জাতীয় পরিবেশ মানকের মাপকাঠি অনুযায়ী দিল্লির বাতাসে ভাসমান শরীরের পক্ষে ক্ষতিকর ধূলিকণার পরিমাণে যে গড় বৃদ্ধির হার, তা ঠেকাতে ২০৪০ সালের মধ্যে কোভিডের মতো লকডাউনের মতো অবস্থা জারি করতে হবে।
_0.jpeg.webp)
সমীক্ষায় বলা হয়েছে, পরিবেশ দূষণের মূল উৎস মানুষ।
শেষ আপডেট: 1 December 2025 11:16
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কোভিড ১৯-এর সময়ের মতো লকডাউনের পরিস্থিতি সৃষ্টি না করতে পারলে দিল্লির বায়ুদূষণ ঠেকানো অসম্ভব। জাতীয় পরিবেশ মানকের মাপকাঠি অনুযায়ী দিল্লির বাতাসে ভাসমান শরীরের পক্ষে ক্ষতিকর ধূলিকণার পরিমাণে যে গড় বৃদ্ধির হার, তা ঠেকাতে ২০৪০ সালের মধ্যে কোভিডের মতো লকডাউনের মতো অবস্থা জারি করতে হবে। সাম্প্রতিক একটি গবেষণায় এই তথ্য প্রকাশ হয়েছে।
‘40 by 2040: Cost of inaction and delays in reaching Delhi’s air quality target’, শীর্ষক ওই গবেষণাপত্রে গত ৩৬ বছর (১৯৮৯-২০২৫) ধরে দিল্লির বাতাসের পিএম২.৫ (PM2.5)-এর বাড়বৃদ্ধি নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। পরিবেশ নিয়ে কাজ করা সংস্থা আরবান এমিশনসের দুই গবেষক শরৎ গুট্টিকুন্ডা ও সাইকৃষ্ণ দাম্মালাপতি বাতাসের মান নিয়ে সমীক্ষাকাজটি চালিয়েছেন। তাঁদের বক্তব্য, দিল্লিতে ৫৫ শতাংশ মানুষের সৃষ্ট দূষণ, ৭৫ শতাংশ শীতকালীন উত্তাপ (অর্থাৎ আগুন জ্বালিয়ে শরীর গরম রাখা ধরনের দূষণ) এবং ফসলের গোড়া পোড়ানো ১০০ শতাংশ বন্ধ করতে পারলেই তবে তা সম্ভব।
সমীক্ষায় বলা হয়েছে, পরিবেশ দূষণের মূল উৎস মানুষ। একমাত্র তাকে ঠেকাতে পারলেই দিল্লি কেন্দ্রীয় দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্যদের (CPCB) সুস্থ বায়ুমণ্ডল সম্পর্কিত মাপকাঠি 40 µg/m³-তে পৌঁছতে পারবে। গবেষণাপত্রে বলা হয়েছে, ২০১৯-২০২৫ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন নীতি ঘোষণা সত্ত্বেও শহরের বার্ষিক গড় দূষণ মাত্রা বেড়ে হয়েছে 100 µg/m³। যা জাতীয় মাপকাঠির আড়াই গুণ এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) নির্দেশিকা ২০ গুণ। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সর্বোচ্চ মাপকাঠি হল 5 µg/m³।
গবেষণায় এর জন্য বিধি প্রয়োগে বিলম্ব এবং বৈজ্ঞানিক অথবা নীতিগ্রহণের অজ্ঞতাকে দোষী ঠাউরেছে। গবেষকরা বলেছেন, আর্থিক ও স্বাস্থ্য ঝুঁকির বিপদ রয়েছে। নিষ্ক্রিয়তার মূল্য চোকাতে হবে এবং বিধি প্রয়োগের মূল্য দিতে হবে। দিল্লি যদি ২০৪০ সালের মধ্যে 40 µg/m³ এর জায়গায় মাত্র 60 µg/m³-তে পৌঁছয় তাহলে রাজধানীর ১১.৬ শতাংশ বিপদ বাড়বে। যদি বাতাসের বিষ 100 µg/m³-তেই থেকে যায়, তাহলে এই বাতাসের স্তরে প্রতি ১০০ জন অসুস্থের মধ্যে মৃত্যুহার বাড়বে ৩৫.৩ শতাংশে।
গবেষকরা এই প্রসঙ্গেই কোভিড-১৯ এর মতো লকডাউন নির্দেশিকা জারির পক্ষে মত দিয়েছেন। তাঁদের যুক্তি লকডাউনে দুটি ক্ষেত্রে কার্যকারিতার দিক থেকে কোনও প্রভাব পড়েনি। একটি শীতের কম সময় অবস্থান, কারণ আগুনে গা সেঁকার কোনও প্রয়োজন পড়ে না গ্রীষ্ম এবং বর্ষাকালে। তেমনই ফসলের গোড়া পোড়ানো বছরের দীর্ঘ সময় জুড়ে হয় না।