পাকিস্তানে ঘাঁটি গেড়ে থাকা জঙ্গি সংগঠন লস্কর-ই-তোইবা এবং জয়েশ-ই-মহম্মদ নতুন করে সংগঠিত হামলা চালাতে এককাট্টা হচ্ছে।

তাঁরা দীর্ঘদিন ধরে দাবি জানিয়ে আসছেন, এই এলাকায় স্থায়ী বাঙ্কার গড়ে দিতে।
শেষ আপডেট: 6 November 2025 11:15
দ্য ওয়াল ব্যুরো: অপারেশন সিঁদুরের পর ৬ মাস কেটে গেল। ইতিমধ্যে নতুন করে পাওয়া গোয়েন্দা তথ্যে জানা যাচ্ছে যে, অপারেশন সিঁদুরে পাকিস্তান ও তার মদতপুষ্ট জঙ্গি সংগঠনগুলির যে ক্ষতি হয়েছে, তার বদলা নেওয়ার ছক কষা চলছে। পাকিস্তানে ঘাঁটি গেড়ে থাকা জঙ্গি সংগঠন লস্কর-ই-তোইবা এবং জয়েশ-ই-মহম্মদ নতুন করে সংগঠিত হামলা চালাতে এককাট্টা হচ্ছে। তারা আবার শান্ত জম্মু-কাশ্মীরকে অশান্ত করা চেষ্টা চালানোর ফন্দি এঁটেছে। কাশ্মীরে বরফ পড়ার সঙ্গে সঙ্গে সীমান্ত পেরিয়ে জঙ্গি ঢোকানোর মতলব এঁটেছে পাকিস্তানি চর সংস্থা আইএসআই।
পহলগামে জঙ্গি হামলার পরে ভারতের প্রত্যাঘাত যে অপারেশন সিঁদুরে হয়েছিল, তারপর মধ্যবর্তী ৬ মাসে পাকিস্তান, ভারত ও আমেরিকার মধ্যে নানান চড়ই-উৎরাই কাটলেও সীমান্তবাসী স্থানীয়দের দুর্দশা ও দাবি এখনও মেটেনি। উত্তর কাশ্মীরের বারামুল্লা জেলার উরি এলাকার নিয়ন্ত্রণ রেখা বরাবর বাস করা মানুষের ক্ষোভ তাঁদের জীবনযাত্রায় কোনও পরিবর্তন আসেনি।
তাঁরা দীর্ঘদিন ধরে দাবি জানিয়ে আসছেন, এই এলাকায় স্থায়ী বাঙ্কার গড়ে দিতে। কারণ ঢিল ছোড়া দূরত্বে অবস্থিত পাকিস্তানি ছাউনি থেকে গুলি ছুড়লেও গ্রামে এসে পড়ে। গোলা হলে তো কথাই নেই। প্রায়শই গবাদি পশু, শিশু, মেষপালকদের পাকিস্তানি রেঞ্জারদের গুলিতে প্রাণ হারাতে হয়। এছাড়াও দুদেশের গোলাগুলি বিনিময়ের সময় বাসিন্দাদের গ্রাম ছেড়েই পালাতে হয়ে থাকে। এবং সেই সময় অনেকেরই বাড়িঘর ভেঙে পড়ে পাক গোলা বর্ষণে। বাঙ্কার হলে অন্তত প্রাণ তো বটেই, অত্যাবশ্যকীয় কিছু সামগ্রী অন্তত বাঁচানো যেত বলে তাঁরা হাপিত্যেশ করে বসে আছেন।
অপারেশন সিঁদুরের আগেও গ্রামবাসীরা সরকার ও স্থানীয় প্রশাসনের কাছে বাঙ্কার নির্মাণের দাবি জানিয়েছিলেন। এখন শীত প্রায় দোরগোড়ায় এসে গিয়েছে, অর্ধেক বছর কেটে গেলেও কেউ কথা রাখেনি। একটি বাঙ্কারও তৈরি হয়নি। নিয়ন্ত্রণ রেখার ধারে চারুন্ডা গ্রামের প্রাক্তন মোড়ল লালদীন খাটানা একটি সংবাদমাধ্যমকে বলেন, অপারেশন সিঁদুরের সময় থেকে একটি বাঙ্কারও তৈরি করা হয়নি। তাঁর কথায়, কয়েক মাসের মধ্যে সরকার একটিও বাঙ্কার তৈরি করে দেয়নি। স্থানীয় আরেকজন বলেন, লাল হুসেন কোহলি বলেন, এইসব এলাকা গোলাগুলি বর্ষণের সময় খুবই বিপজ্জনক হয়ে পড়ে। প্রায়শই গ্রামবাসীর প্রাণহানি ঘটে। এই মুহূর্তে এখানে বেশ কয়েকটি বাঙ্কার তৈরি প্রয়োজন। তিনি জানান, এই এলাকায় ৮টি বাঙ্কার আছে। কিন্তু, সেগুলি কবে বানানো হয়েছিল তা কারও মনে নেই। ফলে সেগুলিতে মাথা গোঁজার কোনও অবস্থা নেই।
পাশের গ্রাম গারকোটের বশির আহমেদ ভাট বলেন, অপারেশন সিঁদুরের পর বাঙ্কার তৈরি সরকারি কোনও সদিচ্ছা দেখা যায়নি। যদি আবার ভারত-পাক বাগযুদ্ধ সত্যি গোলাগুলিতে পৌঁছায় আমরা তখন কোথায় যাব, প্রশ্ন করেন তিনি। সরকারি হাত না বাড়ানোয় গ্রামে যাঁদের একটু সামর্থ্য আছে, তাঁরা নিজেদের মতো ব্যক্তিগত বাঙ্কার বানাতে শুরু করেছেন। ভাট বলেন, এমনিতেই আমরা গরিব। তাহলেও জান বাঁচাতে এছাড়া কোনও উপায় নেই। পরিবারকে বাঁচাতে এটাও করতে হচ্ছে।
একই কথা শোনা গেল উরির মোঠাল গ্রামে মনজুর আহমেদ, সিলিকোটের ইরশাদ আহমেদের মুখেও। প্রত্যেকেই জানালেন, প্রতিবার ভারত-পাক সংঘর্ষের সময় তাঁদের প্রাণ আল্লার হাতে থাকে। প্রসঙ্গত, ২০২০ সালে সরকার বলেছিল, সীমান্তবর্তী গ্রামগুলিতে অনেক কমিউনিটি বাঙ্কার তৈরি করে দেওয়া হবে। কিন্তু, তারমধ্যে দু-একটি হলেও বাকি কিছুই হয়নি। যেগুলি হয়েছে, সেগুলিও থাকার উপযুক্ত নেই।
গত মাসে জম্মু-কাশ্মীর সরকার বিধানসভায় জানায়, উরিতে অনুমোদিত ২০২টি ব্যক্তিগত বাঙ্কার এবং মাথার উপর সুরক্ষা ছাদযুক্ত খোলামুখ সুড়ঙ্গের মধ্যে ৪০টির কাজ সম্পন্ন হয়েছে। বাকি ১৬২টির কাজ আশা করা যায় একমাসের মধ্যে সম্পন্ন হবে। উল্লেখ্য, বাসিন্দাদের মতে, এই খোলামুখ সুরক্ষা ছাদযুক্ত সুড়ঙ্গগুলি আসলে পয়সার শ্রাদ্ধ। ওরা একটি মাটি খুঁড়ে লম্বা সুড়ঙ্গ খুঁড়ে তার উপর কাঠের তক্তা মাটি মাখিয়ে বসিয়ে চলে যাচ্ছে। গোলা পড়লে যার কিছু অবশিষ্ট থাকবে না। আমরা সত্যিকারে বাঁধানো বাঙ্কার চাই। উরির এসডিএমও জানান, অপারেশন সিঁদুরের পর থেকে নতুন কোনও বাঙ্কার নির্মাণ হয়নি। তবে কয়েকটি সুড়ঙ্গ তৈরি করে দেওয়া হয়েছে।