ডেমোক্র্যাটিক সোশ্যালিস্টস অফ আমেরিকার সদস্য মামদানি মার্কসবাদী কমিউনিস্ট ভাবধারায় বিশ্বাসী।
.jpeg.webp)
দফায় দফায় বিয়ের মোচ্ছব নিয়ে বিতর্কে জড়িয়েছিলেন শহরের সর্বকালের সর্বকনিষ্ঠ মেয়র।
শেষ আপডেট: 5 November 2025 18:00
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মাত্র ৩৪ বছর বয়সে জোহরান মামদানি আমেরিকার নিউইয়র্কের মেয়র পদে নির্বাচিত হয়েছেন। ডেমোক্র্যাটিক সোশ্যালিস্টস অফ আমেরিকার সদস্য মামদানি মার্কসবাদী কমিউনিস্ট ভাবধারায় বিশ্বাসী। কিন্তু, প্রেমিকাকে বিয়ে করার বিপুল খরচখরচা নিয়ে এর আগেই নিন্দুকদের ফুটন্ত কড়াইতে পড়তে হয়েছিল তাঁকে। মেয়র নির্বাচনের পরেও স্বাভাবিকভাবেই ফের একবার সেই বিতর্ক সামনে এসে পড়েছে। ২৮ বছরের সিরীয় তন্বী রামা দুওয়াজির সঙ্গে প্রেমপর্ব এবং তারপর দফায় দফায় বিয়ের মোচ্ছব সবকিছু নিয়েই বিতর্কে জড়িয়েছিলেন শহরের সর্বকালের সর্বকনিষ্ঠ মেয়র।
জোহরান মামদানির স্ত্রী রামা দুওয়াজি
রামা দুওয়াজি হলেন সিরীয়-মার্কিন শিল্পী। জোহরান মামদানির রাজনৈতিক প্রচারের সময় থেকে প্রচারের আলোয় আসেন তিনি। লোকে এখন বলছে, স্বামীর জয়ের মূল চাবিকাঠিটি হলেন তিনিই। প্রাক্তন ব়্যাপার থেকে রাজনীতিক হওয়া মামদানির স্ত্রী রামারও নিজস্ব পরিচয় ও ব্যক্তিত্ব রয়েছে। বর্তমানে ২৮ বছরের সিরীয় সুন্দরী দুওয়াজির জন্ম টেক্সাসের হাউস্টনে। তাঁর বয়স যখন ৯ বছর, তখন তাঁর পরিবার দুবাইতে চলে যায়। শুরুতে ইলাস্ট্রেটর ও অ্যানিমেটর হিসেবে নিউইয়র্কে কাজ শুরু করেন। বহু নামী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আর্টের কাজ করেছেন রামা।

দুজনের পরিচয় হয় একটি ডেটিং অ্যাপের মাধ্যমে। ২০২১ সালে ডেটিং অ্যাপ হিঞ্জ-এর মাধ্যমে পরিচয় হয় জোহরান ও রামার। বুলওয়ার্ক পডকাস্টে একথা স্বীকার করেন জোহরান নিজেই। প্রথমে মেসেজ চালাচালি, তারপর দেখা করার মতো সাধারণ কিছু ঘটনার মধ্য দিয়ে দিন এগোতে থাকে। জোহরান বলেছিলেন, এ ধরনের ডেটিং অ্যাপেরও ভবিষ্যৎ আছে। অনেকেরই আশা পূরণ হয়।
প্রথম কয়েক মাস নিজেদের জনসমক্ষ থেকে আড়ালে রেখেছিলেন দুজনেই। দিনেদিনে জোহরান মামদানির রাজনীতিতে বিখ্যাত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তাঁরা প্রকাশ্যে ছবি পোস্ট করতে থাকেন, রাস্তাঘাটেও ঘোরাঘুরি করতে দেখা যায়। ২০২৪ সালের অক্টোবরে দুজনে আংটি বদল করেন। দুমাস পর দুবাইয়ে শ্বশুরবাড়ির দেশে নিকাহ হয় জোহরানের। রামার বাবা-মা আদতে সিরীয় হলেও আমেরিকায় আসার পর দুবাইতে চলে যান। রামার জন্ম আমেরিকায় হলেও তিনিও ৯ বছর বয়সে দুবাই চলে গিয়েছিলেন। পরে আমেরিকায় ফিরে আসেন।

দুবাইতে মার্কসবাদী কমিউনিস্ট নেতার নিকাহর আড়ম্বর নিয়ে প্রবল নিন্দার মুখে পড়তে হয় মামদানিকে। বুর্জ খলিফার পাশে ভিডা ক্রিক হারবার নামে একটি বাড়ির ছাদে নিকাহর অনুষ্ঠান হয়েছিল। যেখান থেকে সন্ধ্যার পড়ন্ত সূর্যের অস্তরাগ চালচিত্র হয়েছিল মিঞা-বিবির কবুল-দরবারের।
এলএমএফ ফ্লাওয়ারিস্ট নামে একটি কোম্পানি, যারা ওই নিকাহর ফুলের সাজ দিয়েছিল, তাদের ইনস্টাগ্রামেই এই ছবি পোস্ট করা হয়েছিল। নিকাহর অনুষ্ঠানস্থল সাজানো হয়েছিল সাদা গোলাপ, প্রেমের প্রতীক লিসিয়ানথাস ফুল এবং ফার্ন জাতীয় গুল্মপাতা দিয়ে। গোটা মণ্ডপটি ছিল শ্বেতশুভ্র। এক শান্ত সমাহিত আনন্দ-সৌন্দর্যের প্রতীক হিসেবে। নিকাহ-য় রামা পরেছিলেন হাতির দাঁতের মতো শুভ্র একটি গাউন এবং জোহরানের পরনে ছিল নেভি ব্লু রঙের গলাবন্ধ কুর্তা। গলায় রেশমি কাপড়।

এরপর হয় নিউইয়র্কে রেজিস্ট্রি বিয়ে। এবং উগান্ডায় পৈতৃক খামারবাড়িতে তিনদিনের জাঁকজমকপূর্ণ বিয়ের উৎসব। একটি সাক্ষাৎকারে জোহরান পরে বলেন, সবকিছুই ঠিকঠাকমতো হয়েছে। এ বছরের জুলাই মাসে উগান্ডার কাম্পালার শহরতলি বুজিগা হিল এলাকায় তাঁদের খামারবাড়ি রয়েছে। সেখানে তিনদিন ধরে সেনাবাহিনীর মতো মুখোশধারী রক্ষী ঘেরা, ফোন জ্যামার বসানো এবং অসংখ্য নিরাপত্তারক্ষীর ঘেরাটোপে রিসেপশন অনুষ্ঠান হয়। তাঁর ওই অনুষ্ঠানে ছিল বিলাসবহুল বাস, মার্সিডিজ ও রেঞ্জ রোভারের মতো গাড়ি। সেখানে ছিল নাচগানের আসর, লোকাল ডিজে এবং অতি অবশ্যই ভারতীয় ঘরানার খানাপিনা।

এই বছরেরই গোড়ার দিকেই তাঁদের বিয়ে হয়। নির্বাচনের দিন বিখ্যাত শাশুড়ি মীরা নায়ার পুত্রবধূর উদ্দেশে লিখেছিলেন, ডার্লিং ডটার ইন ল- নতুন দিনে আমাদের শহরেও শিল্প ফুটে উঠবে। সঙ্গে ছিল হার্টের একটি ইমোজি। দুওয়াজি নিউইয়র্ক শহরের প্রথম জেন-জি ফার্স্ট লেডি হতে চলেছেন। যদিও তিনি এখনও জানাননি, এ ধরনের সরকারি পদ আদৌ গ্রহণ করবেন কিনা।