মা খালেদা জিয়ার গুরুতর অসুস্থতার সময়ে দেশে ফিরতে চাইছেন তারেক জিয়া। কিন্তু ফেসবুক পোস্টে জানালেন—ফেরাটা তাঁর একার সিদ্ধান্ত নয়। আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া থেকে রাজনৈতিক বাস্তবতা—সব মিলিয়ে তৈরি হয়েছে নতুন জল্পনা।

ফাইল চিত্র
শেষ আপডেট: 29 November 2025 11:11
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মা অসুস্থ খালেদা জিয়ার পাশে থাকতে তিনি ব্যাকুল। মক্কা, মদিনা যাওয়ার সিদ্ধান্ত বাতিল করে দ্রুত দেশে ফিরতে চান তারেক জিয়া, শুক্রবার বেশি রাতে জানিয়েছিল তার দল বিএনপি। সেইমতো ঢাকায় তাঁর বাংলোর নিরাপত্তা এবং অন্যান্য বিষয় ঢেলে সাজা হচ্ছে বলেও জানায় দল। কিন্তু শনিবার সকালে সম্পূর্ণ ভিন্ন কথা শুনিয়েছেন তারেক জিয়া। বিএনপি'র কার্যনির্বাহী চেয়ারম্যান লন্ডন প্রবাসী তারেক শনিবার সকালে ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন দেশে ফেরাটা তাঁর একার সিদ্ধান্তের উপর নির্ভর করছে না।
বিএনপি সেকেন্ড ইন কমান্ড তথা খালেদা পুত্র তারেকের এই ফেসবুক পোস্ট ঘিরে তুমুল জল্পনা শুরু হয়েছে বাংলাদেশের রাজনীতিতে। পোস্টে তিনি স্পষ্ট করেননি তার দেশে ফেরার জন্য তাদের অনুমতি প্রয়োজন। মোহাম্মদ ইউনূসের সরকার তার দেশে ফেরা নিয়ে কোন প্রশ্ন তুলেছে কিনা তা নিয়ে যেমন জল্পনা আছে তেমনি কোন কোন মহল মনে করছে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সহ ইউরোপিয় দেশগুলি তারিখের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন নিয়ে এখনই ইতিবাচক সাড়া দিতে নারাজ। যদিও মানবিক বিষয়টি কেউই উড়িয়ে দিচ্ছেন না। কিন্তু তারেকের বিষয়ে অতীতে উত্থাপিত আপত্তি নিয়ে এখনও আন্তর্জাতিক মহল সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করেনি।
চলতি বছরের অক্টোবর পর্যন্ত তারেক জিয়ার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা বিচারাধীন ছিল। এখন সব মামলা থেকেই তিনি নিষ্কৃতি পেয়েছেন। অন্তর্বর্তী সরকারের তরফেও বলা হয়েছিল তারেকের দেশে ফিরতে কোন আইনি বাধা নেই। সেইমতো তারেক জিয়া নিজেও জানিয়েছিলেন তিনি দ্রুত ফিরতে চান। তার দল জানিয়েছিল নভেম্বরে ই স্বদেশ প্রত্যাবর্তন হবে তারেক জিয়ার। কিন্তু নভেম্বরে তিনি ফিরছেন না সেটা যেমন স্পষ্ট তেমনি মায়ের শারীরিক অবস্থা যখন সংকটজনক বলে চিকিৎসকরা জানাচ্ছেন তখনো খালেদা জিয়ার পুত্র দেশে ফেরার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত কেন নিতে পারছেন না তা নিয়ে রহস্য তৈরি হয়েছে।
এই ব্যাপারে তাঁর অসহায়তার কথা জানিয়ে ফেসবুক পোস্টে তারেক জিয়া লিখেছেন, 'বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া গুরুতর অসুস্থ ও সংকটাপন্ন অবস্থায় হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যায় রয়েছেন। তাঁর রোগমুক্তির জন্য দলমত–নির্বিশেষে দেশের সকল স্তরের নাগরিক আন্তরিকভাবে দোয়া অব্যাহত রেখেছেন। মাননীয় প্রধান উপদেষ্টা তাঁর রোগমুক্তির জন্য দোয়ার পাশাপাশি চিকিৎসার সর্বতো সহায়তার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছেন।
খালেদা পুত্র আরও লিখেছেন,
‘দেশ–বিদেশের চিকিৎসক দল বরাবরের মতো তাঁদের উচ্চমানের পেশাদারিত্ব ছাড়াও সর্বোচ্চ আন্তরিক সেবা প্রদান অব্যাহত রেখেছেন। বন্ধুপ্রতিম একাধিক রাষ্ট্রের পক্ষ থেকেও উন্নত চিকিৎসাসহ সম্ভাব্য সকল প্রকার সহযোগিতার আকাঙ্ক্ষা ব্যক্ত করা হয়েছে।'
তিনি লিখেছেন, 'সর্বজন শ্রদ্ধেয় বেগম খালেদা জিয়ার প্রতি সকলের আন্তরিক দোয়া ও ভালোবাসা প্রদর্শন করায় জিয়া পরিবারের পক্ষ থেকে সকলের প্রতি আন্তরিক ধন্যবাদ ও গভীর কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি। একই সাথে বেগম খালেদা জিয়ার আশু রোগমুক্তির জন্য সকলের প্রতি দোয়া অব্যাহত রাখার ঐকান্তিক অনুরোধ জানাচ্ছি।
‘এমন সংকটকালে মায়ের স্নেহ–স্পর্শ পাবার তীব্র আকাঙ্ক্ষা যেকোনো সন্তানের মতো আমারও রয়েছে। কিন্তু অন্য আর সকলের মতো এটা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে আমার একক সিদ্ধান্ত গ্রহণের সুযোগ অবারিত ও একক নিয়ন্ত্রণাধীন নয়। স্পর্শকাতর এই বিষয়টি বিস্তারিত বর্ণনার অবকাশও সীমিত। রাজনৈতিক বাস্তবতার এই পরিস্থিতি প্রত্যাশিত পর্যায়ে উপনীত হওয়ামাত্রই স্বদেশ প্রত্যাবর্তনে আমার সুদীর্ঘ উদ্বিগ্ন প্রতীক্ষার অবসান ঘটবে বলেই আমাদের পরিবার আশাবাদী।’