব
বছরের পর বছর প্রশ্ন উঠেছে – কেন শুধু গান্ধীর ছবিই থাকবে নোটে? অনেকেই প্রস্তাব দিয়েছেন জওহরলাল নেহরু, সুভাষচন্দ্র বসু, সর্দার প্যাটেল, এমনকী লক্ষ্মী-গণেশের ছবি ব্যবহার করার জন্য। কিন্তু দীর্ঘ আলোচনার পরও বাপুর স্থান কেউ কেড়ে নিতে পারেননি।
আজও ভারতের প্রতিটি নোটে মহাত্মা গান্ধীর সেই পরিচিত হাসিমাখা মুখ বিশ্বকে জানিয়ে দেয় – এটাই ভারতের টাকা।