Date : 14th Apr, 2026 | Call 1800 452 567 | info@thewall.in
ভোটের ডিউটিতে কড়া নিয়ম! প্রিসাইডিং ও সেক্টর অফিসারদের জন্য একগুচ্ছ নির্দেশিকা কমিশনের'বন্ধু' মোদীকে ফোন ট্রাম্পের! ৪০ মিনিট ধরে হরমুজ প্রণালী নিয়ে কী আলোচনা হল?লোকাল ট্রেনের টিকিটে বিরাট ছাড়! ৫ টাকার টিকিট এখন কত পড়বে? জেনে নিন বিস্তারিতTB Vaccine: যক্ষ্মা প্রতিরোধে কতটা সফল নতুন টিকা? ট্রায়ালের রিপোর্টে আশার আলোর পাশাপাশি উদ্বেগের সুর বিজ্ঞানীদের'বাঙালি ব্রিটিশদের সামনে মাথা নত করেনি, আর এই বহিরাগতরা আমাদের কী করবে?' বিজেপিকে তোপ অভিষেকেরসাইলেন্ট লাং ডিজিজ: কাশি মানেই কি ক্যানসার? দূষণে ফুঁসছে ফুসফুস, কখন দরকার ট্রান্সপ্লান্ট?'ইগো সরিয়ে রাখুন', নিজেদের মধ্যে মতভেদ সরিয়ে এক হয়ে লড়ার নির্দেশ অভিষেকেরভাইরাল ভিডিও হাতিয়ার করে শাহের তোপ! হুমায়ুনকে ‘দিদির এজেন্ট’ বলে কটাক্ষ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীরগরমে মেজাজ হারালেন কর্মীরা! চুঁচুড়ায় নিজের দলের লোকেদেরই বিক্ষোভের মুখে দেবাংশুবার্নল-বোরোলিন বিতর্ক, ‘লুম্পেনদের’ হুঁশিয়ারি দিয়ে বিপাকে ডিইও, কমিশনকে কড়া চিঠি ডেরেক ও’ব্রায়েনের

দেশে ফেরা নিয়ে তারেকের মন্তব্যে তোলপাড় বাংলাদেশে, অন্তর্বর্তী সরকার জানাল তাদের আপত্তি নেই

মায়ের সংকটজনক শারীরিক অবস্থার মাঝেই দেশে ফেরা নিয়ে তারেক জিয়ার মন্তব্যে তোলপাড় বাংলাদেশে।

দেশে ফেরা নিয়ে তারেকের মন্তব্যে তোলপাড় বাংলাদেশে, অন্তর্বর্তী সরকার জানাল তাদের আপত্তি নেই

গ্রাফিক্স: দ্য ওয়াল

অন্বেষা বিশ্বাস

শেষ আপডেট: 29 November 2025 19:34

দ্য ওয়াল ব্যুরো: খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি হচ্ছে। ‌ শনিবার সকালে ভাবনা চিন্তা করা হয়েছিল উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে ফের লন্ডনে নিয়ে যাওয়া হবে।‌ কিন্তু চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, এখন সাবেক প্রধানমন্ত্রীর শারীরিক অবস্থার যে পরিমাণ অবনতি হয়েছে তাতে বিদেশে নিয়ে যাওয়ার মতো পরিস্থিতি নেই।

এদিকে, এমন সংকটজনক পরিস্থিতিতেও মায়ের পাশে থাকতে না পারায় খালেদা পুত্র তথা বিএনপি'র কার্যনির্বাহী চেয়ারম্যান তারেক জিয়ার ফেসবুক পোস্ট ঘিরে বাংলাদেশের তোলপাড় শুরু হয়েছে। শনিবার সকালে ফেসবুকে তারেক জিয়া জানান তাঁর দেশে ফেরার বিষয়টি শুধুমাত্র নিজের ওপর নির্ভর করছে না। তিনি কাদের অনুমতির অপেক্ষা করছেন বা তাদের আপত্তিতে তিনি দেশে ফিরতে পারছেন না এই বিষয়টি তারেক পোস্টে স্পষ্ট করেনি। তিনি বলেছেন সেই বিষয়টি স্পর্শকাতর। প্রকাশ্যে আলোচনা করা যাবে না।

বিএনপি নেতার এই পোস্ট ঘিরে সকাল থেকেই বাংলাদেশের রাজনীতিতে জল্পনার জল গড়াতে থাকে।‌ বিএনপি'র অন্দরমহলের খবর, দলের ধারণা মহম্মদ ইউনুসের অন্তর্বর্তী সরকার তারেক জিয়াকে দেশে ফেরার অনুমতি দিচ্ছে না। এই ধারণা জোরদার হতেই একটু আগে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম বিবৃতি দিয়ে জানিয়েছেন তারেক জিয়ার স্বদেশ প্রত্যাবর্তনে অন্তর্বর্তী সরকারের কোন আপত্তি নেই।

ফেসবুক পোস্টে প্রেস সচিব জানিয়েছেন, এ ব্যাপারে সরকারের তরফ থেকে কোন বিধিনিষেধ অথবা কোন ধরনের আপত্তি নেই। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে বেগম খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা নিয়ে প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মহম্মদ ইউনুস ইতিমধ্যে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এবং তাঁর জন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন।‌ প্রসঙ্গত শনিবার অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টামণ্ডলীর বৈঠকেও খালেদা জিয়ার দ্রুত আরোগ্য কামনা করে প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়। সাবেক প্রধানমন্ত্রীর আরোগ্য কামনা করে দেশবাসীকে প্রার্থনা করতে আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মহম্মদ সাহাবুদ্দিনও।

শনিবার সকালে তারেক জিয়া ফেসবুক পোস্টে লিখেন মায়ের পাশে থাকতে তিনি ব্যাকুল।‌ বিএনপি সূত্রে বলা হয়, মক্কা, মদিনা যাওয়ার সিদ্ধান্ত বাতিল করে দ্রুত দেশে ফিরতে চান তারেক জিয়া। সেইমতো ঢাকায় তাঁর বাংলোর নিরাপত্তা এবং অন্যান্য বিষয় ঢেলে সাজা হচ্ছে বলেও জানায় দল। ‌ 
কিন্তু শনিবার সকালে সম্পূর্ণ ভিন্ন কথা শুনিয়েছেন তারেক জিয়া। বিএনপি'র কার্যনির্বাহী চেয়ারম্যান লন্ডন প্রবাসী তারেক শনিবার সকালে ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন দেশে ফেরাটা তাঁর একার সিদ্ধান্তের উপর নির্ভর করছে না।

বিএনপি সেকেন্ড ইন কমান্ড‌ তথা খালেদা পুত্র তারেকের এই ফেসবুক পোস্ট ঘিরে তুমুল জল্পনা শুরু চলছে বাংলাদেশের রাজনীতিতে। পোস্টে তিনি স্পষ্ট করেননি তাঁর দেশে ফেরার জন্য কাদের অনুমতি প্রয়োজন। মহম্মদ ইউনুসের সরকার তাঁর দেশে ফেরা নিয়ে কোন প্রশ্ন তুলেছে কিনা তা নিয়ে যেমন জল্পনা আছে তেমনি কোন কোন মহল মনে করছে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সহ ইউরোপিয় দেশগুলি তারেকের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন নিয়ে এখনই ইতিবাচক সাড়া দিতে নারাজ। যদিও মানবিক বিষয়টি কেউই উড়িয়ে দিচ্ছেন না। কিন্তু তারেকের বিষয়ে অতীতে উত্থাপিত আপত্তি নিয়ে এখনও আন্তর্জাতিক মহল সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করেনি। ‌

চলতি বছরের অক্টোবর পর্যন্ত তারেক জিয়ার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা বিচারাধীন ছিল। ‌এখন সব মামলা থেকেই তিনি নিষ্কৃতি পেয়েছেন।‌ অন্তর্বর্তী সরকারের তরফেও বলা হয়েছিল তারেকের দেশে ফিরতে কোন আইনি বাধা নেই। ‌ সেইমতো তারেক জিয়া নিজেও জানিয়েছিলেন তিনি দ্রুত ফিরতে চান। তারূ দল জানিয়েছিল নভেম্বরেই স্বদেশ প্রত্যাবর্তন হবে তারেক জিয়ার। ‌কিন্তু নভেম্বরে তিনি ফিরছেন না সেটা যেমন স্পষ্ট তেমনি মায়ের শারীরিক অবস্থা যখন সংকটজনক বলে চিকিৎসকরা জানাচ্ছেন তখনও খালেদা জিয়ার পুত্র দেশে ফেরার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত কেন নিতে পারছেন না তা নিয়ে রহস্য তৈরি হয়েছে।

এই ব্যাপারে তাঁর অসহায়তার কথা জানিয়ে ফেসবুক পোস্টে তারেক জিয়া লিখেছেন, 'বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া গুরুতর অসুস্থ ও সংকটাপন্ন অবস্থায় হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যায় রয়েছেন। তাঁর রোগমুক্তির জন্য দলমত–নির্বিশেষে দেশের সকল স্তরের নাগরিক আন্তরিকভাবে দোয়া অব্যাহত রেখেছেন। মাননীয় প্রধান উপদেষ্টা তাঁর রোগমুক্তির জন্য দোয়ার পাশাপাশি চিকিৎসার সর্বতো সহায়তার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছেন।

খালেদা পুত্র আরও লিখেছেন, ‘দেশ–বিদেশের চিকিৎসক দল বরাবরের মতো তাঁদের উচ্চমানের পেশাদারিত্ব ছাড়াও সর্বোচ্চ আন্তরিক সেবা প্রদান অব্যাহত রেখেছেন। বন্ধুপ্রতিম একাধিক রাষ্ট্রের পক্ষ থেকেও উন্নত চিকিৎসাসহ সম্ভাব্য সকল প্রকার সহযোগিতার আকাঙ্ক্ষা ব্যক্ত করা হয়েছে।'

তিনি লিখেছেন, 'সর্বজন শ্রদ্ধেয় বেগম খালেদা জিয়ার প্রতি সকলের আন্তরিক দোয়া ও ভালোবাসা প্রদর্শন করায় জিয়া পরিবারের পক্ষ থেকে সকলের প্রতি আন্তরিক ধন্যবাদ ও গভীর কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি। একই সাথে বেগম খালেদা জিয়ার আশু রোগমুক্তির জন্য সকলের প্রতি দোয়া অব্যাহত রাখার ঐকান্তিক অনুরোধ জানাচ্ছি।

‘এমন সংকটকালে মায়ের স্নেহ–স্পর্শ পাবার তীব্র আকাঙ্ক্ষা যেকোনো সন্তানের মতো আমারও রয়েছে। কিন্তু অন্য আর সকলের মতো এটা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে আমার একক সিদ্ধান্ত গ্রহণের সুযোগ অবারিত ও একক নিয়ন্ত্রণাধীন নয়। স্পর্শকাতর এই বিষয়টি বিস্তারিত বর্ণনার অবকাশও সীমিত। রাজনৈতিক বাস্তবতার এই পরিস্থিতি প্রত্যাশিত পর্যায়ে উপনীত হওয়ামাত্রই স্বদেশ প্রত্যাবর্তনে আমার সুদীর্ঘ উদ্বিগ্ন প্রতীক্ষার অবসান ঘটবে বলেই আমাদের পরিবার আশাবাদী।’


```