বাংলাদেশের বহু চর্চিত বিডিআর হত্যাকাণ্ড নিয়ে নতুন রিপোর্টে উঠে এসেছে শেখ হাসিনা ও ভারতের যোগের ইঙ্গিত। ঠিক কী ঘটেছিল সেই ঘটনায়?

বিডিআর হত্যাকাণ্ড
শেষ আপডেট: 1 December 2025 08:16
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাংলাদেশ আলোচিত বিডিআর হত্যাকাণ্ডের দায়ও চাপানোর হল শেখ হাসিনা এবং আওয়ামী লিগের উপর। ১৬ বছর আগের ওই হত্যাকাণ্ডের মূল সমন্বয়কারী ছিলেন আওয়ামী লিগের তৎকালীন সংসদ সদস্য শেখ ফজলে নূর তাপস।
বিডিআর হত্যাকাণ্ডের তদন্তে গঠিত কমিশন তাদের রিপোর্টে ওই হত্যাকাণ্ডের দায় চাপিয়েছে দল হিসাবে আওয়ামী লিগ এবং ব্যক্তি হাসিনা ও ফজলে নুর তাপসকে। তাপস বাংলাদেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবুর রহমানের নাতি এবং শেখ হাসিনার খুড়তুতো ভাই। গত মাসে মানবতা বিরোধী অপরাধে যুক্ত থাকার অভিযোগে শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ড দিতে গিয়ে ঢাকার আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত হাসিনার এই নিকট আত্মীয়ের কথা বারে বারে উল্লেখ করে। বলা হয় গণঅভ্যুত্থানের সময় ফজলে নূর তাপসকে টেলিফোনে প্রধানমন্ত্রী হাসিনা বলেছিলেন আন্দোলন দমনে তিনি মারণাস্ত্র ব্যবহারের নির্দেশ দিয়েছেন।
বাংলাদেশের সীমান্ত প্রহরী বিডিআর বা বাংলাদেশ রাইফেলস এখন বিজিবি বা বর্ডার গার্ডস বাংলাদেশ নামে পরিচিত। ২০০৯ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে ঢাকার পিলখানায় তৎকালীন বিডিআর এর সদর দপ্তরে এক বিদ্রোহে নিহত হয়েছিলেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর বহু সদস্য। ঘটনার একমাস আগে ক্ষমতায় ফেরে শেখ হাসিনা সরকার। তখন থেকেই আলোচনা ছিল সেনাবাহিনীকে শিক্ষা দিতে বিডিআর'কে ব্যবহার করেছে আওয়ামী লিগ। আরও প্রচার ছিল, ওই হত্যাকাণ্ডে গোপনে অংশ নিয়েছিল ভারতীয় কমান্ডো বাহিনী। হাসিনা সরকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে সেনাবাহিনী বারে বারে পাল্টা অভিযানে যাওয়ার অনুমতি চাইলেও প্রধানমন্ত্রী তা দেননি।
রবিবার রাতে প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনুসের হাতে তুলে দেন কমিশনের চেয়ারম্যান অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল আ ল ম ফজলুর রহমান। কমিশন বলেছে ওই ঘটনায় তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গ্রিন সিগন্যাল ছিল। এছাড়া ভারতের সম্পৃক্ততা পেয়েছে কমিশন।
বিডিআর হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছিল ২০০৯ এর ২৫-২৬ ফেব্রুয়ারি। পিলখানায় বিডিআরের সদর দপ্তরে ২৫ তারিখ বাৎসরিক অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী হাসিনা। পরদিন সকালে ছিল দরবার অনুষ্ঠান। ওই অনুষ্ঠানে বাহিনীর অধস্তনও কর্মী অফিসারদের বক্তব্য শোনার কথা পদস্থদের। সেই অনুষ্ঠানের শুরুতে বিডিআরের বেশ কয়েকজন জওয়ান বিদ্রোহ ঘোষণা করেন। শুরু হয় গোলাগুলি তাতে প্রায় ৫৭ জনের মতন সামরিক অফিসার নিহত হন।
বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর পদস্থ অফিসারেরাই বিডিআরের গুরুত্বপূর্ণ পদে আসীন ছিলেন। তাঁদের বিরুদ্ধে বিডিআর এর অভ্যন্তরে দীর্ঘদিন ধরে খুব জমা হচ্ছিল। তার জেরেই এক পর্যায়ে বিদ্রোহ ঘোষণা করে বিডিআরের জওয়ানেরা। বলা হয় ওই ঘটনায়, ভারত এক ঢিলে দুই পাখি মারার চেষ্টা করেছে। প্রথমে তারা বিডিআরকে দিয়ে সেনাকে হত্যা করিয়েছে। এরপর কয়েকশো বিডিআর জওয়ানকে জেলের আটকে রেখে কঠোর সাজার ব্যবস্থা করা হয়। সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফকে হত্যার একটি ঘটনার বদলা নিতে ভারত গোপনে বিডিআর হত্যাকাণ্ডে ষড়যন্ত্র করেছিল বলে, বাংলাদেশে প্রচার আছে। কমিশন কার্যত সেই প্রচার কি মান্যতা দিয়েছে।
আওয়ামী লিগ এবং হাসিনার বিডিআর হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কারণ হিসেবে বলা হয়, সেনাবাহিনীকে শায়েস্তা করতেই ওই ঘটনায় ইন্ধন ছিল সাবেক শাসক দলের। ২০০৯ এ আওয়ামী লীগ দ্বিতীয় পর্যায়ে ক্ষমতা আসার আগে বাংলাদেশে দু'বছর ক্ষমতাসীন ছিল সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার। ওই সময় সেনাবাহিনীর রাজনৈতিক দলের ওপর দমন পীড়ন, হাসিনা ও খালেদাকে জেলে আটকে রাখা সহ একাধিক ঘটনায় বাহিনীর বিরুদ্ধে তীব্র অসন্তোষ ছিল। তাই সেনাবাহিনীকে শায়েস্তা করতে বিডিআরকে কাজে লাগানো হয়ে বলে নানা মহলের বক্তব্য। এখন ইউনুস সরকার গঠিত কমিশন সেই ধারণাতেই সিলমোহর দিল।